মা আর একটু মাছ দাওনা! দীনশের দশ বছরের ছেলে তার মা সবিতাকে বলে, সবিতা বলে তোর বাপকে মাছের দোকান খুলে বসেছে যে চাই লেই পাওয়া যাবে? দিনেশ দওয়ায় বসে তামাক ফুঁকছে আর গায়ে একটু বাতাস লাগানোর চেষ্টা করছে। ভাদ্র মাসের তাল পাকা গরমে মন এমনিতেই তিরিক্ষি হয়ে আছে তারউপর বউয়ের এমন কথা শুনে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারেনা দীনেশ। মাগীর ঝি মাগী তোকেনা বলছি ছেলেদের সাথে এমন করবিনা। মাছ দিতে পারলে দিবপ না পারলে দিবি না, ছেলেটা কে তো বুঝায় বলতে পারছিস না দীনেশ জমিদারের রাগটা বউয়ের উপর দিয়ে ঝারে।
জমিদারের সাথে পারোনা পারো খালি আমার লগে, বুঝি আমি সবই বুঝি সাবিতা বলে। বুঝতে যখন পারস তখন এমন করে কথা শুনাস কেন মাগী? আবার ক্ষে করে উঠে দীনেশ। কুত্তার মতো গেঁয়ো গেঁয়ো না করে রুজিরোজগার বাড়াও। তাওতো পারবানা, পারবা শুধু বছর বছর বিয়াইতে, সাবিতাও কড়া ভাষায় কথা শুনিয়ে দে। মাগী কি কইলি বছর বছর বিয়াইলে তো এখন তোর বাচ্চা কাচ্চা এক ডজনের কম হইতোনা।
দীনেশের দুই ছেলে, বড়ো ছেলের বয়স ১৭, পরিবারের অভাবের দরূণ পড়ালেখা তেমন করতে পারেনি। ছোট ছেলের বয়স ১০, ক্লাস ফাইভে পড়ে, পড়ালেখায় বেশ ভালো, রেজাল্টেও ভালো। তাই দীনেশ চায় ছোট ছেলে পড়ালেখা শিখে অনেক বড়ো হোক। তাই সে ছোট ছেলেকে একটু বেশিই আদার যত্ন করা পছন্দ করে। অপরদিকে সাবিতা আায় ছোট ছেলেও বড়ো ছেলের মতো তাদের বাপের সাথে মাঠে কাজ করে একটু বাড়তি আয় রোজগার করুক। বড়ো ছেলে আয়রোজগার করার কারণে সবিতা বড়ো ছেলের প্রতি অনেকটা একচোখা।
দীনেশ আর তার বড়ো ছেলে দুই জনে মিলেই ভালোই আর করে কিন্তু সবিতাকে কিছু বুঝতে দেয়না। মেয়েছেলেকে সব কিছু বলতে নেই ওরা পেটের ভিতর কথা রাখতে পারেনা, এক কথায় ওদের পেটে কথা হজম হয়না।
আয়ের একটা অংশ দীনেশ তার ছেলেদের জন্য সঞ্চয় করে, তার মনে অনেক স্বপ্ন একটা জমির মালিক হওয়া আর ছোট ছেলেকে পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করা।
রাতের খাবার শেষে দীনেশ সবিতাকে বলে শুনো আমাদের ছোট ছেলে পড়ালেখা শিখে একদিন বড়ো হবে তখন তোমার নাম সবাই বলাবলি করবে। ও ছোট মানুষ একটা মাছ চাইছে তুই এই রকম না করলেও পারতি। দেখিসনা জমিদারের ছেলেরা কেমন পড়ালেখা শিখে কেমন আয় রোজগার করছে, আমাগো ছেলেও একদিন আরো বড়ো হবে দীনেশ যোগ করে।
কিছুদিন পর দীনেশ একটা চাষী জমি কিনে ফেলে এই খবর যখন দানীশ সবিতাকে বলে তখন সাবিতার আনন্দ দেখেকে। দীনেশ সবিতাকপ বলে দেখো আজ থেকে আমাদের সুখের দিন শুরু। দীনেশের মন যখন ভালে থাকে তখন দীনেশ সাবিতাকে তুমি করে বলে। আর তুমি শব্দ শুনলে সাবিতা তখন নিজেকে শিক্ষিত মনে করে।
দিন যায় মাস আসে সবিতা আর কোনদিন ছোট ছেলেকে মাছ খাওয়া নিয়ে কথা বলেনি। বেশ কয়েক বছর পর দীনেশের ছোট ছেলে ডাক্তার হয়ে বের হয়। গ্রামে দীনেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়লো, এদিকে জমিদার ও আজকাল দীনেশ কে সম্মান দিয়ে কথা বলে। মনে মনে দীনেশ বলে শালা একদিন আমাকে চাষা বলে কথা শুনাতি আর এখন?
Source Pixabay