হরিজন পল্লীতে বেড়ে উঠা রমা ক্রমেই এলাকার বড় ভাইদের ডান হাত হয়ে উঠে। এলাকায় বড়ো ভাইদের নেক নজর থাকেলো তো কোন কথাই নেই ! রমা কানে নষ্ট এয়ারফোন লাগিয়ে সেকেন্ড হেন্ড আইফোনে ফেইসবুক লগইন করে বন্ধু মজিদ আর হিরোকে মেসেজ দে হ্যাঙ্গআউটে আসতে।
কানে এয়ারফোন লাগিয়ে হাঁটার আলাদা একটা ভাব যন্তসভ্যতার ছেলেরা ভালোয় রপ্ত করছে। রমারা বুঝে গেছে জায়গা বুঝে ভাব নিতে পারলে সব কিছু কাত করে দিতে সময় লাগেনা! রমা মাথা নিচু করে সেকেন্ড হেন্ড আইফোনে নেট ব্রাউজ করতে করতে হ্যাঙ্গআউটের দিকে হাঁটতে থাকে। দূর থেকে কাশেম, হ্যাঙ্গআউটের মালিক রমাকে দেখে মনে মনে চিন্তা করছে আজকের দিনটা মাটি!
কাশেমের দোকান বলতে টিনের চালের মাঝারি সাইজের টঙ দোকান, যেখানে সকাল বেলায় পারাটা, দুপুর আর রাতের বেলায় ভাত পাওয়া যায় সঙ্গে চা আট সিগারেট। কাশেমের দোকানে কোন নাম ছিলোনা, রমারাই তার নাম দিয়েছে হ্যাঙ্গআউট! হ্যাঙ্গআউট নাম দিয়েছে কারণ তারা এলাকার যাবতীয় কর্মকাণ্ড এখান থেকে পরিকল্পনা করে আবার কাজ শেষে এখানে এসে মিলিত হয়। কি চমৎকার যান্ত্রিক চিন্তা ভাবনা!
অবশ্য ওদের দোষ দিয়ে লাভ কী, ওরা জন্মের পর হাতের কাছে সেলফোন পায়, ভাই-বোনের, মা-বাবার আঙুল ধরে হাঁটার পরিবর্তে ওরা হাতে তুলে নে চার-ছয় ইঞ্চির রঙিন পৃথিবী! আবার কিছু আধুনিক বাবা মা সন্তান জন্মের সাথে প্রসব করে একখানা ফেসবুক একাউন্ট! সন্তানদের যুগের সাথে এগিয়ে রাখা বলে কথা!
রমার বাপ মা অনেক কষ্ট করে ওকে পড়ালেখা করালো, পড়ালেখা বলতে টেনেটুনে বিয়ে পাশ! রমার মতো তরুনরা ভাবে এখনকার যুগে বই না পড়েও পাশ দেয়া যায়, শুধু হাতে সেলফোন থাকলেই চলে!
এরা বাপ মাকে তেমন কেয়ার করেনা। শুধু টাকার দরকার হলে তখন একটু কেয়ারের ভাব ধরবে! ওরা জানে ভাবেই সব হয় কাবু!
কাশেম দূর থেকে রমাকে দেখে মনে মনে ভাবে তার আজকের দিনটি মাটি হয়ে যাবে রমাদেট জন্য! আজ এতে সকালে চলে আসলেন যে রমা ভাই? রমা উত্তর দেয় না, কারণ রমারা বুঝে গেছে ফালতু কথার উত্তর দিতে নেই ! এই কুদ্দুস দক্ষিণ দিকের জানালার পাশের টেবিলটা পরিস্কার করে দে। দক্ষিণ দিকের টেবিলে লোক বসা ছিলো তারপরও উঠে তারা রমাদের জন্য খালি করে দে, লোকদেখানো ভয় আর মনে অজস্র ঘৃণা নিয়!
বস, বসেন পরিস্কার করে দিছি কুদ্দুস বলে। বস কী খাবেন? পারাটা - রমা উত্তর দে। কুদ্দুস পারাটা ভাজতে ভাজতে মজিদ আর হিরো এসে হাজির।
ডিম ভাজি, সবজি, ডাল দিয়ে পারাটা খাওয়ার পর রমা কুদ্দুস কে বলে রমিজের দোকান থেকে ছয়টা বেনসন সিগারেট আনতে, যদিও সিগারেট কাশেমের দোকানে ছিলো। যাক বাঁচা গেলো মনে মনে কাশেম নিজেকে সান্ত্বনা দে। অন্তত সিগারেটের টাকাটা তো বাঁচলো!
রমা তার সেকেন্ড হেন্ড আইফোন সামনে এগিয়ে দিয়ে কী যেনো দেখায় মজিদ আর হিরো কে। এরপর ওরা বের হয়ে যায় হ্যাঙ্গআউট থেকে।
কাশেম চিন্তা করে নিশ্চয় কোন অপারেশন আছে তা না হলে এতো তাড়াতাড়ি ওরা এখান থেকে যেতোনা। কাশেম ওদের কাছ থেকে দুই একটা ইংরেজি ও শিখে ফেলছে, দেখে মনে মনে খুব খুশি!
দুই তিন দিন হয়ে গেলো রমাদের কোন দেখা নেই দেখে কাশেম বেজায় খোশমেজাজে আছে, তবে গতকাল দোকানে সবাই বলাবলি করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটা খুন হয়ছে এ কথা শুনার পর কাশেম নিশ্চিত হয়, রমাদের আরো কয়েকদিন দেখা মিলবেনা।
Source Pixabay