বিপদের রাত গভীর হয়, গাড় অন্ধকার লাগে চাঁদনি রাতও। সারা রাত বাসের পাতার মতো কাঁপতে থাকে বজলু, কখন ভোর হবে? কখোন আলোর দেখা পাবে, আলোর শক্তিই আলাদা। দিনের বেলায় বজলুর সে কি দাপট! যে দাপটে এলাকর চোর-মেম্বার এক সাথে মসজিদে নামাজ আদায় করতো! অথচ সে বজলু সামান্য একটা শব্দ শুনে মাঘ মাসের শীতের রাতেও ঠকঠক করে কাঁপছে। কম্বল চাপিয়ে দেয়ার পরও তার শীত করে। বজলুর আর সারা রাত ঘুম আসেনা। মসজিদে ফজরের আজান দেয়ার আগ পর্যন্ত সে জেগে থাকে, ঘুমে তার দুচোখ ঢলে পড়লেও সে চোখের পাতা এক করেনা, যদি সে ঘুমিয়ে পড়ে!
জোহরার ডাকে সকাল সাড়ে আটটায় চৈতন্য ফিরে পায় বজলু। হকচকিয়ে গিয়ে বজলু চোখের পাতা বহু কষ্টে আলাদা করে। চোখ দুটো মরিচের মতো লাল টুকটুকে হয়ে যায়। হাতপা ধুয়ে এসে কয়টা খেয়ে আমাকে উদ্ধার করো জোহরা গলার স্বর তুলে অনেকটা শাসিয়ে যায় বজলুকে। বজলুর আজকাল কর হলো সে জোহরাকে ও ভয় পায়।
বজলু মুখ হাত ধুয়ে নাস্তা সেরে তার সাগরেদ কালুর সাথে দেখা করতে বের হয়। কালু তার খুপরি ঘরে বসে তামাক ফুঁকছে।
কীরে কালু আজকাল তোর কোন খোঁজ খবর পায়না যে? অন্য ওস্তাদ পেয়ে গেছত নাকি? কী যে বলেন মিয়া সাব। আপনেই আমার মা-বাপ আপনে ছাড়া আমার দুকূলে কেউ নাই, তিন পায়ার জল চকিটা বাঁশের খুঁটির সাথে ঠেক দিয়ে বজলুকে বসতে দিতে দিতে একথা বলে কালু।
কালু আজকাল আমি রাতে ঘুমাতে পারিনা, অন্ধকারকে ভয় পায়, এমনকি তোর ভাবীকেও ভয় পাই। কর করবো বুজতেছিনা কালু!
অান্ধাররে সবাই ভয় পায়, কালু তামাকে লম্বা একটা টান দিয়ে উত্তর দে। তা পায়, কিন্তু তোর ভাবীকে ভয় পাইযে! তা নিশ্চয়ই আপনে এমন কোন কাক করছেন তা মনে করে ভাবীকেও ভয় পান। এই হারামি আমি যা করি তা তো তুই জানিছ। তা জানি, ঘাড় নেড়ে শায় দে কালু। তো মিয়া ভাই আমার অজান্তে কিছু করছেন কিনা? হারাম দাদা তোর কল্লা নামাই দিমু। বাইড়া গেছত! কালু ভয় পেয়ে আর কথা বাড়ায় না।
এদিকে বজলুর স্ত্রীর ডেলিভারির ডেট চলে আসে। বজলু মোহা খুশি সে বাপ হবে। জোহরার ডেলিভারি কেস বেশ জটিল হয়ে উঠে। তাট জরুরী অপারেশন করতে হবে, ডাক্তার জানায়।
জোহরাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়, অপারেশন সফল কিন্তু জোহরা কে বাঁচানো গেলেও তার মেয়েকে বাঁচানো গেলোনা। তার মেয়ের মুখ অবিকল তানিয়ার মতো দেখতে, বজলুর মনে গভীর ধাক্কা লাগে।
বজলুর চোখ দুটা গর্ভবতী মেঘেদের মতো হয়ে আছে।যেকোনো সময় নামবে অঝোরে বৃষ্টি, কান্নার, যে কান্না একান্ত তার নিজস্ব!
Source Pixabay
বজলু কালুর কাছে ছুটে যায়। কালু কে সব খুলে বলে। কীভাবে তানিয়া নামে ১৪ বছরের বালিকাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে বজলু।
কালু বজলুর কাঁদে হাত রেখে বলে ভাইজান এক জীবনে অনেক পাপ করছি, চলেন আর নয়। আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়, বৃষ্টি আসবে যেকোন সময়, বজলু, কালু দুজনে একসাথে চেয়ে আছে আকাশের দিকে।