হাত বাড়ালে মৃত্যুকে ছোয়া যায়!পাকস্থলী উগলে মৃত্যুরা বমি হয়ে মেঘেদের মতো মশারি টেনে ঘুমিয়ে পড়ে, যেনো প্রার্থিত উপহার, স্বর্গের বাগানে ফুটে থাকা শ্বেতপদ্মের কোমলতায় একসারি ঘুম সিথান জুড়ে! এমন কাঙ্খিত মৃত্যু তো আর জোহরা বেগমের মতো স্বামী পরিত্যক্তার কল্পনার ও বাহিরে। জোহরা বেগম, একজন অকালে স্বামীহারা , ৪৫ বছরের মোটামুটি স্বচ্ছল মহিলা। স্বচ্ছল এইজন্যই বলা তিনি স্বামীর পেনশন পান। গ্রামের বাড়িতে বড় ছেলের সাথে থাকেন খরচ তেমন একটা নেই বললেই চলে।
ছেলের সাথে থাকেন বলেই যে সব টাকা জমাতে পারেন এমন নয়। বড়ো বউয়ের নজর তার টাকার উপর পড়ছে। ছেলের সাথে কয়েকদিন পর পট ঘ্যানঘ্যান করে।
টাইম লাইনের সবুজ বাতিটার মতো মৃত্যু প্রতিদিনই জানান দিয়ে যায় ইন্টারনেট গতির সাথে পাল্লা দিয়ে। উহান শহর থেকে মৃত্যু ফেরি করে গন্তব্যে পৌঁছায় পুঁজিবাদি ফেরিওয়ালারা। আজকাল জোহরা বেগমের শরীরটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। গত দুই বছর যাবত তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগে ভুগছেন। এরফলে ওনার বয়স দশ পনেরো বেশি মনে হয়।
শীতার্ত মৃত্যুরা মিছিল করে বাড়ি ফিরে গল্প জুড়ে দে ওমে ভরা লেপের গিলাপে, সিগারেটের ঠোঁটে! আদ্র, নরম মৃত্যুকে নাস্তা খেতে দেয়া হয় ফার্মেসি থেকে কেনে আনা মুঠোভরতি ঔষধে, ডাক্তারের সুপ্রাচীন লেখার রেসিপি অনুসারে। জোহরা বেগম আদুরে মৃত্যু চায়, যে মৃত্যুতে কোন কষ্ট নেই। আসলে কী তাই? মৃত্যু মানে যে হাজার কোটি যন্ত্রনা!
একে তো ছেলের সংসারে থাকে, তার উপর গত দু'বছর বিছানায় পড়ে আছে, ছেলের বউকে সাহায্য করবে কী নিজেকে সামলাতে আরেকজন লাগে!
বারান্দায় শুকাতে দেয়া কাপড়ের ব্যাগ বেয়ে টুপটুপ করে ছুয়ে পড়া পানির শব্দ জোহরা বেগমের কানে পৌছায় না হয়তো কিন্তু সে জানে তার জীবন থেকে এই ভাবে জীবনীশক্তি গুলো হারিয়ে যাচ্ছে, অন্য কোথায়, যেখানে আছে সবুজ নিঃশ্বাস!
গত কয়েকদিন জোহরা বেগম তার বড় বোনকে স্বপ্নে দেখে। মৃত মানুষকে স্বপ্নে দেখা ভালো নয়। তার বোন তারচেয়ে সুন্দরী না হলেও বেশ বড়ো ঘরে বিয়ে হয়। স্বামী সন্তান নিয়ে বিদেশ ঘুরতো প্রায় প্রতি বছর।
তার সে বোনটি কর্কট রোগে মারা যায় সিঙ্গাপুরে। কতো ব্যয়বহুল মৃত্যু! জোহরা বেগম ঐ রকম মৃত্যু চাইলেও পাবেন না। কারণ ওনার এতো টাকা নেই। তাই ওনার চাওয়া অতি সাধারণ মৃত্যু, কিন্তু পরিপাটি!
ওনি হাসপাতালের দেয়ালে ঝুলে থাকা মৃত্যু দেখতে চান না। সরকারি হাসপাতালের ফ্লোরে রোগের গন্ধ ওনার ভালো লাগেনা।
শুক্রবার ফজরের আজান দেয়ার পরে বউকে ডাক দিয়ে অযু করে নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে ওনি ছেলের বউকে আবার ডাক দিয়ে বললেন, বউমা তোমাকে অনেক জ্বালিয়েছি, আমাকে মাপ করে দিয়ো, এই নাও আমার চেক বই টিপসই দেয়া আছে।
মা আমি এটা দিয়ে কী করবো? রাখো কাজে লাগবে, জোহরা বেগম বউ এর হাতে চেক বই বলে। বউ আমার শরীরটা ভালো লাগছেনা, এক গ্লাস পানি আনো, সে পানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন জোহরা বেগম।
কোমল, স্নিগ্ধ, গভীর ঘুম!
Source Pixabay