গন জঙ্গল পেরিয়ে তপন পুকুর পাড়ে এসে পৌছাতে পারলেও সাকিব এখনো দুই তিন মিনিটের হাঁটা
দূরত্বের দূরে। কিরে হাঁটতে পারছিস না বলে তাড়া দে তপন। আরে পায়ে ছোট লেগেছে দেখতে পাসনে, সাকিব অভিমান জড়ানো কন্ঠে উত্তর দে।
দেখতে পেলে কী আর বলতাম, অন্ধকারে কী দেখা যায় তপন যুক্তি খন্ডায়। দেখতে পাসনি ঠিক আছে, তাই বলে পেরেকের সাথে লেগে যে আমার পেন্ট ছিঁড়ছে তাতো বুঝতে পারছস, আর আমি তো তোর চেয়েও দ্রুত দৌড়াতে পারি তা নিশ্চয়ই তুই জানিস, এখন যেহেতু দৌড়ে পারছিনা, নিশ্চয় কোন সমস্যা আছে, তাই না, পালটা যুক্তি দেখায় সাকিব।
হইছে এখন আর নিউটনের চতুর্থ সূত্র আবিষ্কার করতে হবেনা তোকে, কড়ই গাছের পাশ দিয়ে পুকুর পাড়ে উঠে আয়। চতুর্থ সূত্রের কথা যেহেতু বলছিস তা নিশ্চয়ই তৃতীয় সূত্রটা ও জানিস? সাকিব রাগত স্বরে বলে। জানবোনা কেন তপন সাকিবকে সুধায়। জানলে হাতটা বাড়া আমি খাড়া জায়গায় উঠতে পারবোনা।
তপন সাকিবকে উপরে তুলে নে। দুজন মিলে হিসাব করতে থাকে কতোটা জিনিস সরাতে পারলো চৌধুরী বাড়ি থেকে। হিসাব করে দেখে অনেক বড় একটা দান মারতে পারছে। যার বাজার মূল্য প্রায় বিশ লাখের মতো হবে, এতে দুজনের চানা বড় হয়ে গেছে।
এবার তাহলে আমাদের একটা হিল্লে হলো কি বলিস তপন? সারাজীবন একেবারে বসে বসে খেতে পারবো? তোর পায়ের যা অবস্থা তুই এমনই বসে বসে খেতে হবে মনে হচ্ছে, তপন উত্তর দে।
এটা ধর, গপন বলে এটা কী? আরে এটা টিটেনাস ইনজেকশন। এক ডোজ দিয়া দিলে মাগার সারাজীবন দৌড়াতে পারুম!
তপন, সাকিব দুজনেই ভালে বন্ধু, পড়ালেখা এসএসসি, থাকে একই এলাকায়। তপন পেশায় নাপিত, আর সাকিব গ্রাম ডাক্তার।
দুজনের যা আয় রোজগার তাতে সংসার চলে না। তাই তারা নিশি পেশা শুরু করে বাড়িতে আয়ের জন্য।
তপন নাপিত হওয়ার ধরুন কার হাতে কেমন ঘড়ি, সোনার চেইন, ইত্যাদি সে ভালোই জানে। আর সাকিব ডাক্তারির সুযোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখার সুযোগ হয় কার বাড়িতে রাতে ছুরি করলে তেমন বাধা আসবেনা, কার বাড়িতে জিনিস পত্র কেমন আছে।
হিসাব পরে কর এখন যে যারযার বাড়ি চল। এতো তাড়া কিসের তপন প্রশ্ন করে সাকিবকে। আরে বলদ কেউ যেন এদিকে আসছে, লাইটের আলো দেখছিস না? আরে ঐদিকে তে কবরস্থান কে আসবে আবার?
ওরা দুজনে দেখতে পায় কবর থেকে কেউ একজন উঠে আসছে।
Source Pixabay