আবার যদি দেখা হয় করোনা কালের পরে তবে বলে দিবো সবুজ গাছপালাকে, এতোদিনের জমানো সব অভিযোগ। অসভ্য সূর্যটার সাথে মেঘের পরকীয়ার কথাও আমি বলে দিবো সবুজ গাছপালাকে।
তোমার অভিমান গুলের কথাও আমি বলে দিবো যেগুলো আসলে তোমার নিজস্ব ছিলোনা কার্বন ডাই-অক্সাইড এর কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলে
আমার কাছে জমা, এই যেনো আলমারিতে তুলে রাখা পুরনো জামা। আমি সবুজ গাছটির কাছে বলে দিবো
যত্নে থাক ভুল ধরার সেই পুরনো অভ্যাস কিংবা
বারান্দা জুড়ে দীর্ঘশ্বাসে বেড়ে উঠা সম্পর্ক গুলোর কথা।
বিশ্বায়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার কথা ও আমি বলে দিবো রমনার শতায়ু গাছদের। পুঁজিবাদ কী করে আমাদের মননকে হলুদ করে দিচ্ছে, কী করে গাছ কেটে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনাচ্ছে আমাদেরকে আমি তারও নালিশ জানাবো কোপেনহেগেনের গাছদের কাছে।
বেহায়ার মতো পথঘাটের দাঁত ক্যালানোর কথা ও আমি বলে দিবো বনলতার কাছে, কী অসভ্যের মতে চোখ টিপে দে রাস্তার ধুলাবালি গুলো পথের ধারে জন্মানো গাছদের। আমি ইভ টিজিংয়ের অপরাধে মামলা ঠুকে দিবো অবাধ্য গাড়িগুলোর মালিকদের নামে যারা নিত্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে পথচারীদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছে।
মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আজকাল অক্সিজেনের মতো কার্বন ডাই-অক্সাইড ও বিকিনি হচ্ছে, আমি যশোর রোডের শতায়ু গাছদের নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে একটা রিট করে দিবো।
জনজীবন স্বাভাবিক হলে মিছিল করবো ক্লোরোফিলের অভাবে হলদে হয়ে যাওয়া পাতাদের সাথে, অথবা দেখতে দাকবো ঝড়েপড়া পাতাদের হাহুতাশ। ঘুঘুর ডাক শুনে আনমনে হয়ে দেখতে থাকবো পানকৌড়ি রোদে মেলা রাখা কুচকুচে কালো পাখা।
একটি উজ্জ্বল চিল যখন হাহাকার ভরা রোদে ভিজে যাবে আমার সবুজ নিঃশ্বাস গুলোর মতো আমি না হয় হারিয়ে যাবো না শুনা গল্পের আসরে। কিংবা প্রাচীন দেয়ালে জমে থাকা সবুজ নিঃশ্বাস গুলোর পক্ষ নিয়ে আমি দারস্থ হবো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে।
বনসাই গুলো যখন আমার বিরুদ্ধে গিয়ে মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিবে আমি নাহয় সবুজ ঘাসদের কথা বলে ওদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিবো। আমার হাটাহাটির দরুন যদি কোন ঘাসের বারেটা বেজে যায় আমি নাহয় ক্ষমা ছেয়ে নেবো। হলদে সন্ধ্যাটা যখন বেগুনি আকাশকে টিপনি কাটবে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে না হয় ভুলে যাবো তোমায় হে সবুজ নিঃশ্বাস!
Source Pixabay