জানালার রেলিং এ বৃষ্টির ফোটা গুলোর অভিমান ভাঙাতে ভাঙাতে কপট রাগ দেখিয়ে নাবিলা বলছে মধ্যবিত্তের ঘরে জন্ম নেওয়াটাই পাপ। এরা শুধু সব কিছু দেখেই যায় না পারে ভোগ করতে না পরে কাউকে কিছু বলতে! পরিবার, সমাজ, কী রাষ্ট্রে সব জায়গায় এরা চরমভাবে ভুগতে থাকে নিদারুন কষ্টে!
চা নিয়ে যা নাবু (বাসায় নাবিলা কে সবাই নাবু ডাকে) মাজেদা বেগম ডাইনিং টেবিল থেকে হাঁক ছেড়ে বলে।
কী রে তোর মন খারাপ কেনো? নাবিলার মা মাজেদা বেগম জিজ্ঞেস করে। মা কিছুই হয়নি, এমনি মাথা ধরেছে, চা খেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
মধ্যবিত্ত মানুষরা এমনই তারা সব মন খারাপ লুকিয়ে রাখতে পারে অতি যত্নে বৃদ্ধ মা তার স্বামীর শেষ সম্ভল আগলে রাখে তেমন করে।
নাবিলা বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, আগামীকাল তার প্রেজেন্টেশন, তাই নিয়ে চিন্তা নাই, তার সকল চিন্তা ঐদিন কী পড়ে সে প্রেজেন্টেশন দিবে! তার বাসার আলমিরাতে তো অন্য বান্ধবীদের মতো শাড়ির স্তুপ নেই যাতে করে প্রতি প্রেজেন্টেশনে নতুন শাড়ি পড়ে যেতে পারে!
সরকারি কর্মচারি বাবার একমাত্র আয়ে চলে তাদের চারজনের সংসার, কয়টাকাই বা মাইনে পায়, তার উপর ঢাকা শহরে বাসা বাড়ায় তো অর্থেকের বিশি টাকা চলে যায়। নাবিলা আর তার ভাই শ্রাবণ কোন রকমে টিউশনি করে চলে বিদায় রক্ষে।
বাসা বাড়ার সাথে, বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসার পানির বিল, তো আছেই একজনের ইনকাম দিয়ে আর কতো চলে, তার উপর পেপার বিল তো আছেই, অনেকমসময় পেপারের জন্য বাড়তি তিনশো টাকা ও বেশি হয়ে যায় ওদের পরিবারের জন্য এর সাথে তো আছে চায়ের জন্য আলাদা খরচ।
নাবিল একদিন তার বাবাকে বলছিলো, বাবা আমরা না হয় চা খাওয়া ছেড়ে দি! জবাবে তার বাব বললো, শুন মা, মধ্যবিত্তের গৈারবই হলো পেপার রাখা, আর চা খাওয়া, তা আমি কোন ভাবে নষ্ট হতে দিতে পারিনা!
নাবিলা চা খাওয়ার পরও তার মন মেজাজ দেখে তার মা বুঝতে পারলো বিষয় টা, তাই তিনি আলমারি থেকে ঈদ উপলক্ষে নাবিলার ছোট মামার দেয়া শাড়িটা বের করে মেয়েকে বললো এই নে মা, কাল এটা পড়ে না চালিয়ে দে!
নাবিলা কেঁদে ফেলে, তার মায়ের চোখের পানি আসলেও তিনি তা স্বভাব দ্বারা লুকিয়ে রাখছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের মায়েরা তা ভালোই পারেন!
Source Pixabay