ভিয়েতনাম একটি নাম একটি ইতিহাস, যে ইতিহাস আমাদের সবাইকে প্রেরণা দে ধ্বংসস্তুপ থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। যে দাঁড়িয়ে থাকা শুধু নিছক দাঁড়িয়ে থাকা নয়, নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নিজস্বতাকে আঁকড়ে ধরে আপন মহিমায় উদ্ভাসিতকেই অর্থবহ করে তুলে। পৃথিবীর ইতিহাসে দুটো দেশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি হবে এবং হচ্ছে সে দেশ দুটো হলো এক ভিয়েতনাম দুই বাংলাদেশ। দেশ দুটো নিয়ে আলোচনার মূল কারণ হলো দেশ দুইটির অর্থনীতির আকার প্রায় এক আর স্বাধীন হওয়ার সময়কালও কাছাকাছি।
ভিয়েতনাম বাংলাদেশ থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। আবার কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও এগিয়ে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একে অন্যের খুব কাছাকাছি।
যেখানে ভিয়েতনামের জনসংখ্যা প্রায় দশ কোটি সেখানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় সতের কোটি অর্থাৎ সাত কোটি বেশি। অপরদিকে ভিয়েতনামের আয়তন তিন লক্ষ একত্রিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের আয়তন থেকে প্রায় তিন গুন বেশি।
জনসংখ্যা আর আয়তন দিয়ে যদি তুলনা করা হয় তাহলে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই বরং ভিয়েতনামের থেকে এগিয়েই আছে বলবো।
খনিজ সম্পদের দিক দিয়ে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের ছেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। পেট্রোলিয়াম, আয়রন, লোহা,ইত্যাদি রপ্তানি ভিয়েতনামের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঔষধ, চামড়া, পাট, চা, কৃষিজাত পণ্য, এবং মাজারি টাইপের ভাটি শিল্পের দিকে ওদিক ফোকাস দিয়ে ভিয়েতনামকে টেক্কা দিতে পারে।
অপরদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক। বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা যেখানে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ সেখানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের বর্তমান হিস্যা ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে তৈরি পোশাক খাতে টপকে যেতে পারে বিপুল চীনা বিনিয়োগ ও ইনোভেশন ইনডেক্সের কারণে।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) বাংলাদেশ ৯৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তার বিপরীতে ভিয়েতনাম রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৯১ ডলারের পোশাক। তার মানে পাঁচ মাসে বাংলাদেশের চেয়ে ৮২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি বেশি করেছে ভিয়েতনাম। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভিয়েতনামের চেয়ে ১১২ কোটি ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তবে মার্চ থেকে ভিয়েতনাম এগিয়ে যায়। মার্চে ২২৬, এপ্রিলে ৩৭ ও মে মাসে ১২৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তার বিপরীতে ভিয়েতনাম মার্চে ২৩৪, এপ্রিলে ১৬১ ও মে মাসে ১৮৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
বাংলাদেশের উচিত ইনোভেশনে মনোযোগ দেয়া, দামী পোশাক বানানোতে আগ্রহী হওয়া। ইনসেন্টিভ নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠার দিকে না তাকিয়ে বিশ্বে বাজার সৃষ্টির দিকে নজর দিলে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
Source:Pixabay