সাধারণ সময়ে মানে করোনা পূর্ব সময়ে অপেক্ষা আর করোনা কালে অপেক্ষা এক জিনিস নয়। ভাইভা দিতে এসে ওয়েটিং রুমে বসে বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে রাতুল। রাতুল সদ্য এমবিএ করে বের হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এর আগেও সে কয়েকটি ভাইভা দিয়েছে সব কয়টিই ভালো হয়েছে। ভালো হলে কী হবে সেলারী বনিবনা না হওয়ার দরুন সে জয়েন করেনি।
রাতুলের একটাই কথা মানুষ কাজ করে বা চাকরি করে টাকার জন্য সে টাকাই যদি না পওয়া যায় তাহলে ঐ চাকরি করে কী লাভ!
অবশ্য সে এর আগে একটা জব করতো সেখানে বেতন মোটামুটি ভালোই দিতো কিন্তু ম্যানেজমেন্ট ভালো ছিলোনা বলে চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। তাই আজকাল রাতুল বেতনের সাথে আপস করবেননা, কারণ বেতন যা দরকার আগেই বাড়িয়ে নিতে হবে। ওকে জয়েন করার সময় বলে এখন আপাতত এতো নেন প্রভিনশিয়াল টেনর শেষ হলে আরো ২০% বাড়িয়ে দেয়া হবে।
প্রভিনশিয়াল টেনর শেষ হওয়ার পরো ওর বেতন আর বাড়ানো হয়নি, তারপর সে সিন্ধান্ত নিয়েছে যা বাড়ানোর আগেই জয়েন করার সময়ে বাড়িয়ে নিবে।
অপেক্ষার পালা শেষ হওয়ার পর ভাই ভার জন্য ডাক পরলো রাতুলের। রাতুল কয়েকটি ভাইভা দেয়ার পর এখন সে ভাইভা বোর্ডে তেমন কাউকেই কেয়ার করেনা। সে বুঝে গেছে দুনিয়াটা শক্তের ভক্ত নরমের ঝম!
তাকে যখন বর্তমান বেতনের কথা জিজ্ঞেস করা হলো তখন সে বলে, ওটা পারসোনাল বিষয়, তাই আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন আমি কতো হলে জয়েন করবো? তার পাল্টা প্রশ্নে বোর্ড মেম্বার সবাই হকচকিয়ে যায়।
তাকে আরো অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়, সে সব গুলো প্রশ্নের উত্তর যুক্তি দিয়ে কাউন্টার এ্যাটাক করে। সব শেষে তাকে বলা হয়, ঠিক আছে আমরা আপনাকে পরে জানিয়ে দিবো। রাতুল বলে উঠে স্যার যদি না হয় মুখের উপর বলে দেন, এইভাবে কাউকে অপেক্ষায় রাখা ঠিক না!
বোর্ড মেম্বার সবাই বলে ঠিক আছে আপনি কবে জয়েন করতে পারবেন? রাতুল একটু হেসে বলে স্যার আমিতো আজই জয়েন করে ফেলছি, তা নাহলে এইভাবে কেউ উত্তর দে!!
রাতুলে এইরূপ কনফিডেন্স দেখে সবাই বলে ঠিক আছে আজ থেকে আপনি আমাদের সবার একজন হয়েই থাকবেন।
Source Pixabay