যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিচার দিচ্ছে শামীমের মা। খান পরিবারের সদ্য বিধবা বউ এখন নাতির নাম (শামীম) এর নামে পরিচিত। শামীম, খান সাহেবের মেজো ছেলের ঘরে নাতি।
খান পরিবার, সমাজে শিক্ষিত পরিবার বলে বেশ সমাদৃত। সব ছেলেমেয়েই উচ্চ শিক্ষিত, খান সাহেব নিজেও সরকারি স্কুলের হেড মাস্টার হিসেবে অবসর নিয়েছেন।
শামীমের জেঠা সরকারি ডাক্তার জেঠি সরকারি স্কুলের হেড মাস্টার, শামীমের বাবাও সরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলো, ফুফা, ফুফী দুজনেই সরকারি বড় কর্মকরতা। ছোট কাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
উচ্চ শিক্ষিত হলেও কী হবে শামীম এর জেঠা, জেঠি দু'জনে মানসিকতা এতো নিচে যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। সারাক্ষণ শামীমের মাকে বকাঝকা করে শ্রাব্য অশ্রাব্য ভাষায়। যদিও ওরা একসাথে থাকেনা ওরা থাকে দাদার বাড়িতে আট ওর জেঠারা থাকে ওদের উপজেলায় সরকারি বাসায়।।
কীরে মাগী গাছ কাটার কথা সাকিব কে বললো? শামীম এর মাকে জেঠা ফোন করে বলে। জেঠার কথা শেষ হতে না-হতেই জেঠি ফোন করে বলে একটারে খেয়েও তোর শান্তি হয়নাই এখন আমারটার পিছনে লাগছোত!!
যদিও গাছ কাটার কথা সাকিব জানতে পারে গ্রামের এক লোক থেকে কিন্তু শামীম এর মা যতই বলে আমি বলেনি ভাবি ততই গালি দে খানকি মাগী, বেশ্যা মাগী বলে। গালি শুনে খান সাহেবের মেজো বউ ছেলেকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলে।শামীম এর বুঝতে অসুবিধা হয়না যে আজো মাকে জেঠা জেঠি দু'জনে গালি দিছে। এইরকম ছোট বড় অপরাধে অভিযুক্ত করে অমানবিক আচরণ করতো শামীম দের সাথে।
শামীম মাকে বুঝায় মা কেঁদো না আর মাত্র কয়েকটা বছর তারপর দেখো আমাদের আর দুঃখ থাকবেনা। আমি অনেক বড় ডাক্তার হবো অনেক টাকা হবে অনেক সম্মান দিবে লোকে তোমাকে ডাকবে ডাক্তারের মা বলে।
শামীম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে তার ছোট কাকার কাছে চলে যায়, সেখানে সে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির কোচিং করে। এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সে চান্স পায়।
শামীম ক্লাস করতে থাকে ছোট কাকার বাসা থেকে। কাকা তাকে টিউশনি করতে নিষেধ করে দিছে এবং বলছে পারলে বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি নিতে। শামীম মেডিক্যাল কলেজের পড়ালেখার সাথে সাথে বিসিএস এর জন্য ও প্রস্তুতি নিতে থাকে ফলাফল হাতে নাতে পায় বিসিএস ক্যাডারে চাকরিও পেয়ে যায় শামীম। আজ সে এমবিবিএস ডাক্তার এবং সিভিল সার্জন।
সিভিল সার্জন হিসেবে তার জেলার সমস্ত সমস্ত স্বাস্থ্য সেবা তদারকি করার দায়িত্ব ছিলো। তদারকির অংশ হিসেবে সে ভিজিট করতো জেলার সব কটি হাসপাতাল, ক্লিনিক। এর ফলে একদিন দেখা হয়ে যায় তার জেঠার সাথে। জেঠা ওকে দেখে বলে উঠে আরে শামীম যে!
শামীম জেঠাকে চিন্তে পেরে বললো, আনোয়ার সাহেব আপনি বোধ হয় ভুলে গেছেন আমি আপনার স্যার হই। তার জেঠা থতমত খেয়ে বললো সরি স্যার!!
Photo From:Pixabay