প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম কালের স্রোতে হারিয়ে গিয়েছে অনেক, আবার কেউ স্বমহিমায় টিকে আছে সে অনাদিকাল থেকে, সভ্যতার শুরু থেকে! নামের বলে বলিয়ান হয়ে নয় কর্ম গুনে। আমাদের টিকটক প্রজন্ম অবশ্য তাতে কান তুলে না। তাদের কাছে চাঁদের আলোর ছেয়ে চার-ছয় ইঞ্চি রঙিন স্কিনই প্রিয়।
মতিঝিল এলাকায় বুয়া দের ও বিও এক্যাউন্ট আছে, আমি ২০১৩ সালের কথা বলছি, তখন আমি ফকিরাপুল এলাকায় থাকতাম, আমাদের বুয়া বলছিলো তার ও বিও এক্যাউন্ট আছে, তার সাথে যারা থাকে তাদেরও আছে। আমার খুব আপসোস করছিলো আর নিজেকে আন স্মার্ট মনে হয়েছিলো। যুগ থেকে কতো বছর পিছিয়ে, আহা!
এইচএসসি পাশ করার পর শহরে এসে যখন কোচিং ভর্তি হই এ্যাডমিশন টেস্টের জন্য তখন শহরের কলেজের ছেলেমেয়েদের দেখে নিজেকে আফ্রিকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মনে করতাম! ঐ বয়সেই একেকজনের দুই তিনটা গার্ল ফ্রেন্ড যখন আমার মাত্র গোঁফের রেখা দেখা দিয়েছিলো! বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে দেখি প্রেমিক প্রেমিকারা গুলো জাস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেল! বাহ কী স্মার্ট!
এইদিকে আধুনিক মা বাবা রিলেশন করে বিয়ে করবে, আর ছেলেমেয়েদেরকে বলবে প্রেম করবিনা, প্রেমের বিয়ে টিকেনা। অপরদিকে ছেলেমেয়েদেরকে যুগ থেকে এগিয়ে রাখতে অল্প বয়সে হাতে তুলে দিবে স্মার্টফোন, সাথে ফেসবুক এ্যাকাউন্ট তো জন্মের সাথে ফ্রী!
একটু বড়ো হওয়ার পর আধুনিক বাপ মা অন্য অনেকের কাছে সুনাম করবে, দেখেন ভাই আমার ছেলে কতো স্মার্ট এই বয়সে স্মার্ট ফোনের সকল কিছু বুঝে! আবার সেই বাপ মাকে দেখি বয়স বাড়ার সাথে সাথে সন্তানের সেলফোন আসক্তি কমাতে কতো আয়োজন করে থাকপ, আহা স্মার্ট মায়েরা!
এখন মানুষ অনেক স্মার্ট, তিনশো টাকা দিয়ে পত্রিকা রাখবেনা, কিন্তু পাঁচশো টাকা দিয়ে নেট বিলে, ৩০০ টাকা দিয়ে ডিশএন্টেনার বিল দিবে। বাসায় পেপার রাখাতো এখন আর কিছুতেই স্মার্ট কাজ নয়!
আবার কিছু আধুনিক বাবা-মা তো বাসায় ৫৩" ইঞ্চি এলএডি টিভি রাখলে নিজেক জাতে তোলা হলো না ভাবে। অথচ ড্রয়িংরুমে বড়ো বড়ো বুক সেলফ না থাকলে আমরা তাকে বাসায় মনে করিনা। কারণ আমরা তথাকথিত স্মার্ট নয়!
আগে আমরা আমাদের বন্ধুদের কতো সুন্দর সুন্দর নাম দিতাম, এক ব্যাটারি, চেরাগ, মান্দার গাছ, তাল, গাছ, আর এখন নাম দেয়া হয় টিকটিক অপু, ইউটিউব অনু, টিউব লাইট, আহা কতো স্মার্ট!
Source Pixabay