"হাতে বন্ধুক থাকলে নিরীহ মানুষের ও চোখ যায় পশু-পাখির উপর"
সৈয়দ ওয়ালী উল্লার বিখ্যাত প্রবন্ধ "একটি তুলশী গাছের কাহিনী " তে এইভাবে ফুটে উঠেছিল নিরীহ মানুষের কদর্যরূপ। আজকাল ছেলে মেয়েদের যে অবস্থা হাতে একখান স্মার্ট ফোন থাকলেই মুখ বাঁকা, জিভ বের করা, ঠোঁট বাঁকা, চোখ টেরা করে ছবি উঠায় পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর ডিজিটাল ক্যামেরা থাকলে তো কথাই নেই!
ফটোগ্রাফির "ফ "না বুঝলেও ছাগলের "ছ" তুলে থাকে !! তাই আমার ও বলতে ইচ্ছে করে হাতে স্মার্ট ফোন থাকলে কিছু মানুষের ও চোখ যায় ক্ষেতের দিকে !!! আর ডিজিটাল ক্যামেরা থাকলে চোখ যায় "ছ" এর দিকে !!! ভাই স্মার্ট ফোন থাকলে কি স্মার্ট হওয়া যায়?
ছোট বেলায় যখন পরিবেশ পরিচিত সমাজ বইটা পড়তাম তখন কতো সুন্দর সুন্দর ছবি থাকতো, সে ছবি গুলো গল্পের প্রয়োজনেই চিত্রায়িত হতো এতেকোন সন্দেহ নেই। আমাদেরকে পরিবার কাকে বলে, সমাজ কাকে বলে, কী ভাবে গ্রাম হয়, গ্রাম থেকে কীভাবে ইউনিয়ন, থানা, জেলা, এবং সর্বোপুরি একটা রাষ্ট্র কীভাবে গঠিত হয় ইত্যাদি শেখানে হতো।
এর পাশাপাশি আমাদেরকে পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি একজন সুনাগরিক হিসেবে দায়িত্ব বোধ শেখানো হতো। শেখানো হতো ছোটদের প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা আর বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান করা।
এখন প্রশ্ন হলো আমরা কী দেশের প্রতি সুনাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, নাকি রাষ্ট্রের প্রতি বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন তুলে নিজের দায়িত্বকে এড়িয়ে যাচ্ছি? সত্যি কথা বলতে আমরা নিজের দোষ অন্যের উপর ছাপিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে বদ্ধপরিকর।
আমরা অনেকটা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করে অন্যায় করে পার পাওয়ার পর অন্যকে ঠিকই জ্ঞান দিয়ে থাকি। বাঙালী মননশীলতার পরিচয় দে যখন তার কাজ উদ্ধার হয়ে যায় তখন। আমাদের বেশির ভাগ লোকেরই চরিত্র তুলসী গাছ প্রবন্ধের নিরীহ লোকদের মতো, হাতে যখন ক্ষমতা আসে তখন আমাদের আচার আচরণ রাতারাতি বদলে যায়, এ্যামিবার ন্যায় এককোষী প্রাণীর মতো।
Photo 1Pixabay
তরল আধুনিকতায় ডুব দিয়ে পার হওয়া যায় জ্ঞানের সিন্ধু? দামি গেজেটে বুঁদ হয়ে নিজেকে অনেকে কসমোপলিটান ভাবে। ভাবতে তো দোষ নেই, সমস্যা হলো অন্য খানে, আরো গভীরে।
কসমোপলিটান হতে হলে মনন ও চিন্তায়, কথায় ও কাজে বৈশ্বিক হতে হবে। তা আমরা কী আদো হতে পারছি?
যখন আমরা দামি চকোলেট, আইসক্রিম কিনে দিচ্ছি আমাদের সন্তানদের তখন আমাদেরই পাশে কতোলোক না খেয়ে পড়ে আছে তার হয়তো আমরা খোঁজও নিচ্ছি না।
কখনোবা দামি গেজেট দিয়ে রাস্তার পাশে ডাস্টবিনে খাবার খাওয়া পথশিশুর ছবি তুলে আপলোড দিচ্ছি সামাজিক মাধ্যমে। বাহ কী চমৎকার সামাজিকতা!
কিছু মানুষ হয়তো সত্যি ভাবছে দেশটাকে বদলে দিবে, বিশ্বের মানচিত্রটাকে ও হয়তো রাঙিয়ে দিতে চায় মানবিকতার চাদরে, কিন্তু পুঁজিবাদের রঙবেরঙের আলো আমাদের চোখকে জলসে দিয়ে ঘুমপাড়িয়ে দিয়ে রাখবে হয়তো।
দশজনের গ্রুপ মিলে হয়তো ঘুরতে গেলাম, সবাই মিলে ছবি তুললাম, আমাদের মাঝে হয়তো কয়েকজনের পকেট পাকা, ভয়ংকর সুন্দর ছবিটি আমরা আবার সামাজিক সাজার জন্য আপলোড দিয়ে দিলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্যাপশনে লিখে দিলাম "হ্যাঙআউট উইথ ফ্রেন্ড"!
কসমোপলিটানরা ঝনঝন করে আমাদের হয়তো ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু আমরা জাগতে পারবো তে?
Photo 2Pixabay