মেসেঞ্জারে পরিচিত রিংটোন টা বেজেই চলেছে, তমালের তাতে কোন কর্ণপাত নেই কারণ শ্রাবণি বলে দিয়েছে তাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত দেখা আজও হবেনা, তাই তমাল নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে! "আমাদের আজ দেখা হবেনা" শ্রাবণির এই কথা তমাল গত তিন বছর ধরে শুনে আসছে, এতে করে তমালের এখন আর মন খারাপ হয় না। কিন্তু সত্যি হলো "সবারই কম বেশি মন খারাপ হয়, কেউ প্রকাশন করে, কেউ করেনা, অথবা কেউ প্রকাশ করতে পারেনা, প্রকাশ করতে পারাও"।
তিন বছর ধরে তাদের দেখা হয়নি বললে ভুল হবে, ভারচুয়ালি ওদের একে অপরের দেখা তো রোজই হয়! অনেকবার কল বাজাতে তমালের ঘুম ভেঙে যায়৷ সাতসকালে কে আবার কল দিলো, বিরক্ত নিয়ে ঘুম কাতুরে চোখ না খুলেই কল রিসিভ করতে ওপার থেকে শ্রাবনির গলা শুনা গেলো, কী ঘুম ভাঙানো তাহলে? আরে সাতসকালে আমাকে কেউ কল দেয় না তাই রিং শুনার পরও প্রয়োজন বোধ করি নাই- তমাল বলে।
"প্রয়োজন বোধ " ভালো শব্দের ব্যবহার শিখছো দেখি শ্রাবণির শ্লেষ মেশানো প্রশ্নে তমালের ঘুম চোখ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার জোগাড়! আরে দূর কী যে বলো তুমি গতকাল রাতে বলে দিছো আজ আমাদের অতি কাঙ্ক্ষিত দেখাটা হচ্ছেনা, তাই আমি ফোন রিসিভ করার প্রয়োজন বোধ করি নাই, কারন তুমিতো আর সাতসকালে কল দিবানা, তমাল যতই শ্রাবণিকে বুঝানোর চেষ্টা করে না কেনো শ্রাবণি বুঝতে চায়না।
অন্য সময় হলে তমাল বলতো মেয়েদেরকে ইশ্বর জ্ঞান কম দেছে তাই ওরা কোন সহজ বিষয়কে ন্যারেট করতে পারেনা। কিন্তু এখন পরিবেশ ভিন্ন, ঘটনা ও ভিন্ন তাই প্রয়োজন বোধ ও ভিন্ন!
এই রকম পরিস্থিতিতে তমাল আশ্রয় নেয় রবীন্দ্রনাথের, যদিও তমালের সবচেয়ে ভালো লাগে জীবনান্দ। শ্রাবণির জীবনানন্দ বুঝেনা। মেয়েরা বাঁকা কথায় ওস্তাদ হলেও একটু জটিল কাব্য ওদের মনের গভীরে পৌছায় না। তাই অন্য অনেক মেয়েদের মতো মেয়েরা জীবনানন্দ বলতে "বনলতা সেন" পর্যন্ত সীমাবদ্ধ!
আচ্ছা কাল কি তুমি রবীন্দ্রনাথ পড়ো নাই? তমাল শ্রাবণির রাগ কমানোর জন্য রবিবাবুর কথা বলে। শ্রাবণি বুঝতে পেরে বললো কথা ঘুরচ্ছো কেনো? শুনো রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক, যা কিছু প্রাসঙ্গিক তা কিছুই প্রয়োজন, এই কথা বলে মোটামুটি কাবু করে পেলে শ্রাবণিকে।
বিষয় যখন রাবিন্দ্রনাথ শ্রাবণিকে আর পায় কে! শুনো রবীন্দ্রনাথ "দেখা" নিয়ে কোন মন্তব্য করছেন? শ্রাবণির কথা শুনে তমাল বলে এমন কোন বিষয় নেই রবিবাবু লিখেন নি!
"যে দেখার সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক নেই, সে দেখা নয় শুধু মাত্র তাকানো"। আর আমি বলি যে দেখার সাথে স্পর্শ নেই, সে দেখা শুধু টাইম পাস! তমাল যোগ করে। তমালের কথা শুনে শ্রাবণি বলে তুমি দিন দিন বেহায়া হয়ে যাচ্ছো, অনেকটা মেঘেদের মতো! তমাল বারান্দায় গিয়ে মেঘগুলো দেখিয়ে বললো, দেখো মেঘেরা কতো সুন্দর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে!
তোমার সাথে কথায় পারবো না, শুনো আজ আমাদের দেখা হবেই, আমি তোমার দেয়া নীল শাড়িটা পড়ে আসছি, আর তুমি আড়ংয় থেকে কেনা পাঞ্জাবিটা পড়ে চলে আসো টিএসসিতে।
তমাল আলমিরা থেকে পাঞ্জাবি বের করতে করতে টের পায় তার বুক টনটন করতেছে, হার্টবিট বেড়ে গেছে মনে হচ্ছে, হৃদয়টাও প্রয়োজন বোধ বুঝে, তমাল আনমনে চিন্তা করে, হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দ্রুত রওয়ানা হয় তমাল।
Source Pixabay