Photo From:Pixabay
বিশ টাকার ময়লা ধরা নোট গুনতে গুনতে লুৎফর আকাশ পানে চেয়ে কী যেনো বিরবির করে বলছে হয়তো বিধাতার কাছে নালিশ দিচ্ছে। মনে মনে অভিশাপ দিচ্ছে আহসান কে আর জোরের সাথে বলে উঠলো" সৃষ্টি কর্তার আমাদের উপর দয়া হয় না"!
কী হলো লুৎফর পাশ থেকে হাক দিয়ে উঠলো গনি।
কি আর হবে আমাদের মতো কৃষকের? সৃষ্টি কর্তা আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন শুধু কুলির বলদের মমতো খাটবার জন্য, বেশ রাগের সাথে উত্তর দিলো গনিকে। গনি বুঝতে পেরে বললো কী আহসানকে আজও মজুরি কম দিছে নাকি?
গনি মিয়া এহনও কি বুঝো নাই? পানের পিক ফেলতে ফেলতে উত্তর দে লুৎফর। বুঝুম না কেন? মুই কী এই গ্যারামের মানুষ না? পাল্টা প্রশ্নে উত্তর দে গনি। পুরা সমাজটারে নষ্ট করে দিছে আহসান আর আলমের পোলারা। বিড়িতে ফুক দিয়ে যোগ করে গনি।
তো তুমি মিয়া কোনখান থেকে আসতেছো লুৎফর হাক ডাকে গনিকে। গনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে কই আর যামু "মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত ", আহসানের কাছে গেছি কিছু টাহার লাইগা। তো টাহা কি দিছে? দে নায়, বলছে জমির দলিল বন্ধক রাখলে দিবো।
তুমি কী হনহন করে বাড়ির দিকে যাইতাছে জমির দলিলের লাইগা? আঙুলের ডগায় রাখা চুন মুখে পুরে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো লুৎফর। কী আর জরা আছে আনাগো মতো ছোট লোকদের, বিড়িতে শেষ টান দিয়ে উদাস ভঙিতে উত্তর দে গনি।
আহসান কিন্তু সুবিধার লোক নয় গনি মিয়া তুমি কী মাথা খাইছো নাকি? সবই জানি লুৎফর ভাই কিন্তু কী করুম কও? মাইয়াডারে বিয়া দিতে হবে ছোট মাইয়াডা ও বিয়ার উপযুক্ত হয়ে আছে।
গনি জমির দলিল বন্ধক রেখে কুড়ি হাজার টাকা আহসানের নিকট থেকে নিয়ে বড় মেয়ে দুমদাম করে বিয়ে দিয়ে দে। এইদিকে আষাঢ় মাস শেষের দিকে গনি জমিতে চাষের জন্য গরু নামায় খবর পেয়ে তেড়ে আসে আহসান মহাজন।
কী ব্যাপার গনি জমিতে নামলা যে হুক্কায় ফোক দিতেদিতে বলে মহাজন। কী কন মহাজন আমার জমি আমি নামুম না কেড়া নামবো? দৃড় কন্ঠে উত্তর দে গনি। গনি তুমি কী ভুইলা গেলা দলিল বন্ধক রাখার সময় টিপ সই দিছিলা? দিছিলাম তো তাতে কী হইছে? তাতে কী জমি আপনার হইয়া গেছে নাহি?
হ আলবত জমি আমার হইয়া গেছে তুই কাগজে টিপ সই দিয়ে গেছত। এই দেখ তোর সই, বলে পকেট থেকে ঐ দিনের কাগজটা বের কটে দেখালো মহাজান।
আপনে কইছেন মাসে দু'হাজার করে শোধ করে দিতে, আমি তো আপনেরে মাসে মাসে টাহা দিয়ে আসতেছি
মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে গনি। গনি কাঁদো কাঁদো গলায় বললো মহাজন আমাগো গরিবের পেটে লাথি মাইরেন না। মহাজন হুক্কায় লম্বা টান দিয়ে বলে তোরে
একটা সুযোগ দিতে পারি যদি তুই.....
কী মহাজান, বলেন? অনেক আশা নিয়ে মহাজনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে গনি।
মহাজন একগাল হেসে দাঁড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে বলে যদি তোট ছোট মেয়ে আমার সাথে বিয়া দেস তাহলে আমি তোর জমি পিরাই দিমু আর লগে আরো ৩ বিগা জমি লিখা দিমু।
গনির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায় কী বলবে বুঝতে পারেনা। লুৎফর পাশের জমিতে কাজ করতেছিলো সে সব শুনছে। সে এগিয়ে এসে বলে মহাজন তো অতি উত্তম প্রস্তাব দিছে গনিকে উদ্ধার করতে বলে উঠে। গনি কিছু বিঝে উঠার আগে গনিকে চোখ দিয়ে ইশারা দে লুৎফর।
লুৎফরের কথায় আশ্বাস পেয়ে মহাজনকে বলে, ঠিক আছে আমি রাজি আপনার লগে কাইলা কথা কমুনি।
মহাজন আর কথা না বাড়িয়ে হনহন করে বাড়ির দিকে চলে যায়।
এদিকে গনি রাতের আঁধারে লুৎফরের বাড়ি যায়, গনি সব কিছু বুঝিয়ে চলে যায় নিজের বাড়ি।
লুৎফর কথা মতো মহাজনের সাথে দেখা করে, বিয়ের কথা-বার্তা বলে লুৎফর এগিয়ে দে মহাজনকে। বিদায়ের সময় লুৎফর মহাজনকে বলে তো মহাজন আমার মাইয়াডা আপনার লগে রাতে একটু কথা বলতে চায়, আপনে যদি রাতে একটু কথা কইতে চায় আপনে যদি একটু আসতেন?
ও এই ব্যাপার! মহাজন আহ্লাদী হয়ে বলে ঠিক আছে আসুমনি ক্ষন!!
মহাজন যথা সময়ে চলে আসে গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে পুকুর পাড়ে। লুৎফর আর গনি আগে থেকেই তৈরি ছিলো অন্ধকার রাত বলে মহাজন কিছুই বুঝতে পারেনি। গনি আর লুৎফর মৃত মানুষের আন্তা সেজে ভয় দেখায় ভয় পেয়ে পালাতে গিয়ে পুকুরে ডুবে মৃত্যু বরণ করে মহাজান যা পরে আত্মহত্যা বলে মানুষ জন বিশ্বাস করে।