তুমি একটা বোকা, কেন জলদি নিজেকে শেষ করে দিচ্ছো না, কীসের অপেক্ষায় আছো, কীসের প্রত্যাশা করছো, হঠাৎ করে কোন দৈব শক্তি বর করে তুমি সুস্থ হয়ে যাবে, তাইনা?
শুন রহমত, আমি চাইলেই নিজেকে শেষ করে দিতে পারি, কিন্তু আমি শেষ হয়ে গেলে, মানে আমি মরে গেলে কি সব আমার শেষ হয়ে যাবে! বেশ জোরেশোরে কথা গুলো এক নিশ্বাসে বলে যায় রইস উদ্দিন।
ছোট ঘরের কোনে পড়ে থাকা বোতলকে ইঙ্গিত করে রহমত বলে, তুই আসলে বোকা রইস, বতল থেকে এক ঢোক চালান করে দে, দেখবি শরীর, মন সবই চনমনে হয়ে যাবে।
আমি আর আমার শরীরকে নষ্ট করবোনা রহমত, আমি বরং এইভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরে যেতে পারি কিন্তু আমি আর ঐ লালা রঙের পানি খাবোনা। রহমত চলে যায়। তারপরও রইস উদ্দিন নিজের সাথে নিজেই কথা বলে চলে।
রইসের মনের ভিতর কয়েক মাস যাবত উল্টা পাল্টা চিন্তা খেলা করতেছে। ইদানিং তার ভাবনা গুলে ডানা মেলতে শুরু করছে। যদিও লাল রঙের পানি খাওয়ার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তার শয়নেস্বপনে শুধু একজনই হানা দে সে হলে রহমত, তার জেঠাতো ভাই, বয়সে তারচেয়ে বছর তিনেক ছোট হলেও গায়ে গতরে বেশ সুঠাম। কিন্তু সামনের কয়েকটি দাঁত পোকে খাওয়া।
খাওয়ারের গন্ধে নাকে লাগাতে বুঝতে অসুবিধা হয়না দাদি খাবার নিয়ে এসেছে। রইস উদ্দিন পিছন ফিরে তাকাতে দেখে দাদকে, দাদি দাঁড়িয়ে আছে দরজার পাটাতন ধরে।
দাদি খাবার দিয়ে যাওয়ার সময় আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় আমি ভয় পেয়ে যাই। মনে হয় পেটের নাড়িভুড়ি সব বের হয়ে আসবে।
আমি কোন রকম উঠে হাত ধুয়ে খেতে বসি। খাওয়ার মাজখানে দেখি দাদিও খাবার প্লেট নিয়ে আমার ঘরে হাজির। আমি বুঝতে পারি দাদি কিছু বলার জন্য এইভাবে খাবার নিয়ে হাজির হলো। এখন দেখার বিষয় কী বলে।
শোন দাদু ভাই দাঁতে পোকা খাওয়া তোর জেঠাতো ভাই আজও তোর বউয়ের ঘরে গেছে। আমি আড়াল থেকে শুনলাম, তোর বউ বলতেছে "তোমার মাফলার টা খোলো"
আমার মাথায় খুন চাপে কিন্তু আমি এই শরীর নিয়ে কি করবো, রইস ভাবতে থাকে। ভাবতে ভাবতে দাদির খাওয়া শেষ হয়ে যায় কিন্তু রইসের খাবার পড়ে থাকে, অযত্নে অবহেলায়, যেমন করে ও পড়ে আছে গত পাঁচটি বছর এই চারদেয়ালে!
রইস তার স্ত্রীকে ডেকে পাঠায়, সে দেখে তার স্ত্রীর মুখে পোকায় খাওয়া হলুদ দাঁতের চিহ্ন, যেগুলো দিয়ে আরবি আয়াত বের হতো!
রইস তার স্ত্রীকে আর কিছুই জিজ্ঞেস করেনা। শুধু বলে, "শরীর ও মন নষ্ট করোনা, শরীর ও মনের মূল্য যৌবন দিয়ে পাওয়া যায়না"।
Source Pixabay