একটা কাক অনেক ক্ষন ধরে একটানা কা কা করে যাচ্ছে আহসানের টিনের ছালে। কনক ভয় পেয়ে যায় এই রকম সন্ধ্যার সময় কাকের ডাক শুনে। সন্ধ্যার সময় কাকের ডাক অমঙ্গলের আশংকাকে ত্বরান্বিত করে বলে গ্রামের মানুষদের এখনোও বিশ্বাস।
গ্রামের দিকে গোধূলির সময় কাকের ডাককে মানুষ আজও ভয় পায় তা শিক্ষিত হোক আর অশিক্ষিত হোক, শিক্ষিত লোক হয়তো ভয়টা প্রকাশ করেনা।
ভয় তো আর শিক্ষিত অশিক্ষিত বুঝেনা!
ঘরের ভিতর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সংসার করে যাচ্ছে কনক। কনক লোকাল একটা এনজিও তে কাজ করে কোন রকমে দুই ছেলে আর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে দিনাতিপাত করছে। তার দুই ছেলেই একসাথে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে কারণ দুজনেই জমজ।
কনকের যখন জমজ ছেলে জন্ম দিলো তখন সবাই বলাবলি করতেছে আহ্ মেয়েটার কী ভাগ্য একসাথে দুইটা ছেলের মা! কিন্তু কনকের ভাগ্য বেশিদিন সুপ্রসন্ন ছিলোনা ছেলেদের বয়স পাঁচ হওয়ার পর হঠাৎ এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয় কনকের স্বামী আহসান। সে থেকেই আহসান ঘরবন্দী হয়ে বিছানায় পড়ে আছে, অনেক অভিযোগ, অনেক অপারগতার স্বীকারোক্তি নিয়ে তৈল চিকচিক করা বালিসটাকে নালিশ দিয়ে।
মেয়েদের কোথাও শান্তি নেই, না বাপের বাড়ি না শ্বশুর বাড়ি বিড়বিড় করে নিজের সাথে নিজেই কথা বলতে বলতে ঘর ঝাড়ু দে কনক। সারাদিন এই বাড়ি ঐ বাড়িতে ঘুরাঘুরি করে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য তাগাদা দেয়া কিস্তির টাকা উঠানো হিসাব আপডেট করা আবার জেলা অফিসে রিপোর্ট জমা দেয়া কতো কাজ করতে হয়, তার কোন ইয়ত্তা নেই।
কনকের কী বা বয়স হবে, কী সুন্দর চোখ, খাড়া নাক, বেনিকরা চুল দেখে যে কেউ বলবে বিশ বছরের তরুণী! কিন্তু কী ভাগ্য মেয়েটার এই বয়সে স্বামীটা তার অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে বছর ছয়েকের মতো।
এতোকিছুর পরও কনকের কোন অভিযোগ নেই বরং মনে মনে ভাবে এইচএসসি পাশ করে ভালোই করছে তা নাহলে চাকরিটাও জুটতো না।
কিন্তু ইদানিং কনকের মন মরজি ভালো যাচ্ছেনা। এদিকে আহসানের শরীরও খারাপ কী করবে বুঝাতে পারতেছেনা। এর উপর আবার গৌধূলিতে কাক ডাকা, রাতে পেঁচা ডাকা, উলটো পালটা খোয়াব দেখা।
মাগরিবের আজানের সময় হয়ে আসছে, এদিকে কাকেদের সংখ্যা এক এক করে বাড়ছে৷ চারদিকে কাকেদের কা কা শব্দে কেমন যন গা চম চম করছে।
কনক কুপিতে তেল ভরতে ভরতে ভাবে গতকাল রাতে পেঁচা ডাকছে আজকে আবার কাক তাও আবার গৌধূলি বেলায়। কনক কুপি জ্বালাতে গিয়ে দেখে আহসান বুকে হাত দিয়ে কুকিয়ে যাচ্ছে, সে কুপি টাকে টেবিলে রেখে আহসানকে ধরে। আহসানের চোখ, মুখ ফেকাসে হয়ে যায়, এদিকে এক ধমকানো বাতাসে নিবে যায় কুপিখানা।
Source Pixabay