জানার পাশে বসে যে মেয়েটি আকাশ দেখতেছে তাকে অবিকল মাহাদিয়ার মতো দেখতে লাগছে। একটা মানুষ অবিকল কীভাবে এমন হতে পারে! মেয়েটি একটু ঘুরে বসতেই ভুল ভাঙে অনুর। মেয়েটিকে দেখার পর তার মাহাদিয়ার কথা মনে পড়ে গেলো। এরপর আর পুরো ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারেনি অনু। আজ তার ক্লাস নাইনে প্রথম ক্লাস নেয়ার কথা অথচ কোন কিছুতে সে মনোযোগ দিতে পারছেনা। ক্লাস নাইনে পড়া মেয়েদের একটাই দোষ তাদের দেখলে পরিচিত কোন মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়।
অনু ঢাকা শহর ছেড়ে দিয়ে গ্রামে এসে বাড়ির পাশে হাই স্কুলে জয়েন করে শুধু মাহাদিয়াকে ভুলে যাওয়ার জন্য। অতচ এক সপ্তাহ না যেতেই স্মৃতির জানালা দিয়ে উঁকি মেরে গেলো মাহাদিয়া। মানুষ কোন কিছুই ভুলে যায়না বিশেষ করে প্রথম প্রেম, প্রথম স্পর্শের কথা।
যদিও মানুষ ভুলে করে ভুলে যেতে চায় কখনোবা সচেতন ভাবে ভুল করে যেতে চায়। সময়ের ব্যবাধানে হয়তো অনেক স্মৃতি, সম্পর্ক হালকা হয়ে যায় কিন্তু মানুষ ভুলে যায়না, ভুলতে পারেনা। আর জোর করে তো ভুলার প্রশ্নই উঠেনা।
Photo1:Pixabay
মাহাদিয়াকে ভুলে যাওয়ার জন্য অনেক অপমান, অনেক ঘাত, প্রতিঘাত সইতে হয়েছে অনুকে। অনুর উপর অনেক চাপ আসে বিভিন্ন জায়গায় থেকে। শেষমেশ অনু ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামের স্কুলে জয়েন করে, ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে। অবশ্য স্কুলের চাকরিটাও মাহাদিয়ার মন্ত্রী বাপের ঠিক করে দেয়া।
অনেক চেষ্টা করেও সে মাহাদিয়াকে ভুলতে পারছেনা।মাহাদিয়ার ও নিশ্চয়ই তার মতো মন খারাপ। আচ্ছা এখনো কি মন খারাপ হলপ মাহাদিয়া রিকশায় ঘুরে?
আকাশে মেঘেদের বাহারি রঙ দেখে?
এইসব ভাবতে ভাবতে কখন চারটা বাজলো অনু বুঝতেই পারেনা। স্কুল ছুটির পর সে নদীর ধারে বসে, নদীর কান্না শুনে, নদীর পাড় ভাঙা দেখে। সে বুঝতে পারে নদীর পানির মমতা। নদীর পানি মানুষের দুঃখ বুঝে, কষ্ট বুঝে কিন্তু মানুষ বুঝেনা!
মাহাদিয়া কী অনুর কষ্ট বুঝে? কিংবা অনুও কী বুঝতে পারছে মাহাদিয়ার কষ্ট? কষ্টেরও নিশ্চয়ই অনেক রঙ আছে মেঘেদের মতো!
এইসব ভাবতে ভাবতে নদীর ডেউ গুনছে, হঠাৎ তার মনে হলো, তার জীবনে কোন চাওয়া নেই, একথা সত্যি নয়, তার জীবনে ও একটা চাওয়া আছে অন্য অনেক মানুষের মতো। হয়তো সে চাওয়ার গভীরতা আরো বেশি৷ ঢ়ে চাওয়া হয়তো নদীর পাড় ভাঙার মতো প্রতিনিয়ত তাকে ভাঙছে, মাহাদিয়াকে ভাঙছে। হয়তোবা সে চাওয়া কান্নার চেয়েও গভীর ও গাড়!
সন্ধ্যা নামে, বাতাস ও গাড় হয়, দূরে পানকৌড়ির ডাক শুনে বাড়ি ফিরে অনু।
এইভাবে তিন-চার মাস কাটার পর সাহেদ সাহেবের ফোন আসে। জরুরী তলব পড়ে অনুর। অনু ঢাকায় গিয়ে মাহাদিয়াদের বাসায় যায়। মাহাদিয়া অনেক রোগা হয়ে গেছে। মুখ দেখে মনে হচ্ছে রক্তশূন্যতায় ভুগছে।
অনু মাহাদিয়ার বাপকে টবে বুনা দামি গাছটি দেখিয়ে বলে চাচা, গাছটা অনেক সুন্দর তাই না। মন্ত্রী বলে হুম, মালেশিয়া থেকে আনা, তোমার পছন্দ আছে দেখছি। চাচা, টবে জন্মানো ঘাসফুলটাকে দেখছেন কোনদিন? না ওভাবে তো খেয়াল করিনি? ঘাসফুলটা অনেক সুন্দর না? হ, ঠিকই তো বলছো, এইভাবে তো খেয়াল করিনি!!
Photo2:Pixabay