Photo From:Pixabay
'ক্ষুদার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি"
সুকান্তের কবিতার মতো ক্ষুদার্ত মানুষের কাছে পূর্ণিমার চাঁদ ঝলসানো রুটি অর্থাৎ কারে কাছে ক্ষুদাটা নিচক বিলাসিতা। আবার কারো কাছে পাঁচ তারকা হোটেলের দামি খাবারটি ও যেনো অধিকার হয়ে ধরা দে।
গফুর মিয়া একজন সম্ভ্রান্ত কৃষক, কৃষিই তার পরিবারের আয়ের প্রধান হাতিয়ার। তার ছেলে সবাই কৃষি কাজরে সাথে জড়িত। বড় ছেলে ধান চাষ, পাট চাষপর সাথে জড়িত। মেজো ছেলে মাছ ও মুরগি ছাষের সাথে জড়িত। সেজো ছেলে সকল প্রকার সবজিও ডাল কৃষির সাথে জড়িত। আর সবার ছোটজন গরু ও ছাগল খামার এর পাশাপাশি মাছ, মুরগী, গরুর খাবারের ব্যবসার সাথে জড়িত।
সবাই আলাদা, কিন্তু সবাই সাবলম্ভি গফুর মিয়া ছোট ছেলের সাথে থাকে।
সবারই ঘরে ছেলেমেয়ে আছে কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও কেউ তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে সিরিয়াস না। এরফলে গফুর মিয়ার টাকা পয়াসার অভাব না থাকলেও মানসিক দীনতা লেগেই থাকতো। যার ধরুন তাদের কারোই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারেনি।
অপরদিকে মফিজ মিয়া বর্গা চাষী হওয়া স্বত্বেও সে তার তিন ছেলেকে নিয়ে যৌথ পরিবারে কোন রকম দিন এনে দিন খায় এবং সবার নাতি নাতিকে স্কুলে পাঠায়। মফিজ জানে জ্ঞান এর আলোই আলোকিত হওয়া যায় টাকা দিয়ে হয়তো বাজার থেকে দামি বাতি এনে সাময়িক আলোর ব্যবস্থা করতে পারলে ও তা মনের অন্ধকার দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়।
ফমিজরা অনেক বেলা না খেয়ে থাকলেও পড়ালেখার ব্যাপারে আপোষ করেনি। তাদের কাছে পূর্ণিমার চাঁদ ঝলসানো রুটি মনে হলেও তারা জানতো চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই এবং আকাশের চাঁদ সুদূর পরাহত। পড়ালেখা শিখেই সত্যিকারের সূর্য হওয়া যায়।
ফমিজ এট নাতিরা পড়ালেখা শিখে বাপ দাদার পুরনো পেশায় ফিরে আসে এবং শুরু করে আধুনিক চাষাবাদ এরফলে তাদের পরিবারের উন্নতি দ্রুতই হয়।
জীবন যেখানে যেমনই হোক শিক্ষার আলো যেনো সবায় পায়।