রেহানা বেগম সোফায় আারাম করে বসে মুখে আরো একখিলি পান চালান দিয়ে হয়তো নিজের চোখের জলকে আড়াল করার বৃথা চেষ্টায় করে যাচ্ছেন।
আমার কোন বইন ছিলোনা, বইন বলতে আমি একাই, চার ভাই এর পর আমার জন্ম। সবার ছোট তার উপর একমাত্র বোন, তাই বাপ মা আর চার ভাই এর মাঝে অতি আদরে বেড়ে উঠা আমার একটানা কথা গুলো বলে গেলেন রেহানা বেগম।
রেহানার বাপ এলাকার চেয়ারম্যান, সবাই তাকে বাতেন চেয়ারম্যান বলে ডাকে। সমাজে ওদের ভালোই নাম ডাক।
রেহানার বয়স যখন ষোলো কি সতের তখন ওর খুব জ্বর হয়। খবর পেয়ে তার তিন ভাই ঢাকা থেকে রাতের ভিতরে চলে আসে। তখন তো আর এতো মোবাইল ছিলোনা, তারপরও কেমনে খবর পাইয়া চলে আসছে বুঝো, জোহরা কে বলতে থাকে রেহানা বেগম।
শুনো জোহরা আমার জ্বর ছিলো টানা নয়দিন, এই নয়দিন আমরা বিচানার পাশে আমার ভাইয়েরা বসে ছিলো, চিন্তা করো দৃশ্যটা, চিকনা পাতলা একটা মেয়ে তার চারপাশে এতো বড় বড় চারটা ভাই বসে আছে! একথা বলে আবার মুখে পান চালাব করে রেহানা বেগম।
আমার জ্বর যখন ভালো হয় তখন আমার বড় মাছের মাছের ঝোল দিয়ে গরম ভাত খেতে মন চাইছিলো। আমি বলার সাথে সাথে রাত দুপুরে আমার ভাইয়েরা জেলে ডেকে এনে বড় মাছের ঝোল দিয়ে খাওয়াছে, মাঘ মাসের শীতের রাতেও।
অথচ দেখো আমি কতটা স্বার্থপর! সেই আমি পছন্দ করে বসি সাহেদকে। সাহেদ আমাদের বাসায় আসতো যাইতো, পড়তো আমার সেজো ভাইয়ের সাথে। বাবা মা জানার পর ওনারা সবাই অনেক বুঝাইছে, কারণ আমার পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারে নাই। সাহেদ ঢাকায় যখন একটু সেটেল্ড হয়, আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই সাহেদের সাথে কোন এক শ্রাবণের বৃষ্টিতে।
কান্নাকে আড়াল করার জন্য বৃষ্টিতে বের হইছিলেন জোহরা আর একখিলি পান হাতে তুলে দিয়ে প্রশ্ন করে রেহানা বেগমকে। রেহানা বেগম অঝোরে কেঁদে ফেলে। হ বইন ঠিক বলছিস তুই আমার মায়ের পেটের বইন নয় কিন্তু বইনের চেয়ে বেশি কিছু!
যাক তুই তো জানিস সাহেদের টাকা পয়সার অভাব নাই। বিদেশ যায়, মেয়েছেলে নিয়ে ফুর্তি করে তাতেও আমার কোন রাগ নাই। সেটাতো আমি জানি, উত্তর দে জোহরা। কিন্তু!! কিন্তু কী হইছে দিদি জোহরা জানতে চায় রেহানার কাছে।
সাহেদ আরেকট বিয়ে করতে চায়। করতে চাইলে করবে সমস্যা কী? আরে বোকা, স্বামী রক্ষিতা নিয়ে থাকে, বেশ্যাপাড়ায় যায় সেটাও মেনে নেয়া যায়। কিন্তু আরেকটা বিয়া করবে এইটা মেনে নেয়া যায়না। মেয়ে মানুষ সব কিছু ভাগ করতে পারে কিন্তু নিজের স্বামীকে ভাগ করতে পারেনা।
Source Pixabay