Photo From:Pixabay
ফারশীদ কতোই বা বয়স হবে এই দরুন ৩ বছর, তাতে কী রংপেন্সিল দিয়ে সে একএক করে এঁকে যায় বড়দের মতো করে ছবি। সে ছবির হয়তো আমাদের কাছে মানে আমরা যারা বড় তাদের কাছে কোন অর্থ নেই। কিংবা আমরা অর্থ খুঁজতে চাই না বলে এড়িয়ে যায় সচেতন ভাবে। রং, খাতা, কিংবা ঘরের দেয়াল, দরজা, জানালা নষ্ট করার অজুহাতে শাস্তি সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করে বুঝিয়ে দেয়া হয় তুমি যা করছো তা কোন ভাবেই শিল্প নয় বরং তুমি নষ্ট করতেছো বাড়ির মূল্যবান জিনিস পত্র।
আমরা বাবা-মা এরা এমন বলেই অঙ্কুরেই বিনষ্ট করি মূল্যবান প্রতিভা। অথচ আমরা আবার চাই আমাদের সন্তানরা জয়নুল হোক, এস এম সুলতান হোক।
যাক সে কথা, বাবা মা দু'জনে চিন্তিত ফারশীদ এর কর্মকান্ডে। সারাক্ষণ বাসায় এটা ওটা রঙ করা বইপত্র ছেড়া, জিনিসপত্র নষ্ট করা।
একদিন ফারশীদ পেন্সিল দিয়ে দেয়ালে লম্বা লম্বা টান দিচ্ছে এমন সময় তার বাবা তাকে জিজ্ঞেস করতছে বাবা তুমি কী করতেছো? ফারশীদ বলে বাবা আমি পোকা আঁকি, তার বাবা চিন্তায় পড়ে গেলো এটা আবার কেমন পোকা, তখন ফারশীদ এর মাকে জিজ্ঞেস করার পর তার বাবা বুঝতে পারে সকালে সে এমন লম্বা একটা পোকা দেখছে অনেকটা কেঁচোর মতো। ফারশীদ এর বাবা হাপ ছেড়ে বাঁচে। তখন থেকে তার বাবা তাকে আরো বেশি রংপেন্সিল এনে দে, বড়সড় খাতা এনে দে। ফারশীদ আঁকতে থাকে তারমতে করে আকাশ, গাছপালা, মেঘ, বৃষ্টি ইত্যাদির।
বারান্দার রেলিং ধরে ফারশীদ খেলা করতেছে এমন সময় সে দেখতে পায় একটা ছাগল ছানা তাদের বাসার সামনে খেলতেছে, সে মায়েকে বলে মা দেখো ছাগল ছানা। তার মা তাকে নিয়ে যায় ছাগল ছানার কাছে।ফারশীদ মনেট আনন্দে খেলতে থাকে ছাগল ছানার সাথে।
আর এইভাবেই বেড়ে উঠে শিশুদের মানসিকতার। আর ছোট্ট বাবুরা সত্যি হয়ে উঠবে রাজপুত্র হয়ে যদি তাদেরকে স্বাধীনতা দেয়া যায়, স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা নয়, স্বাধীনতা মানে সীমাবদ্ধটাকে উপভোগ করা। আর এতে বাবা-মা দু'জন এরই সমান গুরুত্ব।