বাহিরে ঝুম বৃষ্টি, বৃষ্টির ফোটা এতো ঘন যে দুই তিন হাত দূরের বস্তুও ঠিক মতো দেখা যায় না। বাদল বারান্দার রেলিং এ পা বের করে বসে আছে। যেনো পা দুটো কে বৃষ্টির রোদে শুকাতে দিলো। তিতলী বাদলের জন্য চা এনে দাঁড়িয়ে আছে কতক্ষণ তার কোন খেয়ালই নেই। খেয়াল থাকবে কর করে, তাদের বড়ো ছেলে রাতুল দিনদিন একরোখা হয়ে যাচ্ছে। স্কুলে ও ঠিক মতো যায় না। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। ছোট ভাইয়ের সাথে ও তেমন খেলেনা। রুমের দরজা বন্ধ করে রাখে। আর ছোটটা ও বড়োটার দেখা দেখওি কেমন খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে।
তিতলী গরম চায়ের কাপ বাদলের হাতে লাগাতে চৈতন্য ফিরে আসে বাদলের। এতো মন খারাপ করছো কেনো সব ঠিক হয়ে যাবে, তিতলী বলে। ঠিক তো হবে কিন্তু কবে ঠিক, কতো টুকুন ঠিক হবে, কিংবা আদো ঠিক হবে কিনা।
তিতলী, বাদল ইয়ারমেট ছিলো, বাদল পড়তো বুয়েটে আর তিতলী পড়তো ঢামেকে। পড়াশোনা শেষে দু'জন দু'জনের মতো সেটেল্ড হয়ে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করে।
বাদল বিদেশি কোম্পানির প্রজেক্ট ডাইরেক্টর, তিতলী পিজিতে মেডিক্যালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। সংসারে আয় রোজগার ভালোই, কোন অভাব অনটন নেই বরং আরো উদ্বৃত্ত আছে।
সন্তানরা যখন যায় চায় সবই দিনে দিনে হাজির করা চায়, এই ধরনের মানশিকতা ছেলেদের মনকে নাড়া দে, এরফলে ওরা আরেকটু উড়নচণ্ডী হয়। তামার বিষ মাদকের চেয়ে ও ভয়ংকর হতে পারে বাদল হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে।
বাদল আর তিতলী দু'জনপ মনোরোগ বিশেষজ্ঞেট কাছে যায়। তারা তাদের সমস্যাট কথা জানায়। ডাক্তার সব কিছু শুনার পর বলে, দেখুন আপনারা শিক্ষিত মানুষ আপনারা যদি ভুল করেন তাহলে সমাজে অন্য মানুষরা কী করবে। আপনারা স্বচ্ছল দেখে সন্তানরা যখন যা চায় তা দিয়ে ওদপর মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব পেয়ছেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জিজ্ঞেস করলো আপনাট ছেলেরা কোন স্কুলে পড়ে? তিতলী নাম করা এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নাম বলে। আচ্ছা আপনারা কেউ কী এই ধরনের স্কুলে পড়ছেন? না পড়ি নাই। তো আপনারা না পড়ে যদি দেশের সবচেয়ে ভালো বিদ্যাপিঠ থেকে ডিগ্রি নিতে পারেন, তাহলে ওরা পারবেনা কেনো? বাদল আর তিতলী দুই জন একে অন্যের দিকে তাকায়।
ডাক্তার আবার প্রশ্ন করে, আপনারা পরিবারকে কেমন সময় দেন, তিতলী বলে এইতো বছরে দু একটা বিদেশ ট্যুর দি আর কী! শুনেন, বিদেশ ট্যুর এজটা স্ট্যাটাস হতে পারে, কিন্তু এটা কোনভাবে পরিবারকে সময় দেয়া বুঝায়না।
Source Pixabay