রবিন সেদিন অপমানের কথা ভুলে যায়নি। ঠান্ডা মাথায় সেদিন সাকিব এর অপমান অনেক সুচারু ভাবে সামলে নিয়েছে। সামান্য কয়টা টাকার জন্য সাকিব এইভাবে অপমান না করলেও পারতো। সেদিন রবিন কিছু না বললেও মনে মনে ঠিকই পরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়েছে এই অপমানের প্রতিশোধ সে নিবেই।
রবিন জানে মাথা গরম করে কোন কিছু আদায় করা যাবেনা এমনকি প্রেমিকার ভালোবাসা ও নয়। তাই সে সাকিব এর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয় এমন কোন কাজ না করে বরং সে সাকিব এর বিপদে আপদে সাহায্য সহযোগিতা করতো, যাতে করে সাকিবের মনে বিশ্বাস জন্মায়।
সাকিবের বাসায় যাতায়াত, টাকা লোন দেয়া এমনকি সাকিবের বউকে রক্ত দেয়া এই সব করে সাকিব এবং তার পরিবারের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া ছিলো রবিনের মূল উদ্দেশ্য। মানুষ বলতে যা বুঝায় মানে ভালো মানুষ বলতে যা বুঝায় সাকিব সেই রকমই একটা মুখোশ পড়ে থাকতে ছেয়েছিল। অনেকটা বর্ণচোরা আমের মতো!
এইভাবে কেটে যায় দিন, মাস, বছর। রবিন আর সাকিবের মাঝে সম্পর্ক গাড়ো হতে থাকে। অফিসে নতুন বসের কাজ কর্মে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়ে সাকিব। সাকিবের মন খারাপ হলে সে, রবিন দুজনে মিলে ড্রিংক করতো সাকিবদের বাসায় অনেক সময় সাকিবের বউ ও তাদের সাথে দুই তিন পেগ চালান করে দিতো অনায়াসে, আরামসে!
আজও সাকিবের মন খারাপ, মন খারাপের সবচেয়ে বড় কারণ তার বসের নাম রাসেল ( রাসেল তার সুন্দরী স্রীর জাস্ট ফ্রেন্ড)। রবিন সুয়োগ নিয়ে বলে চল আজ চাঁদটা অনেক সুন্দর জোছনা দেখি? সাকিবও সায় দিয়ে বল।
ওরা রেল লাইন দিয়ে হাঁটতে থাকে কিছুদূর যাওয়ার পর ওয়ান টাইম গ্লাসে চা খায় দুজনে। চা খেতে খেতে রবিন বলে এখন করোনাকাল আমাদের খুব সাবধানে থাকা উচিত। হ সাকিবও মাথা নাড়ে।
আমরা বাসায় ফিরে যাবো বলে হাঁটা শুরু করি দুজনে। রাসেল অল্প সময়ের ভিতর বাসায় পৌঁছতে পারলেও সাকিব চারমাসেও পৌঁছতে পারেনি।
সাকিবের পরিবার মনে করে যেহেতু সাকিবের ঘরে সুখ নেই, অফিসে ও জামেলা চলতেছে তাই সে রেললাইনে ঝাপ দিছে না হয় নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।
কেউ যখন সাকিবের খোঁজ দিতে পারেনা আমি তখন তার সুন্দরী বউয়ের জন্য একটা বিদেশি বর ঠিক করে দি, সাকিবের বউ নতুন জীবনের গন্ধে ভুলে যায় সাকিবকে, এমনি ভুলে যায় রাসেলকে সন্দেহ করতেও।
শুধু রাসেল ভুলেনা সাকিবকে। মানুষ হয়ে মানুষকে ভুলে যাওয়ার মতো অমানুষ তো রাসেল নয়!!
Source Pixabay