আমরা যারা গ্রামে বড় হয়েছি তারা জানি শৈশব কাকে বলে। মানে সত্যি কারের শৈশব, যে শৈশব দাপিয়ে বেড়িয়েছে গ্রাম গঞ্জের প্রতিটি খাল বিল, মেটো রাস্তা।
গ্রীষ্মের দুপুরে ডুব সাতারে কাটিয়ে দিতাম পুকুরে, চোখ দুটা টকটকে লাল করে বাড়ি ফিরে বকা খেতাম অঝোরে। মাঝেসাঝে গোসল করতে ধরতাম বায়না।
কোন গাছে পেকেছে আম, সবার আগে চালাতাম অভিযান। জাম গাছে উঠে গেঞ্জি পেন্ট রঙিন করে কখনো বা ফিরতাম বাড়িতে। ময়ের হাতের মাইর খেয়ে দু একদিন ভুলে থাকতাম আম জামের মায়া।
বর্ষায় ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে স্কুল মাঠে ফুটবল খেলা, স্কুল ছুটির পর কাক ভেজা হয়ে বাড়ি ফেরা। পেয়ারা গাছে দুবেলা চলতো অভিযান সাথে গাব গাছের মগডালে হানা দিতাম, আহা শৈশব!! সোনায় বাঁধানো ছবি।
বাহিরে ঝুম বৃষ্টি, গাছপালা সব দুলছে ফারশীদ তার বাবাকে বলে, বাবা তুমিতো বৃষ্টিতে বিজতে ফুটবল খেলতে তাহলে আমাকে বিজতে দাওনা কেনো? ফারশীদ এর বাবা থতমত খেয়ে বললো বাবা এখন কী আগের মতো পরিবেশ আছে। ফারশীদ বলে বাবা তুমিনা বলো মানুষ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে এখন এমন বলছো কেনো?
জামিল সাহেব ছেলের কাছে যুক্তিতে না পেরে বললো চলো আজ আমরা বৃষ্টিতে বিজিবো। ফারশীদ এর চোখ দুটো খুশিতে চকচক করে উঠলো। জামিল সাহেব বুঝতে পারলো ছেলেমেয়েদের সাথে করপোরেট বাবা না হয়ে সত্যি কারের বাবা হলে আদতে সবারই লাভ।
রাতের খাবার টেবিলে বাপ ছেলের কথায় উঠে আসে গ্রামে শীত কালের কথা।
শীতে বন ফুলের গন্ধ নাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম বন থেকে বন। শীতের সকালে সবাই মিলে পিঠা খেতাম আর বিকাল বেলায় গোল্লাছুট, বউছি, ধান খেতে ক্রিকেট কত কিছুই না খেলতাম।
শীতে নান রকম শাকসবজি ফলমূল পাওয়া যায়, খেজুরের রস, ভাপা পিঠা আরো কতো কী।
এইসব শুনে ফারশীদ বাবাকে বলে বাবা এবার বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দাদার বাড়ি বেড়াতে যাবো। জামিল সাহেব বলে অবশ্যই যাবে বাবা। আমি চাই তোমারও একটা শৈশব থাকুক। ফারশীদ বলে উঠে ছবিতে বাঁধিয়ে রাখার মতো!
জামিল সাহেব ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বলে ঠিক বলছিস। এখন ভালো করে পড়ালেখা করো যাতে করে পরীক্ষায় ভালো করতে পারো। আর ভালো লেখা পড়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে। বাবা আমি জানি, তাই তো আমি মিথ্যা কথা বলিনা, বড়দের সম্মান করি, ছোটদের আদর করি, দুস্থদের সাহায্য করি।