কদম ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্রক পড়া লিকলিকে মেয়েটিকে না দেখলে আজও ভুলে যেতো বাদল রোমানার কথা। রোমানা সরকারি দলের দাপুটে মন্ত্রীর একমাত্র মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছে, সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্রী, থাকে মিন্টু রোডের সরকারি বাড়িতে।
বাদল রোমানার ক্লাস মেট, চালচুলোহীন গ্রামের সহজ সরল ছেলে। সহজ সরল হলে কী হবে উচিত কথা এবং সত্য কথা বলতে ও ভয়ডরহীন। এইচএসসির আগে ঢাকা শহর নিয়ে তার দৌড় পেপার, টেলিভিশনের খবর আর নাটক সিনেমায় সীমাবদ্ধ ছিলো।
কী রে বাদল কই যাছ, এই রকম হন হন করে? পিছন থেকে রোমানার প্রশ্ন শুনে রোমানার দিকে না ফিরে বাদল উত্তর দে কই আর যামু, টিউশনি ছাড়া তো কোথাও যাওয়ার নাই। চল আজ সিনেমা দেখি, সিনেপ্লেক্সে নতুন মুভি আসছে। নারে আজ না গেলে হবেনা।
চল গাড়িতে উঠ, আমি অনন্যার মাকে বলে দিবো। বাদল জানে রোমানা ফোন করে বলে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কারণ টিউশনিটা রোমানাই ঠিক করে দিয়েছিলো। করে অনন্যার কথা শুনে মুখ লালা হয়ে গেছে কেনো তোর। তুই না যা বলিস, শুন অনন্যার আমার ছাত্রী আমি ওর শিক্ষক এর বেশি কিছু নয়।
আচ্ছা মানছি এখন চল, গাড়ি করে নামিয়ে দিবো তোকে, বৃষ্টি আসতেছে। না গেলে চল আমরা যাই এতো জোর করছিস কেন, বেশি লাই দিলে এরা আবার মাথায় উঠে পাশ থেকে বলে উঠে শান্তা।
রোমানা বলে শুন শান্তা বাদল এমন নয় আমি ডাক দিলে হাজারটা ছেলে লাইন দিয়ে চলে আসতো কিন্তু দেখ ও আসতেছেনা। তা ঠিক বলছিস বলে সায় দে শান্তা। এমন সময় শান্তার একটা জরুরী ফোন আসে, শান্তা সরি বলে বিদায় নেয় রোমানার কাছ থেকে।
যাক রোমানার জোরাজুরিতে গাড়িতে উঠে বাদল, উঠে কেমন বিচলিত হয়ে বাদল বলে উঠে এই জন্য তোদের দামী গাড়িতে আমি উঠতে চাই না। ধম বন্ধ হওয়ার জোগাড়। এইগুলা গাড়ি না অন্য কিছু! রোমানা বুঝতে পেরে বললো ড্রাইভার গসড়ির জানালা খুলে দাও।
শান্তা না আসাতে রোমানার সুবিধায় হলো। অনেক দিন ধরে ভাবতেছে বাদলকে কিছু কথা শেয়ার করবে। ড্রাইভার গুলশানের দিকে যাও অনন্যাদের বাসায়। বাদলকে ড্রপ করে আসি।
বাদল কিছুটা হকচকিয়ে যায়। শুন বাদল তোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? কী আর মাষ্টারি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারলে মন্দ হতোনা। তোর হয়ে যাবে, তোর যা রেজাল্ট, তোকে ডেকে নিয়ে জয়েন করাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। যাক করালেতো বেঁচেই যাবো!
অনন্যাদের বাসায় ড্রপ করে রোমানা চলে আসে ওদের বাসায়। আসার সময় তার প্রিয় ছাতাটা দিয়ে আসে বাদলকে। তোর দামি ছাতা আমাকে মানাবেনা বলে উঠে বাদল। এখন থেকে মানানোর জন্য অনুশীলন কর একথা বলে চলে যায় রোমানা।
টিউশনি শেষে ছাতা মাথায় করে মেছে ফিরে বাদল। আসতে আসতে ভাবে রোমানা কী তাকে মাথায় নিয়ে চলার কথা ইঙ্গিত করছে নাকি!!
বাদল রেকর্ড মার্কস পেয়ে ডিপার্টমেন্টে জয়েন করার দিন দুয়েক পরে ফোন আসে রোমানার। কিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে ছাতাটার কথাতো ভুলেই গেছত সাথে আমার কথাও। কী যে বলছ না!! শুন না ভুললে আজ দুপুরে আামদের বাসায় চলে আয় তোর প্রিয় ইলিশ মাছ রান্না হবে। আচ্ছা ঠিক আছে। ঠিক আছেনা আমি তোর জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিবো। ওকে বলে রেখে দিলো বাদাল।
দুপুরে খাওয়ার টেবিলে পরিচয় হলে রোমানার মন্ত্রী বাপের সাথে। যদিও টিভিতে অনেকবার দেখেছে কিন্তু সামনা সামনি এইবারই প্রথম। যাক বাদল তার মতে স্বাভাবিক। তো বাদল কী খবর তোমার? মন্ত্রীর কথায় খাওয়ার মাঝে ছেদ পড়লো। এই তো চাচা চলে যাচ্ছে, মাত্র জয়েন করলাম, আরো পড়ালেখা করতে হবে। বিদেশে গিয়ে পিএইচডি করতে চাই। বাহ ভালো তো। শুনো আমি খুশি হইছি তুমি আমাকে চাচা ডাকাতে। তোমাকে দিয়েই হবে। যদি স্যার বলতে তাহলে তোমারে আমি বাসা থেকে বের করে দিতাম। রোমানা তোরতো পছন্দ আছে, ভেরি গুড। শুনো বাদল নীল ছাতাটা ও তোমার সাথে ছাতার মালিকও তোমার।
এমন সময় বাহিরে ঝুম বৃষ্টির শব্দে রোমানা বলে দেখো বাবা কী সুন্দর বাদল দিন! এই শহরে প্রতিদিন এমন বৃষ্টি আসুক, হোক সেটা মায়ার বৃষ্টি কিংবা ভালোবাসার, কী বলো বাদল?
Source Pixabay