খোয়াব

Words
369
Reading
2 min
6y

সকাল ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে সে বৃষ্টিতে অঝোরে ভিজতেছে দেবদারু গাছটি, খানিক দূরে অশ্বথ গাছটি ও পাল্লা দিয়ে ভিজছে। রুপা বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে মেঘেদের কান্না দেখছে সাথে গাছদের কান্নাও। অথচ একজন মানুষ এক জনমে এই রকম হাজার কোটি কান্না পোষে। সে কান্না নিরবে কাঁদে, কখনো শব্দ করে, কখনো সবাই কাঁদে একসাথে। কান্নার এই এক দোষ সব সময় সংক্রমণ করে থাকে পাশে থাকা সকলকে।

রেলিং ধরে আনমনে হয়ে দেড় বছর আগের কথা ভাবতে থাকে রুপা। কী সুন্দর সময় কাটছে তার আর বাদলের সম্পর্ক অনেকটা বর্ষায় বৃষ্টিতে ভেজা মেহগনি গাছের কঁচি পাতার মতো স্নিগ্ধ ছিলো।

দেড় বছর আগে বাদল হঠাৎ করে কোথায় যেনো উধাও হয়ে যায়। রুপার বুঝতে অসুবিধা হয়না যে তার বড়লোক বাবা তাদের সম্পর্কে ফাটল তৈরি করছিলো।

রুপা এদিকে আয়তো মা, রেহানা বেগম ডাক দে ডাইনিং রুম থেকে। মা আসছি, রুপা উত্তর দে। দেখ আজ কফিটা অন্য দিনের চেয়ে আলাদা না? কফির মগ রূপার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে রেহানা বেগম বলে।

আগেতো কফিটায় চুমুক দি তারপর না হয় বলি রুপা মাকে উত্তর দে। শুন গন্ধ শুনে বুঝতে পারিস না রেহানা বেগম পাল্টা প্রশ্ন করে। মা, শুনো সব কিছুরই একটা স্বাদ আছে, তা তুমি চুমুক না দিয়ে, না খেয়ে, বা কোন কিছু না করে বুঝতে পারবেনা। এযে দেখো মানুষের জীবন, তা যদি তুমি চুমুক না দাও, না ফেইস করো তা হলে কী করে বুঝবে জীবন কী?

হইছে আর জ্ঞান দিতে হবেনা। এখন কফি খা। শুন রুপা আজ একটা দারুণ স্বপ্ন দেখছি। এখন বলো কী দেখছো এতো বনিতা করতে হবেনা!

কলিং বেলের শব্দ শুনে দরজা খুলতে গিয়ে দেখি দাঁড়িওয়ালা একটা লোক বলে রুপা আছে বাসায়। আমি বলি আপনি কে? লোকটি বলে আমি বাদল। বাদল! আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে রই তার দিকে। আমার বিস্ময় দেখে বাদল বলে মা আমিই বাদল।

এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন? আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে, আমি ভাত খাবো, ইলিশ মাছ থাকলে ভেজে দেন বড় দেখে দু পিস। ওর কথা শুনে আমার মনে চৈতন্য ফিরে আসে। তারপর কী হলো বলোনা, রুপা মাকে তাড়া দে।

আমি মাছ ভেজে দি, বাদল অনেক তৃপ্তি নিয়ে তিন প্লেট ভাত চালান করে দে অনায়াসে। খাওয়ার পর বলে আমি রুপার রুমে যাচ্ছি তুমি তিন মগ কফি নিয়ে আসো।

কফির মগ নিয়ে হাঁটতে গিয়ে ঘুম ভেঙে যায়। এমন সময় মসজিদে ফজরের নামাজের আজান দে। শুন ভোরের স্বপ্ন সত্য হয়। তা যেনো হয় মা, রুপা উত্তর দে।
Source Pixabayobd2ub.jpg

খোয়াব | Ecency