যেদিন থেকে মুসলিম রা জ্ঞান চর্চায় পেছাতে শুরু করেছে, সেদিন থেকে মুসলিমদের দূর্দশা তীব্র আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। আর এই যে আমরা জ্ঞান চর্চা থেকে দিন দিন দুরে সরে যাচ্ছি এটাও কিন্তু মুশরিক দের একটা বড় ষড়যন্ত্র । আমরা দিন দিন মূল ধারার জ্ঞান চর্চা থেকে নিজেকে দুরে সরায়ে নিয়ে দাসত্ব বরণ করার জ্ঞান চর্চা শুরু করেছি। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র গুলোতে যে শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান , সেটা প্রত্যেক মুসলিম কে মূলধারা ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে আর আমাদের কে মুশরিকদের দাসে পরিণত করছে। যার ফলে আমরা মুসলিমরা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য জ্ঞান গরিমা ভুলতে বসেছি, নিজেদের আসল পরিচয় ও হারাতে বসেছি। যেদিন থেকে আমরা মুসলিম রা নিজেদের স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়েছি, মুশরিকরা আমাদের হাতের পুতুল বানিয়ে খেলা শুরু করেছে। এই অবস্থা থেকে মুসলিমদের বাচতে হলে তাদের কে মূলধারার ইসলামিক জ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করতে হবে। আর আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সেটা কখনোই সম্ভব না। এই অবস্থা থেকে একদিনে উত্তরণ সম্ভব না। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে একদিনে ছুড়ে ফেলাও সম্ভব না। সুতরাং আমাদের উচিৎ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি গত ভাবে মুলধারা ইসলামিক জ্ঞান চর্চা বজায় রাখা। তাহলে অন্তত আমরা ইসলাম থেকে সেক্যুলারিজমের দিকে ঝুকে পড়ার যে স্রোত আমাদের মধ্যে আছে সেটা থেকে রেহায় পেতে পারি । এই জ্ঞান চর্চা আপনাকে নিজে থেকে শুরু করতে হবে এবং খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন কেউ আপনাকে কোন রকম দ্বিধাদ্বন্দে না ফেলাকে পারে । এর আগের এক পোস্টে আমি বলেছিলাম বর্তমান পৃথিবীকে কোরারে বক্তা অনেক থাকবে , সুললিত কন্ঠে কোরান পড়ার মত মানুষ অনেক থাকবে । কিন্তু প্রকৃত আলেম থাকবে না। এই টা একটা বড় ফিতনা । যেহেতু কে বা কারা মুলধারা ইসলামের মধ্যে আছে সেটা বুঝা এখন অনেক কঠিন তাই এই জ্ঞান চর্চা আমাদের প্রত্যেক কেই ব্যক্তিগত ভাবে করতে হবে।
সুতরাং কেন আপনার মূলধারার ইসলামিক জ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করা জরুরি???
এখন আপনাদের কয়েকটা হাদিসের উদ্ধৃতি দিই।
***হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিত ---কেউ তাকে একদিন জিজ্ঞেস করে যে , কোন ধরনের ফিতনা সব থেকে মারাত্নত এবং ভয়াবহ? জবাবে তিনি বলেন,যখন তোমাদের অন্তরে কল্যাণ এবং অকল্যাণ পেশ করা হবে আর তুমি কোনটি গ্রহণ করবে তা নিয়ে দ্বিধাদন্দে পতিত হবে। ( কিতাব আল ফিতান। হাদিস নংঃ১১৯)
***হুযাইফা ইবনে শুরাহবিল বলেনেএকদিস মাসুদ আনসারি (রাঃ)
বিশিষ্ট সাহাবি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) কে বললেন এমন কোন বিষয় সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিন যার পর আমরা তার উপর আমল করতে পারি।হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) তখন বলেন নিশ্চয় পরিপূর্ণ পথ ভ্রষ্টতা হচ্ছে , যখন তুমি অসৎ জিনিস কে সৎ মনে করবে আর সৎ বিষয় কে অসৎ মনে করবে। অতঃপর তুমি পর্যবেক্ষণ করবে আজকে কিসের উপর রয়েছো। পরবর্তীতেও সেটাকে আকড়িয়ে ধরবে । তখন কোন ফিতনা তোমরা কোন ক্ষতি করতে পারবে না। ( কিতাব আল ফিতান। হাদিস নংঃ১৩৪)
আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) কে সবচেয়ে কঠিন ও মারাত্নক ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যখন তোমার অন্তরে ভাল ও খারাপ বিষয় পেশ করা হয় আর তুমি সংশয়ের মধ্যে থাক যে কোনটা গ্রহণ করবে । তখন ই মনে করবা যে তুমি কঠিন ফিতনার সম্মুখীন হয়েছো।( কিতাব আল ফিতান। হাদিস নংঃ১৩৫)
উপরোক্ত হাদিস থেকে এটা স্পষ্ট যে আমার মত বোকা নির্বোধরা কখনোই বুঝতে পারবে না যে আমরা ফিতনাই ডুবে আছি , যদিনা আমরা এই সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখি। সুতরাং আমাদের নিজেদের কে বাচানোর জন্য হলেও ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখা জরুরি। শুধু এই একটা বিষয় ই না , পৃথিবী ও আখিরাতের হাজার টা সমস্যা বাধা বিপত্তি দূর করতে , সঠিক উপায়ে ইসলাদের মধ্যে থাকতে আমাদের অবশ্যই সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি।
সুতরাং আপনি যদি মুসলিস হন , মূলধারার ইসলামের ইসলামের মধ্যে থাকতে চান, প্রকৃত দীনদার হয়ে দুনিয়া ছেড়ে যেতে চেষ্টা করেন , বর্তমান এই ফিতনার জগতে হাজার রকমের ভয়ঙ্কর ফিতনার ছোবল থেকে বাচতে চেষ্টা করেন তবে আপনাকে অবশ্যই মূলধারা ইসলামিত জ্ঞান চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে , সে আপনি যে অবস্থায় ই থাকেন না কেন।
সিদ্ধান্ত আপনার , নিজেকে ভয়ঙ্কর দুনিয়াবি ফিতনা ও আখিরাতের কঠিন আযাব থেকে রক্ষার চেষ্টা করবেন কি না?
আল্লাহু আকবার।
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ দেখান। ( আল্লাহু আমিন)