করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর বাইরে
যাওয়া হয় না বললেই চলে । বাইরে যাওয়ার মধ্যে বাজার আর ওষুধ কেনা । অফিস করছি বাসা থেকেই । অফিস খুলেছে ১মাস কিন্তু গিয়েছিলাম ৫/৬ দিন । অফিস থেকেও বলে দিয়েছে খুব জরুরি কাজ না থাকলে না আসতে । অফিস থেকেই বলেছে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে । এটাই একটা মানসিক শান্তি ।
করোনা আক্রান্ত ১ লাখ এর বেশি, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে ৪ হাজার এর কাছাকছি । মারা যাচ্ছে ৪০ এর মত । এইটা হলো সরকারি হিসাব । সবাই জানে আক্রান্ত এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি । সরকার হয়ত ইচ্ছা করেই আসল সংখ্যাটা প্রকাশ করছে না । মানুষ যেনো আতঙ্কিত না হয় কিন্তু আসল সংখ্যাটা আসলেই জানা খুব জরুরী । সবকিছু লুকিয়ে রাখতে হয়না, কিছু কিছু ব্যাপার প্রকাশ করতে হয় । সেইটা যতই খারাপ হোক না কেনো। মানুষ যদি আসল সংখ্যাটা জানত তাহলে আরো অনেক সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়মকানুন মেনে চলত । এখন তো খুব কম সংখ্যাই নিয়মকানুন মেনে বের হচ্ছে। যেইটা খুব আতঙ্গজনক । দিনের বেলা বাইরে গেলেই সেইটা খুব ভালোভাবেই বোঝা যায় । বাইরে গেলে মনে হয় সবকিছু খুব স্বাভাবিক । মানুষ তুলনমূলকভাবে কম কিন্তু সেইটা দেখে খুব একটা বোঝা যায়না ।
অফিস থেকে ফেরার পথে এই ছবিটা তুলে ছিলাম । আকাশ বেশ পরিষ্কার । একটু মেঘলা মেঘলা পরিবেশ ।
এর ঠিক বিপরীত চিত্র রাতের । আমি রাতে খুব একটা বাইরে যাইনা । আমার সন্তান বাইরে যায়না ৩ মাস এর বেশি সময় । তাই একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম রাতে বের হবো । মানুষ কম থাকবে । তাই রাতের খাবার খেয়ে আমি, আমার স্ত্রী আর সন্তান বের হলাম রাত ১১:৩০ টার দিকে । বের হতেই দেখি গলির মধ্যে ৪/৫ জন গল্প করছে । আর একটু সামনে যেতে দেখলাম আরো ৩/৪ জন খুব হাসাহাসি করছে । খুব অবাক হলাম। এত রাতে গল্প করা দেখে । গলি শেষ করে রাস্তায় এসেই মনটা ভালো হলো । রাস্তায় মানুষ নেই বললেই চলে । খুব কম যানবাহন চলাচল করছে । কেমন যেনো একটা নিস্তব্দতা । বেশ ভালই লাগলো ।
কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম এই নিস্তব্দতা আমার আর ভালো লাগছেনা । কোলাহল মুক্ত পরিবেশ আমায় শান্তি দিতে পারছেনা। আমি নিজেই একটু অবাক হলাম । মনে হলো যান্ত্রিক এই শহরে যন্ত্রের শব্দ শুনে শুনে আমি এতটাই অভ্যস্ত হয়েছি যে শব্দবিহীন পরিবেশ আমার আপন মনে হলো না বা ভালো লাগলো না বেশিক্ষণ। বুঝলাম যন্ত্রের শব্দ আমার রক্তে বেশ ভালো ভাবেই ঢুকেছে । আমার সন্তানের দিকে তাকালাম । পাশে থাকা একটা ভ্যানের উপর ও দাড়িয়ে সবকিছু দেখেছে । ও দৌড়াদৌড়ি করতে চাইলো কিন্তু আমরা খুব একটা করতে দিলাম না। রাস্তা এতটাই ফাঁকা যে একটা ভয় কাজ করছিল । কি কি যেনো ভাবলাম, মনের অজান্তেই । এমনিতে আমার মাথায় ৭/৮ টা চিন্তা চলতেই থাকে । আমার বউ এর খুশি দেখে ভালই লাগলো। ও বেশ উপভোগ করছিলো । বেশ কিছুক্ষন আমরা বাসায় ফিরতে চাইলাম কিন্তু ছেলে কোনোভাবেই যাবে না। তাই আর কিছুক্ষন থেকেই বাসায় ফিরছিলাম তখন আসার সময় যাদের দেখেছিলাম তাদের আবার দেখতে পেলাম ।
মানুষের বাইরে যেতেই হবে। আমাদের ওই সম্পদ নাই যে বসে বসে মাসের পর মাস খাবো । কিন্তু সেইটা তো একটু নিয়ম মেনে করা যেতে পারে। বাড়ির বয়স্ক ও সন্তানদের কথা ভেবেও তো সাবধানতা মেনে চলা উচিত, তাই না?
লেখাটি ভালো লাগলে জানাবেন ।
বাসায় থাকার চেষ্টা করেন, সুস্থ থাকবেন।
ধন্যবাদ ।