গত সপ্তাহে আমরা আমাদের অতীতের আড্ডা নিয়ে কথা বলেছিলাম, সবাই সবার শৈশবের সৃতিগুলো আরেকবার মনে করেছি, কেউ বা শেয়ার করেছে তাদের জীবনের সুখের মূহুর্তগুলো, কেউ বা আবেগপ্রবণ হয়ে শেয়ার করেছে তাদের শৈশব-কৈশরের গল্প। কিন্তু আজকে আমি এখানে এসেছি আমার পাড়া নিয়ে, পাড়া মানে হচ্ছে আপনার এলাকা, আপনার বাসস্থানের আশপাশ যেখানে আপনি বসবাস করেন, ঘুম থেকে উঠেই যার মুখ আপনি দেখেন যার শিতল বাতাস আপনি গ্রহণ করেন সেটাই হচ্ছে আমাদের পাড়া। পাড়া নিয়ে লিখলে সারাদিন লেখা যাবে, তবে আমি যেহেতু অনেক জায়গায় থেকেছি, অনেক শহর নিয়ে আমার বেড়ে উঠা সেহেতু আমি আজকে আমার জন্ম যেখানে সে পাড়া নিয়েই আলোচনা করবো।
এই পোস্টি BDCommunity Writing Contest - Week 3 এর জন্য লেখা, দুই সপ্তাহ থেকে
এর হাত ধরে
এর মাধ্যমে তারা একটি সাপ্তাহিক রাইটিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে, যেখানে সম্মানিত জাজ হিসেবে রয়েছে আমাদের
দাদা। যদিও প্রথম সপ্তাহে আমি অংশ্রহণ করতে পারিনি, কিন্তু গত সপ্তাহে মানে সপ্তাহ - ২ এ আমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং আমি কল্পানাও করিনি যে
দাদা আমার পোস্টি এত গুরত্বসহকারে পড়বেন এবং শির্ষ পাঁচ স্থানে রাখবেন, ধন্যবাদ দাদাকে, দাদার মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমাদের সাথে থাকার জন্য। যারা গত সপ্তাহের পোস্টি পড়তে চান তাদের জন্য Describe Your Best Adda Ever : আড্ডার জন্য শৈশবে ফিরে যেতে চাই!
আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই
এক সাথে খেলি আর পাঠশালাতে যাই৷
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ৷
পাড়ার বর্ণনা দিতে গেলে প্রথমে গ্রাম আসে কেননা গ্রামের মাঝেই পাড়ার অবস্থান, আর গ্রামের কথা আসলেই আগে যা কানে আসে, তা হচ্ছে "বন্দে আলী মিয়ার" সেই আমাদের "ছোট গ্রাম" কবিতাটি। কবিতার প্রত্যেকটা লাইন যেনো আমার পাড়ার বর্ণনা, আমার গ্রামের বর্ণনা। যেহেতু আমার গ্রামে জন্ম সেহেতু নামকরা কোনো কিছু এখানে উল্লেখ করতে পারছি না, তবে আমাদের গ্রাম নিয়ে গর্ব করার মত অনেক কিছুই রয়েছে, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে -
আমরা তখন খুব ছোট তখন আমাদের পাড়ায় লাঠি খেলার আয়োজন করা হতো, আর সে লাঠি খেলা ছিলো আমাদের পাড়া (গ্রামের) বিখ্যাত খেলা, সে খেলায় অংশগ্রহণ করতো হরেক গ্রামের মানুষ আর একজন ঢুলি যার কাজই ছিলো লাঠির তালে তালে বাজনা বাজানো। আর আমরা ছিলাম সেই খেলার দর্শকের স্থানে, একটু কি আন্দাজ করতে পারেন কতটা আনন্দ আমরা সেসব খেলা দেখে পেতাম? না করতে পারলে ভিডিওটি আপনার জন্য
কিন্তু দাদা, নানা, আগের মানুষজন দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে চলে যাবার কারণে এসব খেলা বিলুপ্ত প্রায়।
এটা ছিলো সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় যে বর্ষার সিজন আসার আগে প্রত্যেক পাড়ায় ফুটবল উৎসব হতো। আর সেসব উৎসবে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলতো যেসব খেলা তারমধ্যে অন্নতম হচ্ছে "বিবাহিত বনাম অবিবাহিত" ফুটবল ম্যাচ। যদিও সব পাড়ায় এসব খেলা হতো কিন্তু আমাদের পূর্ব পাড়ার খেলার মত এত উত্তেজনা/আনন্দ কোনো পাড়ায় ছিলো না। আর সেইসব খেলার প্রাইজ কি তা শুনলে আপনারা নিজেরাও হাসবেন আমাকেও হাসাবেন, শেষবার যখন বাঘে-বইসে লড়াই হয়েছিলো তখন তার প্রাইজ হিসেবে ছিলো দুইটা দেশী মুরগী আর একটা পাঙ্গাস মাছ 😂 তবে এখনো এসব খেলা হচ্ছে কিন্তু আগের আমেজ আর পাওয়া যাচ্ছে না, একশো, পাঁচশত টাকা এখন আর কোনো টাকা না। তাই টাকার কাছে সব আমেজ বিলিন হয়ে গেছে।
বর্ষা শেষে যখন পানি কমতে থাকে তখন সবার ঘরেই দেশী মাছের উৎসব চলে, এমন ফ্যামিলি পাওয়া যাবে না যার বাসায় এসব মাছ থাকে না। কারণ দেশী পুঁটি মাছের প্রতিও মানুষের একটা আলাদা টান থাকে। আর সে কারণেই সবাই পানি কমার সাথে সাথে মৎস উৎসবে মেতে উঠে, কেউ জাল দিয়ে মাছ ধরে, কেউ বা আবার ছাই দিয়ে। তবে সবচেয়ে দামি এবং সুস্বাদু মাছ পাওয়া যায় সেঁছে, মাগুর, কঁই, টাকি, ট্যাংরা এসব আমাদের পাড়ার বিলের বিখ্যাত মাছ। তবে এসব যে সবাই করে না এটা সত্য, কিন্তু অধিকাংশ লোকই মাছের লুভ সামলাতে পারে না।
লেখাটি নিজের সহজ এবং নিজের ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি, অনেক জায়গায় আঞ্চলিক ভাষাও ব্যবহার করেছি তাই ভুলভ্রান্তি ক্ষমা মার্জনীয়।