শেষ কবে আপনি রূপকথার গল্প শুনেছেন? আমাদের তো আর সকলের ঠাকুমা, দাদী, নানি বেঁচে নেই যে, তাদের সাথে বসে রসিয়ে রসিয়ে গল্প শুনব। কত জনের তো আবার তাদেরকে দেখারও সৌভাগ্য হয়নি। সেই শৈশবে যখন আমরা ঘুমাতে চাইতাম না তখন আমাদের মায়েরা আমাদেরকে শুনাতো রাজকন্যা, রাজপুত্র আর শিয়াল পন্ডিতের গল্প।
রাতে যখন আমরা একখানা বই দেখতাম তখন আমাদের চোখ ঘুমে ঢুলু ঢুলু হয়ে যেত। বই হাতে কখন যে আমরা ঘুমের রাজ্যে চলে যেতাম টেরই পেতাম না।
পক্ষান্তরে যখন আমরা ওই বইয়ের গল্পটি আমাদের নানি-দাদি মায়ের মুখে শুনতাম তখন আমাদের চোখে ঘুমোই আসতো না।
আমরা বলতাম -মা, আরেকটি গল্প শুনাও না!
বাংলা সাহিত্যের যে কয়জন লেখকের বইয়ের গল্প আমাদের নিরক্ষর নানি-দাদি ও মায়েরা জানতো তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। শৈশবে আমাদের ঠাকুমারা যে, তাদের গল্পের ঝুলি থেকে সব লোমহর্ষক গল্প বের করে একে একে আমাদেরকে শুনাতো, তার বেশিরভাগই ছিল এই রূপকথার রাজা দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের।
পূর্বে ফুপু, দাদা-দাদী, নানা-নানি ও আমাদের মায়েদের জীর্ণ-শীর্ণ ঘরের কেরোসিন প্রদীপের আড্ডায় আমরা শুনতাম, বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, হুতুম আর ভূতুমের গল্প।
আজ আমাদের মাঝে ওই ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়ানো রসিয়ে গল্প বলিয়ে মানুষ নানিজান, দাদিজান হয়তো বেঁচে নেই। আমাদের মাঝে আর বেঁচে নেই ওই সন্ধ্যা বেলার কেরোসিন প্রদীপের আড্ডা।
ওই আড্ডায় আমাদের নানি-দাদি বলতেন,
আবার
"পাই একহাজার সূঁচ,
তবে খাই তরমুজ।
সূঁচ পেতাম এক হাজার
তবে যেতাম হাটবাজার। "
এরকম সুন্দর সুন্দর উক্তির জন্য গল্পটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে।
কলাবতী রাজকন্যা, ঘুমন্ত পুরী, কিরণমালী, শাঁখচুন্নি, শিয়াল পন্ডিত, সাতভাই চম্পা সহ প্রতিটি গল্প-ই অসাধারণ রঙ্গ-রস আর অভিযানে ভরা।
আমার বিশ্বাস আপনি যদি গল্পগুলোর প্রথম আট-নয় লাইন পড়েন তাহলে সম্পূর্ণ গল্প পড়তে বাধ্য হবেন।
শেষে আমি বইটির 'সাতভাই চম্পা' গল্পের পারুল ফুল এবং চম্পাফুলের কথোপকথন দিয়ে শেষ করছি....
পারুল ফুল- "সাতভাই চম্পা জাগরে!"
চম্পা ফুল- "কেন বোন, পারুল ডাকরে।"
পারুল ফুল-"রাজার মালী এসেছে,
পূজার ফুল দিবে কি না দিবে?"
সাত চম্পা-"না দিব, না দিব ফুল উঠিবে শতেক দূর
আগে আসুক রাজা তবে দিব ফুল।"