ঈদ মোবারক
আসসালামু-আলাইকুম
হ্যালো বন্ধুরা
আমি
@hayat221 বাংলাদেশ থেকে বলছি
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি।
আমি আজকে খেলাধুলা নিয়ে আলোচনা করব। খেলাধুলা করতে কার না ভালো লাগে। খেলাধুলা করলে মন শরীর দুটোই ভালো থাকে। আমার খেলাধুলার বিষয়ে হচ্ছে হকি।
🏌️ হকি 🏌️
,,ইতিহাস,,
যতদূর জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার বছর আগে পারস্য দেশে হকি খেলার মতো এক প্রকার খেলার প্রচলন ছিল। ফ্রান্সের লোকেরা "হকেট " নামে খেলা শুরু করেন । হকেট একটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ মেষপালকের লাঠি। আরো অনেক পরে ইংল্যান্ডের লোকেরা ফ্রান্সের কাছ থেকে এই খেলা শিখে হকে নাম দিয়ে খেলতে শুরু করে। ইংরেজি উচ্চারণ অনুযায়ী পরবর্তীতে এই খেলা হকি নামে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৪ সালে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন গঠিত হয। অলিম্পিকে পুরুষদের হকি শুরু হয় ১৯৬০ সালে এবং মহিলাদের হকি শুরু হওয়ার ১৯৮০ সালে। প্রথম বিশ্বকাপ হকি প্রতিযোগিতা শুর হয় ১৯৭১ সালে । ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন গঠিত হয়।
"আইনকানুন"
১. দৈর্ঘ্য: হকি খেলার মাঠের দৈর্ঘ্য ১০০ গজ এবং প্রস্থ ৬০ গজ।
২. প্রস্থ: মাঠের সকল রেখার প্রস্থ ৩ ইঞ্চি।
৩. লাইন: মাঠের বড় রেখাকে সাইড লাইন ও ছোট রেখাকে ব্যাক লাইন বলে।
৪. শুটিং সার্কেল: ব্র্যাক লাইন এর সমান্তরালে ১৬ গজ দূরে মাঠের মধ্যে ৪ গজ দৈর্ঘ্যের একটি রেখা টানতে হবে। এই রেখার দুই দিক থেকে টেনে ব্যাক লাইনের সাথে যুক্ত করে একটি অর্ধবৃত্ত আঁকতে হবে।
৫. ফ্লাগ পোস্ট: মাঠের প্রতি কন্যারে একটি করে ফ্লাগ পোস্ট থাকবে। ফ্লাগ পোস্ট এর উচ্চতা কমপক্ষে ৪ ফুট ও সর্বোচ্চ ৫ ফুট হবে।
৬. গোলপোস্ট: দুই খুঁটির ভিতরের দূরত্ব ৪ গজ এবং মাটির ওপর থেকে ক্রসবারের নিচ পর্যন্ত উচ্চতা ৭ ফুট। গোলপোস্ট ও ক্রসবারের রং সাদা হবে।
৭. নেট: নেট ক্রসবার ,গোলপোস্ট ,সাইড বোর্ড এবং ব্যাক বোর্ডের সাথে ঢিলা করে লাগানো থাকবে।
৮. বল: বলের ওজন ১৫৬ গ্রাম হতে ১৬৩ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। বলের রং সাদা হবে।
৯. স্টিক: ২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি রিং ভিতর দিয়ে চলে এলে স্টিকটি বৈধ বলে বিবেচিত হবে।
১০. খেলোয়াড়: প্রত্যেক দলে ১৬ জন খেলোয়াড় থাকবে। খেলা চলাকালীন ১১ জন মাঠে খেলবে বাকি খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকবে।
১১. আম্পায়ার: ২ জন আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করে থাকে।
১২. খেলার সময়: ২ অর্ধে খেলা শুরু হয়। প্রতি অর্ধের সময় ৩৫ মিনিট ও বিরতি ৫ থেকে ১০ মিনিট।
১৩. খেলা আরম্ভ: সেন্টার পাসের মাধ্যমে হকি খেলা শুরু হয়। বলটি পুশ বা হিট করে সেন্টার পাস করতে হয়।
১৪. অফসাইড: হকি খেলায় সাধারণত অফসাইড হয় না।
১৫. গোলকিপার: গোলকিপার হাত দ্বারা বল থামাতে এবং ধরতে পারবে ।
১৬. একজন খেলোয়াড় যা করতে পারবে না-:
ক. বল খেলার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনের দিকে স্টিক তোলা যাবে না।
খ. বিপক্ষ খেলোয়াড়ের হাত বা কাপড় ধরে রাখা যাবে না।
১৭. ফ্রি হিট করার প্রক্রিয়া-:
ক. বলটি অবশ্যই স্থির থাকবে,
খ. বলটি ইচ্ছাকৃতভাবে উঠিয়ে খেলা যাবে না।
১৮. পেনাল্টি কর্ণার মারার প্রক্রিয়া-: ব্যাক লাইনের উপর ১০ গজের চিহ্নিত স্থানে থেকে পেলান্টি কর্নার মারতে হবে।
১৯. পেলান্টি স্ট্রোক মারার প্রক্রিয়া-: গোল লাইন হতে মাঠের দিকে ৭ গজের চিহ্নিত স্থান থেকে পেলান্টি স্ট্রোক মারতে হবে।
"কলাকৌশল"
হকি খেলার মৌলিক কিছু কলাকৌশল গুলো হলো-:
"সোজা হিট"
বল শরীরের বাম দিকে রেখে আইনসিদ্ধ ভাবে স্টিক দিয়ে সজোরে আঘাত করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পাঠানোকে শো সোজা হিট বলে বলে। এই সময় বাম হাত দিয়ে স্টিকের অপরের অংশ ধরতে হবে। ডান হাত ,বাম হাতের নিচে সংযুক্ত থাকবে। উভয় হাতের মধ্যে ফাঁক থাকবে না। বলের ওপর দৃষ্টি থাকতে হবে।
"স্টপিং"
আগত বল আয়ত্তে আনা এবং পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে কৌশল প্রয়োগ করা হয় তাকে স্টপিং বলে। এ সময় বাম হাত দিয়ে স্টিকের উপরিভাগ এবং ডান হাত দিয়ে মাঝামাঝি অংশ ধরতে হবে। স্টিকের সমতল অংশ বলের দিকে ফেরানো থাকবে।
"পুশ"
বলের সাথে স্টিক লাগিয়ে কোনো শব্দ না করে বলটি মাটি ঘেষে গড়িয়ে দেয়াকে পুশ বলে। এ সময় বাম হাত দিয়ে স্টিকের উপরের অংশ ধরতে হবে। ডান হাতের সাহায্যে স্টিকের প্রায় মধ্যভাগ ধরবে। বাম পা সামনে এবং ডান পা পিছনে থাকবে। যারা বাম হাতে খেলবে তারা উল্টো ভাবে ধরবে।
"ফ্লিক"
যখন একটি স্থির বা গড়ানো বল পুশ করা হয় এবং বলটি হাটু পর্যন্ত উপরে উঠে তখন তাকে ফ্লিক বলে।
"স্কুপ"
একটি স্থির বা গতিহীন বলের নিচে স্টিক রেখে মাথার উপরের দিকে বল পাঠানোকে স্কুপ বলে।
"ড্রিবলিং"
বল সহ সামনে এগিয়ে যাওয়াকে ড্রিবলিং বলে। বিপক্ষকে ধোঁকা দেওয়া এবং বিপক্ষের গোলপোস্টের দিকে বল এগিয়ে যাওয়ার জন্য ড্রিবলিং একটি কার্যকর কৌশল।
আশা করি সবাইকে ভালো লাগবে আমার এই খেলা কে।
আবারো ধন্যবাদ সবাইকে,
Post#
@BDVoter
Best regards-
@hayat221
Please support me