শৈশবের কথা মনে পড়ে

Words
487
Reading
3 min
Listen
Play
6y

দিনটি কথা আমার মনে নাই,হবে হয়তো বছর খানেক আগে।নতুন নতুন ক্যামেরা চালাই।শখের বসে ক্যামেরা কেনা আমার।তখন খুব ভালো যে ছবি তুলতাম তা না,তবে তোলার জন্য অনেক চেস্টা করলাম।

হঠাৎ সকালে আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে ফোন দিলো চল মেলায় যাবো,সাথে তোর ক্যামেরাটা নিস।আমি ভাবলাম হ্যাঁ যাই মেলায় বসেই আছি।সাথে হাতের যে "চুলকানি" অন্তত ওটা কমানো যাবে,কারণ কোন কারণ ছাড়া বাসা থেকে ক্যামেরা নিয়ে বের হতে পারিনা।

তাই দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে বের হলাম মেলার উদ্দেশ্য করে।মেলায় গেলাম সবাই মিলে,গিয়ে ঘোরাঘুরি।ছেলেদের মেলা নামে এক পাশ থেকে আরেকপাশ।যত দোকান আছে হুদায় হুদায় দাম বলা আর মেয়ে দেখলে একটু একটু ভাব নেওয়া।

এইভাবে মেলায় কিছুসময় পার করলাম।মেলার পাশেই একটা ব্রিজ আছে সব ফ্রেন্ডরা বললো চল ওখানে যাই কিছু স্থির ছবি তোলা যাবে,তাই চলে গেলাম।যাওয়ার পর ছবি তুললে তুললে হঠাৎ দেখি একদল বাচ্চারা খেলা করছে।

তখনি মাথায় কাজ করলো এদের ছবিগুলো যদি ফ্রেম বন্দী করা যায় মন্দ হবে কি!তাই ওদের সামনে গেলাম।যাওয়ার সাথে সবাই আমাকে ঘিরে ধরলো।

অনেকে অনেক প্রশ্ন!
এটা কি?
কেমনে কি করে?
এটা কাম কি ভাই?
এটার নাম ক্যামেরা না ভাই?
এখান দিয়ে ছবি তোলে না?
মুই দেখছি এক জায়গায়,হেডা কি আপনার?

আসলে বয়টা হলো তাদের শৈশব আর জানার আগ্রহ অনেক আর নতুন একটা জিনিস বলে কথা।দেখেই মনে এর ভিতরে কি না কি আছে আল্লাই জানে,এটার কাজ কি?যদি আমার হতো আমার কাছেও থাকতো কতনা ভালো হতো।এইসব চিন্তা তাদের মাঝে।

আমিও তাদের এক এক করে উত্তর দিতে লাগলাম,উত্তর দিতেই দেখি বাকি পোলাপানগুলো কই যেন হারিয়ে গেলো।অবশেষে দুটি ছেলে ছিলো তাই হুট করে তাদের একটা স্থির চিত্র নিলাম।

অনেক আলাপন তাদের সাথে,কিসে পড়ে?বাসা কই?যা হয় আর কি একজন মানুষকে জানতে যা যা প্রশ্ন করা লাগে।সেইসবি করলাম আর কি।পরিচয় হতে হতে একসময় অনেক গভীরে চলে গেলাম,অবশেষে তাদের ৫ টাকা দামের নারিকেল আইসক্রিম খাওয়াইলাম,যদিও তারা খাবেনা।তাদের পিক তুলছি দেখে ওরা অনেক খুশি।

পরে চলে আসলাম আর কি ওদের কাছ থেকে,এইদিকে সন্ধ্যা নেমে গেছে বাসায় চলে আসলাম।বাসায় আসার পথে ভাবতে লাগলাম!এইরকম জীবন আমারো একসময় ছিলো,দাঁত ফোকলা।এই দাঁত ফোকলা নিয়ে কত কাহিনী,চালে উপর না দিলে নাকি চিকা নিয়ে যাবে এইসব অনেক হাস্যকর কাহিনী এখন মনে পড়লে নিজেকে ঐসময়ে যেতে খুব ইচ্ছা করে।

ওদের হাসি এখনো পবিত্র, কত মায়া হাসির মাঝে।কোন চিন্তা নেই খায় দায় ঘুমায় খেলে আর হাসে।সময়টা আমরাও পের করেছি তবে খুব করে যখন মনে পড়ে মনে হয় অনেক ভালো ছিলাম সেইসময়।যদি যেতে পারতাম।

কত লুকোচুরি খেলা এখনো বাকি আছে,কত গুলি গুলি খেলা এখনো বাকি আছে,কত দাঁত পড়া এখনো বাকি আছে,কত নেড়ে করা এখনো বাকি।

আহারে জীবন আমার,কোথায় কখন কীভাবে হারিয়ে গেলো নিজেও বুঝতে পারলাম না।

আবারো সেই বিকেল বেলার ফুটবল মাঠ,পাড়ায় পাড়ায় খেলা,এক টাকা করে সবাই দিয়ে একটা বল আর টেপ কিনে খেলা আবার কখনো কখনো খেলায় ঝামেলা লাগলে যার জিনিস তার নিয়ে যাওয়ার কত কথা।

সময়টা অনেক ভালো ছিলো তাই বুঝি আজ এই চার দেয়ালে মাঝে এখনো খুজি।একটা একটা করে দিন কেটে যায় আর অনেক বড় হই,সব কেন জানি ধূসর হয়ে যায়।

তবুও একটা জিনিস এখনো রাতে আমাকে ভাবায় "ওল্ড স্কুলের " একটা গান "আজ রাতে রুপকথা নেই"

যদি ফিরে পাই তোদের সবাইকে নিয়ে আবারো যাবো,ভালো থাকুক সকলের শৈশবের স্মৃতিগুলো।উপলব্ধি হোক প্রতিটি স্মৃতিতে!
DSC_0955-picsay.JPG

শৈশবের কথা মনে পড়ে | Ecency