মানুষ অসম্ভব সৃতিধর।
নব্বই বছরের একজন মানুষও তার ছেলেবেলার কথা মনে করতে পারে। মস্তিকের অযুত নিযুত নিওরোনে বিচিএ প্রক্রিয়ায় সৃতি জমা হয়ে থাকে।কিছুই নষ্ট হয়না।প্রকৃতি নষ্ট হতে দেয়না।অথচ আশ্চর্য,অতি শৈশবের কোনো কথা তার মনে থাকেনা।দু বছর কিংবা তিন বছর বয়সের কিছুই সে মনে করতে পারেনা।মাতৃগর্ভের কোনো সৃতি থাকেনা,জন্মমুহূর্তের কোনো সৃতিও থাকেনা. Image source
পেটের ভিতর কিভাবে বাচ্চা বড় হয় ...
পেটের ভিতর কিভাবে বাচ্চা বড় হয় ...(জন্মসময়ের সৃতিটা তার থকা উচিত ছিলো।এত বড় একটা ঘটনা অথচ এই ঘটনার সৃতি প্রকৃতি মুছে ফেলে।মনে হয় প্রকৃতির কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য এতে কাজ করে।প্রকৃতি হয়তো চায়না পৃথিবীর সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা আমরা মনে রাখি।
আমি যখন ঠিক করে ফেললাম ছেলেবেলার কথা লিখব, তখন খুব চেষ্টা করলাম জন্মমুহূর্তের সৃতির কথা মনে করতে এবং তারও পিছনে যেতে যেমন মাতৃগর্ভ।কিন্তু কোনো কিছুই মনে করতে পারলাম না।আসল ব্যাপার হচ্ছে, খুব পুরনো কথা আমার কিছুই মনে নেই।এখন যা বলবো আসলে তা হচ্ছে শোনা কথা।শোনা কথার উপর নির্ভর করাও বেশ কঠিন।একই গল্প দেখি এক এক জন একেক রকম করে বলেন।যেমন একজন বললেন,"তোমার জন্মের সময় খুব ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিলো"।
অন্য একজন বললেন কই নাতো, প্রচন্ড ঠান্ডা ছিলো এইটা খেয়াল আছে,ঝড়বৃষ্টি তো ছিলোনা।
আমার জন্ম ১৩ই নভেম্বর ১৯৯৬.শনিবার,রাত ১০টা ৩০ মিনিট।শুনেছি ১৩ সংখ্যাটি অশুভ।এই অশুভের সাথে যুক্ত হলো শনিবার। জন্মমুহূর্তে দপ করে হারিকেন নিভে গেলো।ঘরে রাখা গামলার পানি উলটে গেলো।জন্মের পর কাঁদতে হয় এটাই নিয়ম।চরপাশের রহস্যময় জগৎ দেখে কাঁদতেও ভুলে গেছি। নানি আমাকে কাঁদাবার জন্য পাচার মাঝে থাপ করে মার বসালেন।আমি জন্মমুহূর্তেই মানুষের হৃদয়হীনতার পরিচয় পেয়ে আকাশ ফাটিয়ে কাঁদতে লাগলাম।[Image source]
(নবজাত শিশু কাঁদলে পানি বের হয় না ...
ekushey-tv.com)
কান্নার শব্দ আমার নানাজানের কানে যাওয়ামাএ তিনি ছুটে এসে বললেন," ছেলে না মেয়ে"? নানিবরহস্য করবার জন্য বললেন মেয়ে মেয়ে।ফুটফুটে মেয়ে।নানাজান তৎক্ষনাৎ আধামন মিষ্টি আনার জন্য লোক পাঠালেন। যখন জানলেন মেয়ে নয় ছেলে -তখন আবার লোক পাঠালেন আদামন নয়,এবার মিষ্টি আসবে একমন।এই সমাজে পুরুষ এবং নারীর অবস্থান যে ভিন্ন তাও জানলাম জন্মলগ্নে।
নভেম্বর মাসের দুর্দান্ত শীত।Image source
গারো পাহাড় থেকে উড়ে আসছে অসম্ভব শীতল হাওয়া।মটির মালশায় আগুন করে সেক দিয়ে আমাকে গরম করার চেষ্টা করছেন।আশেপাশের বৌ-ঝিরা একের পর এক আসছে এবং আমাকে দেখে মুগ্ধ গলায় বলছে "সোনার পুতলা"।
এতক্ষণ যা লিখলাম সবেই শেনা কথা।মা-র কাছ থেকে সোনা।কিন্তু আমার কাছে খুব বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়না।কারন আমি ঘোর কৃষ্ণবর্নের মানুষ।আমাকে দেখে সোনার পুতলা বলে উচ্ছাস করার কিছু নেই।তা ছাড়া জন্মমুহূর্তের এতে সব কথা আমার মা'রও মনে থাকার কথা নয়। তর তখন জীবন সংশয়।প্রসববেদনায় টানা তিনদিন মুরগীর মতো ছটপট করেছেন।অতিরিক্ত রকক্ষরন হচ্ছিলো।পারাগায়ের মতো জায়গায় তাকে রক্ত দেবার কোনো ব্যাবস্থা ছিলো না।এই অব্স্থাতেও তিনি লক্ষ করেছেন,তার সোনার পুতলা গভীর বিস্ময়ে চারপাশের পৃথিবী দেখছে,কাঁদতে ভুলে গেছে,এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।আমার দারনা মা যা বলেছেন তা অন্যের কাছে "শোনা কথা"।