আসলামু আলাইকুম।
আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে আমার বন্ধুদের সাথে ঈদের ঘুরাঘুরির কিছু ছবি এবং একটি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করবো।
কেউ একজন বলেছিলো বন্ধুত্ব হচ্ছে একটা তেতুল এটা যতোই পুরাতন হয় ততোই এর আয়র্বেদ ক্ষমতা বাড়ে।
এবার ঈদে কোনখানে সে ভাবে যাওয়া হয়নি,মনস্থির করেছিলাম এবার আর কোনখানে ঘুরতে যাবোনা,এই ভেবে ২দিন বাসায় ছিলাম।
ঈদের ৩য় দিন আমার বাসায় ২জন বন্ধু এসে আবদার ধরলো বন্ধু চল কোনখানে ঘুরতে যাই,কিন্তু আমি তাতে রাজি হলাম না।তারা অনেক জোরাজুরি করলো তবু রাজি হলাম না। অবশেষে তারা বন্ধুত্বের দোহাই দিলো,বললো আমি নাকি তাদের বন্ধুই মনে করিনা,এই কথা শুনে আমাকে তারা দুর্বল করে দিলো,আমিও আর না বলতে পারলাম না। রাজি হয়ে গেলাম।
কিন্তু যাবো কয়?যখন তাদের প্রশ্ন করলাম, তখন তারা বললো আগে বের হ!
বের হয়ে বাড়ির সামনের মোড়ে গিয়ে দেখি আরও কয়েকজন বন্ধু আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা বললো, বন্ধু আমরা জানি তোর মন খারাপ,তাই আজ তোকে একটু নতুন জায়গা নিয়ে যাবো ঘুরতে,
তখন বুঝলাম বন্ধুত্বের মর্ম,তারা কেমনে বুঝলো আমার মন খারাপ?তখন একটা কথা মনে পড়লো সত্যিকারের বন্ধুরা আসলে কখনো হারায় না।তারা সুখে দুখে পাশে থাকে।
সবাই রওনা দিলাম।উদ্দেশ্য দিনাজপুরের রাবারড্রাম।
এটি দিনাজপুর শহর থেকে পূর্ব দিকে ফুলবাড়ি রোডে মোহনপুরে অবস্থিত। মোট ৮/৯ জন থাকার কারনে দুটো অটো আমাদের নিতে হয়েছিলো যাওয়ার জন্য।তবে রাস্তার খারাপ অবস্থার জন্য একটু কষ্ট হয়েছে যেতে।
অবশেষে রাবারড্রামে পৌছালাম,গিয়ে দেখি এক আশ্চর্য রকমের জায়গা। এখানে যেনো পানিরা এক নিদারুণ খেলায় মগ্ন থাকে।ক্যানেল দিয়ে পানি আসে আর সেই পানি রাবারে ধাক্কা খেয়ে স্রোতে নিচে ঠেলে পড়ে।অনেকজনে সেখানে গোসল করে যেনো এক অতৃপ্ত অনুভুতিকে পূর্নতা দিচ্ছে।
নিজেকে আর সামলাতে পারছিলাম না,ইচ্ছে করছিলো আমি গিয়ে পানির স্রোতগুলো গায়ে মাখি।কিন্তু পর্যাপ্ত কাপড় নিয়ে না যাওয়ার কারনে আর সেটা হলোনা।
এই পানির খেলা দেখার জন্য অনেক জনে সেখানে ভীড় করছিলো,কেউ বা গোসল করতে গেছে,কেউবা ছবি তুলতে, কেউবা নদীর বুকে পানির খেলা দেখতে।
আমরা সবাই মিলে চারপাশ ভালো করে দেখে আবার ফিরতি পথে রওনা দিলাম,
ফেরার পথে লক্ষীতলায় আমরা খাওয়ার জন্য থামলাম।
আগে এই লক্ষীতলার নাম অনেক শুনেছি,এই জায়গা টা নাকি হাঁসের সুস্বাদু মাংসের জন্য অনেক বিখ্যাত।তাই আমরা সবাই ঠিক করলাম হাঁসের মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার।
যা শুনছিলাম তা হুবাহু মিলে গিলো,এখানে হাঁসের মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে যেনো তৃপ্তি মিটে গেলো।অনেক সুস্বাদু খাবার এটা মানতে হবে।
খাওয়া শেষ করতে করতে বেলা ডোবার সময় হয়ে গেলো,এখন বাড়ি ফেরার পালা,রওনা দিলাম সবাই বাসার উদ্দেশ্যে,অবশেষে বাসা ফিরলাম সন্ধ্যা ৭টায়,সবাই অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম,তাই তাড়াহুড়া করে বিদায় নিতে হলো।
তাড়াহুড়োর ফিরে বন্ধুদের ধন্যবাদ দিতে ভুলেই গেছিলাম,রাতে চিন্তা করছিলাম আসলেই কি বন্ধুত্বের কোন সংঙ্গা হয়না,নাকি কেউ বন্ধুত্বের সংঙ্গা দিয়ে বন্ধুত্বগুলোকে ছোট করতে চায়না??