আমার ভাতিজা-(শোয়াইব মাহমুদ)

Words
462
Reading
3 min
Listen
Play
5y

আসলামু আলাইকুম।
কেমন আছেন সবাই।
আজকে আমি আপনাদের সাথে আমার একমাত্র ভাতিজা "শোয়াইব মাহমুদ " সম্পর্কে কিছু শেয়ার করবো।
1621929575082-01.jpeg

একটা বাড়িতে একটা ছোট শিশু থাকলে যে কি পরিমান আনন্দ হয় সে বাড়িতে, সেটা আসলে ছোট বাচ্চা না থাকলে বুঝা যায়না।তাদের হাসি,কান্না,কথা,সবগুলোয় যেনো একটি পরিবারকে ভালো রাখার উপমা।
IMG_20200508_140427.jpg

IMG_20200508_110001.jpg

যাইহোক আজ থেকে ২বছর আগের কথা, যে সময় আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিলো। হঠাৎ একদিন সকালে আমার ভাইয়ের ফোন।যদিও বাসা থেকে সকাল বেলা আমাকে খুব কমেই ফোন দেওয়া হয়।
ভাইয়ের ফোন রিসিভ করতেই বললো,"সুখবর আছে,তোর ভাতিজা হইছে।
কিন্তু তোর ভাতিজা তোর থেকেও বেশি কালো হয়ছে।"
বললো,পরীক্ষা শেষ করে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসিস।
received_2910418039185512.jpeg

এইদিকে সকাল বেলা ভাইয়ের ফোনের রিংটন বাজার সাথেই কিন্তু আমি বুঝে গেছিলাম যে,কিছু একটা সুখবর পাওয়া যাবে।
যদিও ভাবিকে ডেলিভারি করার সময় প্রয়োজনে আমার রক্ত দেওয়ার কথা ছিলো,কিন্তু পরীক্ষার জন্য থাকা হয়নি।
যাইহোক সকাল সকাল চাচা হওয়ার খবর পেয়ে ভালোই লাগলো।
পরেরদিন আবার ভাইয়ের ফোন, বললো তোর ভাতিজার নাম কি রাখবি ঠিক করলি কি?
আমি কিছুটা আচমকিয়ে উঠলাম,আমার মামার,চাচার,খালার সবারি ছেলে-মেয়ের নাম যেখানে আমার ভাইকেই বেশি দিতে দেখেছি,সেখানে তার ছেলের নাম দেওয়ার দায়িত্ব আমার উপর পড়বে সেটা শুনে কেমন জানি লাগছিলো।
পরে অবশ্য আমি একদিন সময় নিয়েছিলাম আমার ভাতিজার নাম রাখার জন্য।
পরিচিত এক আলেমের কাছে কিছু নাম নিয়ে সেখান থেকে শোয়াইব মাহমুদ নামটা আমারি দেওয়া।
received_278278049921519.jpeg

এরমাঝেই কয়েকদিন পর আমি বাসায় যাই,"শোয়াইব মাহমুদের"আকিকা অনুষ্ঠানে।
সেই ফাকে তাকে সরাসরি প্রথম দেখা।

আস্তে আস্তে "শোয়াইব মাহমুদ" বড় হতে লাগলো।
IMG_20210422_175951.jpg

IMG_20210505_172602.jpg

ছোট বাচ্চা প্রথমে মুখ দিয়ে কোনো শব্দ করলেও যেনো মনে হয় কিছু একটা বললো। আবার যখন আর একটু বড়ো হয় যখন কোনমতে মুখ দিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করবে তখন যেনো আরও বেশি খুশি লাগে।
এদিকে করোনার জন্য দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে গেলো। তাই আমাকে গ্রামের বাসায় ফিরতে হলো।
বাসায় এসে আমি হয়ে গেলাম "শোয়াইব মাহমুদের" খেলার সাথি।দিনের বেশিরভাগ সময়েই শোয়াইব মাহমুদ আমার সাথেই থাকে।
IMG_20210422_172445.jpg

IMG_20200524_174833.jpg

যখন কখনো সে আমাকে ছেড়ে তার নানুর বাসায় যায় তখন যেনো এক শূন্যতা অনুভব করি।

যাইহোক শোয়াইব মাহমুদের বয়স এখন প্রায় ২বছরের কাছাকাছি।এখন সে হাটতে পারে এবং দৌড়াতেও পারে।যদিও এখনো ভালোভাবে কথা বলতে শিখেনি সে।
তার কাছে গরু,ছাগল অনেক প্রিয় একটা জিনিস,গরুর সাথে খেলতে,গরু বা ছাগল দেখলে দৌড়ে সে ছুটে যায়।
IMG_20210525_153907.jpg

আমার মোবাইলে তার জন্য গরুর কাটুনের একটা আলাদা ফোল্ডার আছে। তার কাজ রোজ সেই কাটুন দেখা।
"শোয়াইব মাহমুদের" সামনে কোনো কাজ করলে সেটা সে শিখে যায়,যেমন তার সামনে যদি আপনি গাছে উঠেন তাহলে সে পরে ঠিকি ঐ গাছের কাছে গিয়ে উঠার চেষ্টা করবো।
সে মোটেও খেতে চায়না তার প্রিয় খাবারের তালিকায় আছে আইসক্রিম এবং দই।
এখন "শোয়াইব মাহমুদ" আমাদের পরিবারের একজন মৌলিক সদস্য।সে বাসায় না থাকা মানে যেনো বাসা মরুভুমির মতো হাহাকার হয়ে যাওয়া,তার দাদুর পানের বাক্র দিয়ে খেলা না করার এক সঙ্গী না থাকা। তার দাদীর পাশে গিয়ে কাজে হেল্প না করার সঙ্গী না থাকা।
IMG_20201108_171238.jpg

শোয়াইব মাহমুদ যেনো আমাদের পরিবারের অন্ধকার রাতের ঝমকালো এক বাতি।আর সেই বাতির আলো দিয়ে যেনো সারাজীবন আমরা চলতে পারি সেই প্রার্থনাই রাখি সবার কাছে।

আমার ভাতিজা-(শোয়াইব মাহমুদ) | Ecency