দানশীলতার সঠিক সংঙ্গা কি সেটা আমি সঠিক বলতে পারছি না। তবে এখনকার দিনের কিছু দানশীলতা দেখে আমার মনে কিছুটা দানশীলতার সংঙ্গার ব্যাপারে কিছুটা প্রশ্ন জেগেছে,আমার মনে হয় দানশীলতা মানে মনে হয় কিছু খাবার গ্রহিতাকে হাতে ধরিয়ে দিয়ে সামনে থেকে একজন ফোন ধরিয়ে কিছু ছবি তুলে নেওয়া,পরে সেই ছবি বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় দিয়ে তার নিচে ক্যাপসন দেওয়া "আজ অমুক কে অমুক জিনিস দিয়ে আসলাম"।
আমাদের দেশের দানের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেমন ধরেন ডিসেম্বর বা জানুয়ারী মাসে এককথায় ঠান্ডার সময় কিছু পাতলা কম্বল কিনে সেটা মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া।এইক্ষেত্রে আবার কিছু গরিবের লাভেই হয় তারা অনেক কয়জন দাতার কাছ থেকে প্রতি শীতে কমপক্ষে ৫/৬ টা কম্বল পায়,সেটা নিজেও ব্যাবহার আবার কয়েকটা জামাইয়ের বাড়িতেও পাঠায় আবার অতিরিক্তটা অনেক জন আবার বিক্রি ও করে দেয়।তবে এখনকার দিনে সবচাইতে মজার দান হয় দুই ঈদের সময়, সমাজের প্রভাবশালি লোকরা যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো এরা নিজেদের সম্মান বাঁচানোর ভয়ে আবার কিছু ডিজিটাল কায়দায় দান করে থাকে।এরা বাজারের কিছু নিদিষ্ট দোকান থেকে কম মূল্যের কিছু
শাড়ি কিংবা লুঙ্গি কিনে নিয়ে আসে।এবং পরে সেগুলো যাকাতের শাড়ি/লুঙ্গি বলে বিতরন করে। আমি জানিনা এরা এটা করে কি প্রমান করতে চায়?
এখন আসি কিছু বড় দাতাদের দিকে এরা আবার বড় বড় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি/বিশেষ অতিধি/সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ পায়।অনুষ্ঠানে যখন এদের কথা বলার পালা আসে তখন আবার এরা্ নানারকম দানের প্রতিশ্রতি দেয়।কিন্তু যখন তাদের কাছে সেটা নিতে যাওয়া হয় তখন আবার নানারকম অজুহাত দেখিয়ে কাল দিবো পরসু দিবো বলে দিনকাল অতিক্রম করে দেয়।রমজান মাসে বাংলাদেশে দাতার অভাব থাকে না।আপনি রমজান মাসে প্রতিদিন কমপক্ষে ১হাজার ইফতারি বিতরনের ছবি দেখতে পাবেন।আবার কিছু কিছু সেই ইফতারি বিতরনের প্যাকেটের উপর লেখা থাকে অমুক সংগঠন থেকে।
অনেকে হয়তো ভাবছেন আমার দানের ব্যাপারে এতো মাথাব্যাথা কেন আবার অনেকে ভাবছেন আপনি নিজে কয়টা দান করেন? তাদের উদ্দেশ্য বলি ভাই আমি দান বলতে কিন্তু অতো কিছু বুঝিনা,তবে আমি দান বলতে বুঝি একটি গরিব পরিবারকে এক বেলা অন্য দিয়ে সাহায্য না করে তাকে আমি একটা সঠিক কর্মসংস্থান করে দিয়ে সাহায্য করতে যাতে মানুষটা আর অন্য কারো কাছে কোনোদিন হাত পাততে না হয়,আপনি তাকে কয়দিন খাবারের ব্যাবস্তা করে দিবেন?সময় শেষে ঠিকিতো আপনি সরে আসবেন।তার থেকে কি এটা ভালোনা?
শীতে গরিবদের কম্বল বিতরন করছেন।অনেক ভালো কাজ।কিন্তু ২০০ টাকার পাতলা কম্বল গুলো না দিয়ে কি একটু মোটা কম্বলগুলো দেওয়া যায়না,?আপনার বাসায় ঠিকি দামি জিনিসটা কিনে রেখেছেন।আসলে আপনার দানের উদ্দেশ্যটায় খারাপ!আপনি দান করছেন এই জন্য যে আপনি আপনার এলাকায় দেখাতে জান আপনি গরিবের বন্ধু এবং দিনশেষে যেনো আপনি আপনার নামের শেষে লিখতে পারেন আপনি একজন সমাজসেবক!
ঈদের সময় যাকাত আদায় করা মুসলমানদের জন্য ফরজ!কিন্তু আপনি কম দামি জিনিস মানুষকে যাকাত হিসেবে দিচ্ছেন।এটা কি যাকাত হিসেবে আদায় হচ্ছে?ধর্ম কি মেনে নিবে এটা?
রমজান মাসে গরিবদের ইফতারি খাওয়াচ্ছেন..জানি ইফতারি খাওয়া লে সওয়াব আছে কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় ছবি দিলে কি সওয়াব পাওয়া যায়?মনে রাখবেন যারা কোনকিছু দান হিসেবে নেয় তারা পরিস্থিতির শিকার,তাদেরও মানসম্মান আছে তাদেরও পরিবার আছে।
আসলে আমরা চাইলেই সবকিছু বদলাতে পারি।পারি নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষকে ভালোবাসতে।বিশ্বাস করেন আপনি মানুষকে মন থেকে ভালোবেসে দেখেন কখনো ঠকবেন না।।সবায় ঠকালেও বিধাতা আপনাকে ঠকাবে না।আমরাই পারি সমাজকে আলোকিত করতে,সবার মাঝে ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে।
বিঃদ্রঃ যেগুলো লিখছি সেগুলো সবার ক্ষেএে প্রযোজ্য না।সমাজে এখনো অনেক ভালো মানুষ আছে যারা নিঃস্বার্থ ভাবে গোপনে দান করতে ভালোবাসে।তাদের প্রতি হাজারো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আমি একজন সাধারন মানুষ হিসেবে কিছু লেখার চেষ্টা করছি।ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন।