একটা টি-শার্ট কিনে দিবা?
-আমার টাকা নেই।
-আমি টাকা দেবো।
-আপনি টাকা দিলে সেটা আমি
কিনে দিয়ে লাভ কি?
-লাভ আছে, তুমি বুঝবেনা।
-কি লাভ আছে বলেন, বুঝবো কি না
সেটা পরে হবে।
-না মানে তুমি যেটা কিনে
দেবে তার মধ্যে তোমার ঘ্রাণ
থাকবে। মনে হবে তুমি আমাকে
জড়িয়ে ধরে রেখেছো।
-ফাজলামি করেন আমার সাথে?
আমি আপনার দোস্ত হই?
.
ভয়ে কুঁকড়ে গেছে ইমন। বুশরাকে ভয়
পাওয়াটা অবশ্য অনর্থক নয়। অন্য আট
দশটা মেয়ের মত স্বাভাবিক আচরন ওর
কাছ থেকে পাওয়া যায়না। বাসায়
বুশরার আরেকটা নাম আছে, কটকটি।
এরকম নাম সাধারনত স্কুলের একটি
বিশেষ প্রজাতির শিক্ষিকাদের
উপর বিরক্ত হয়ে পাজি ছাত্ররা
দিয়ে থাকে। কিন্তু বুশরার ছোট
ভাই আবির কোন পাজি ছাত্র না
হয়েও এরকম একটি নামের জন্ম
দিয়েছে। তবে স্কুলে বুশরার যে
নামটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা
পেয়েছিল তা হল বুশ। ইমন আপাতত
বুশের সামনে। খুব বেশি ভুল করে
ফেলেছে সে। ক্ষমা করার মালিক
আপাতত বুশ।
.
-রিকশা ডাকেন।
-রিকশা? কোথায় যাবে? টি-শার্ট
কিনতে?
-আপনার অন্তরে কি ভয় ডর বলে কিছু
নাই? এত্ত বেশি বোঝেন কেন?
-আছে! কিন্তু রিকশা নিয়ে কোথায়
যাবে সেটাতো বললেনা।
-জাহান্নামে যাবো, ডাকতে
বলছি ডাকেন।
.
রিকশায় চুপচাপ বসে আছে ইমন। বুশরা
ব্যাগ থেকে লিপগ্লস বের করে ঠোঁট
আবৃত করছে। ইমন লক্ষ করেছে বুশরা
বাঁকা চোখে ইমনের এক্সপ্রেশন
দেখছে। আপাতত ইমনের চেয়ে দু:খী
পুরো ঢাকা শহরে একটাও খুঁজে
পাওয়া যাবেনা। বুশরা কি জানি
কি ভেবে বসে তাই আর সেদিকে
তাকানোর মত সাহস হচ্ছেনা তার।
.
-সমস্যা কি?
-কই কোন সমস্যা নেইতো।
-এরকম আটোসাটো হয়ে বসেছেন
কেন?
-এমনি।
-আপনি জানেন আপনি একটা উজবুক?
-জানি।
-জানেন?
-হুম।
-তাহলে এমনভাবে বসেন যেন
আপনাকে উজবুক না মনে হয়।
-বুশ একটা!
-কি বললেন?
-কিছুনা।
-আমি শুনেছি আপনি বুশ বলেছেন।
-তাহলে জিজ্ঞেস করছো কেন?
-আপনি, আপনি একটা লাদেন।
-তুমি একটা ওবামা।
-আপনি, আপনি একটা হিটলার।
-তুমি একটা ক্লিনটন।
-কি? ক্লিনটন! আপনি একটা এরশাদ।
-তুমি একটা বিদিশা।
-তুই একটা বান্দর। এই মামা রিকশা
থামাও।
.
অবস্থা বেগতিক দেখে রিকশা
থামিয়েছে মামা ভদ্রলোক। বুশরা
একলাফে রিকশা থেকে নেমে হনহন
করে হেঁটে চলে যাচ্ছে। ইমন বসে
আছে রিকশায়। মুখে মিষ্টি হাসি
তার। মনে হচ্ছে খুব আনন্দ পেয়েছে
সে। এই আনন্দের উৎস অবশ্য
ভালোবাসা। ইমন জানে রাগী
মেয়েদের মন নরম হয়। বাইরে রাগ
দেখিয়ে বাসায় গিয়ে আয়নার
অন্তরালে এরাই বেশি কাঁদে। এরা
উপরে উপরে রাগ দেখালেও
ভিতরে ভিতরে ভালোবাসার
পাহাড় গড়তে থাকে। এই পাহাড়ে
উঠতে গেলে প্রতিদিন উজবুক হয়ে
থাকাটা ঠিক নয়, মাঝে মাঝে
লাদেন, হিটলার, এরশাদ কিংবা
বান্দরও হতে হয়।