প্রকৃতিও প্রতিবাদ করতে জানে🌺🌺

Words
521
Reading
3 min
Listen
Play
5y

আামাদের এলাকার নাম বর্তমানে ইসলামবাগ হলেও কিছু বছর আগেও এটি পরিচিত ছিল পালপাড়া হিসেবে। কারন এখানে অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করত। বিশেষ করে বেশি ছিল পালেরা। তো তাদের সময়ে ঘটা বিভিন্ন চমকপ্রদ ঘটনা এখনো ঝানা যায়। আমার আব্বুর মুখ থেকে শোনা একটি ঘটনা আজ শেয়ার করব আপনাদের সাথে।
যখন আব্বু ছোট ছিল তখন আমাদের বাড়ির পাশেই এক হিন্দু বাড়ি ছিল। ওই বাড়িতে আব্বুর বন্ধু কাদের আার তার পরিবার থাকতো। বাসায় কাদের,তার বাবা-মা, তার বৃদ্ধ দাদি আর দুইজন কাজের লোক ছিল। কিন্তু কাদেরের টাকুমা মানে দাদি যে কি জাঁদরেল মহিলা তা এলাকার সবাই জানত। তাকে সবাই জমের মতো ভয় করত। ফরসা, দশাসই চেহারা, কদম ছাঁট কাঁচাপাকা চুলের মাঝখানে এক গোছা টিকি।তার হাতে সব সময় জপের তলে আার মুখে অবিরাম বিশুদ্ধ গালাগালি থাকত। বাড়িটা সব সময় দম বন্ধ করে থাকত। কেবল যতক্ষণ উনি ছাদের ঠাকুরঘরে থাকত ততক্ষণ বাড়িটা একটু হাফ ছেড়ে বাঁচত। ঘটনা ঘটে ঠিক ঐ ঠাকুরঘরে। তার ঠাকুরঘর এক এলাহি কান্ড। ছাদের প্রায় বেশিরভাগ জায়গা তার ঠাকুরঘরের শামিল ছিল। ছাদের রেলিং ঘিরে ছিল শ'খানেক নানান ধরনের ফুলগাছ। কাদের কাকা আর আব্বু মাঝে মাঝে ছাদে খেলতে যেত, তবে ফুল ছেঁড়া বারণ ছিল। তিনি প্রতি সন্ধ্যায় কেত্তন করতে ঐ ছাদে যেতেন। তো ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ও তিনি যথারীতি খঞ্জনি বাজিয়ে আর তার গলার জোরে পুরো এলাকা কাপিয়ে ফেলছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ করে উনি চুপ করে যান। বাড়ির লোকজন ছাদে উঠে দেখে, উনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পরের দিন তিনি কাদের কাকার বাবাকে ওঝা ডাকতে বলেন।যা শুনে কাদের কাকার বাবা বলেন ভুতে ধরা লোক ওঝা ডাকতে বলছে... বেপারটা গোলেমেলে। ওঝা ডাকা হলো কিন্তু সে কিছুই খুঁজে বের করতে পারলো না। ঔ দিন সন্ধ্যায় বুড়ি আবার ঠাকুরঘরে যায়। কিন্তু ঠিক সেই আগের দিনের মতো বিকট চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এবার পুরো এলাকায় খবর পরে যায় যে ঐ বাড়ি ভুতপ্রেত আছে। কিন্তু পরের দিন ও ওঝা কিছু করে উঠতে পারে না। তা কাদের কাকার বাবা বুড়ির ওপর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেয়। সাথে কাদের কাকা ও আব্বু জোগ দেয়।
ওইদিন সন্ধ্যায় তারা বুড়ির পিছু নেয়। বুড়ি কাজের মেয়েকে সিঁড়িতে দার করিয়ে একাই টাকুরঘরে যায়। তারাও ফলো করে সিঁড়ির মাথায় গিয়ে চুপচাপ হয়ে দাড়িয়ে তাকে। বুড়ি ততক্ষণে শাখঁ-টাখ বাজিয়ে পুজোয় বসে পরে। আর নানান রকম মন্তর-টন্তর পড়তে থাকে। আশপাশের বাতাস সে সাঙ্ঘাতিক শব্দের কারনে যেন কাঁপতে থাকে। এসময়ে তারা তিনজন দেখে টবে গজানো নতুন জবা জাতীয় গাছটার ডালগুলো টান টান হয়ে দড়ির মতো বাড়তে বাড়তে বুড়ির গলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তখনই কাদের কাকার বাবা দৌড়ে গিয়ে বুড়ির খঞ্জনিটা কেরে নেয়। আর সাথে সাথেই ঐ এগিয়ে যাওয়া ডাল গুলো আস্তে আস্তে আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যায়। এটা দেখে তখন তারা সবাই ই অনেক হতবাক হয়। তারা জানতো না আসলে এর ব্যাখ্যা কী??

কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের বদৌলতে আমারা এর ব্যাখ্যা জানতে পারি। প্রায় ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে গাছের বৃদ্ধির ওপর মিউজিকের প্রভাব নিয়ে রিসার্চ হচ্ছে। রাশিয়া তেও হচ্ছে। টমকিন্স ও বাডে্র আজগুবি থিয়োরি বাদ দিলেও এটা ঠিক যে, আলোতে যেমন গাছের টিস্যু সাড়া দেয়, শব্দের নানান ভাইব্রেশনেও গাছ সারা দেয়।তাই ঐ বুড়ির ভীম গম্ভীর গলার চেচামেচির জন্য যে শব্দ হচ্ছিল তাতে ঐ জবা জাতীয় গাছটি বেশি সাড়া দেয়। তাই গাছটি এমন শব্দদূষণ বন্ধ করবার চেষ্টা করছিল😁। মানুষে তো কিছু করে না😆😆😆।

images.jpeg

Get this image on: Dreamstime.com | License details
Want to know where this information comes from? Learn more

প্রকৃতিও প্রতিবাদ করতে জানে🌺🌺 | Ecency