উপকার অথবা অনুগ্রহ মহৎ
মানুষের গুন,
পাইবে প্রতিদান তেমার এ উপকার এর
বড়িয়ে শতগুন। source
প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি Bdcommunity সকলের উপর কারন এই কমিউনিট তে না আসলে হয়ত গল্পলেখা বা লেখালেখির উপর এত আগ্রহ জন্ম নিত না।
গল্পে যাওয়া যাকঃ
প্রথম খন্ড
হ্যা এটাই মধুমতী নদী। আজ থেকে অনেক আগের কথা, তখন মধুমতি নদী পার হওয়া লাগত ফেরীতে করে। এখন আধুনিক সভ্যতার স্পর্শে ব্রীজ তৈরী হয়েছে তখন এরকম ছিল না। আমার বাসা যখন নদীর পাশেই, এবং তখনকার দিনে হাট বা বাজার বসত ফেরীঘাট এর পাশে। তো প্রতিদিন বিকাল এর মত সেদিন ও ফেরীঘাট আসলাম। হঠাৎ খুব চেঁচামেচির আওয়াজ তো আওয়াজ টা কোনদিক থেকে আসছে আচঁ করেই চোখ ফেরাতে দেখি"তিন থেকে চারজন লোক মিলে একজন ব্যাক্তিকে বেধড়ক পিটুনি দিচ্ছে "।আমি দেরি না করে হট্টগোল এর ভিতর গেলাম এবং থামানোর চেষ্টা করলাম প্রথমে যখন মুখের কথায় কাজ হল না গায়ের শক্তি তখন অবশ্য ব্যবহারে দ্বিধা বোধ করলাম না।পিটুনি খাওয়া লোকটার চেহার ততসময়ে মার এর তীব্রতায় পরিবর্তন হয়ে গেছে। যাই হোক মনে প্রশান্তি পেলাম এই ভেবে যাক দিনে একটা ভাল কাজ তো করেছি।লোকটা কে ডাক্তার এর চেম্বারে পৌছে দিয়ে ডাক্তার এর বিল টা ও পরিশোধ করলাম নিজ পকেট থেকে তার পর ফিরলাম বাড়িতে।
দ্বিতীয় খন্ড
বহুদিন চলে গেল,দেশে তখন স্বাধীনতা যুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে,হাহাকার এবং খাদ্যভাব তখন প্রতিটি মানুষের নিত্য সঙ্গী।দেশের সকলেই যখন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে সেখানে আমার পরিবার ও তার ব্যতিক্রম নয়।এর ভিতরেই বাবা অসুস্থ হলেন এবং পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন। পরিবারে অশান্তির ঘোর আধার নেমে আসল।তখনকার সময়ে গাড়ির চলাচল না থাকায়, একমাত্র বাহন ছিল গরুর গাড়ি। source
চেপে পড়লাম গাড়িতে আর যাত্রা করলাম শহরের উদ্দেশ্যে ।যাত্রা শেষ হল অপরাহ্ন কিন্তু সকল কাজ এর সমাপ্তি এবং রেখে যাওয়া টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে তুলতে সন্ধ্যা লগ্ন লেগে গেছে।যাই হোক সন্ধ্যার পর যে গরুর গাড়ি পাওয়া যায় না এটা আমার নেহাতি জানা ছিল না।কি আর করায় নিরুপায় হয়ে পদুকা চরন যুগল বাড়ির পানে অগ্রসর হইতে লাগলাম।হাটতে হাটতে গভীর রাত হঠাৎ শূন্য রাস্তায় চার পাঁচটি লুন্ঠন এর আলো।কিছু বোঋার আগেই তারা আমার টাকা গুলো নিয়ে আমাকে বেধে ফেলল।ততক্ষণে আন্দাজ লাগিয়ে ফেলেছি ডাকাতের খপ্পরে পড়েছি।কি আর করার মনে মনে ভাবছিলাম এমনিতে ই পরিবারের এই করুন দশা তার পর শেষ সম্বল গুলো ডাকাতি ও হবে।ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ডাকাত দের মধ্য একজন লন্ঠন এগিয়ে অনল আমার মুখের উপর এবং আমার নাম জিজ্ঞেস করল, উত্তর নাম দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে উত্তর করলাম।সে তখন তার মুখে প্যাচানো গামছাটা খুলো বলল আমাকে চিনতে পারছেন.?তখন সে বলল মনে আছে ফেরীঘাট থকে আপনি একজন কে বাঁচিয়ে ছিলেন।তখন ও ঠিক মনে করতে পারিনি কারন ডাকাতের ভয়ে তখন নিজের স্মৃতিশক্তি যে লোপ পেয়েছিল এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম।সে তখন আমার হাতের বাঁধন খুলে দিল এবং ডাকাতদের গরুর গাড়িতে আমাকে বসতে দিল।নামতে সময় আমার হাতে আমার টাকা দিয়ে বলল ভাই আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েচিলেন আপনার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।
মানুষের জন্য মানুষের করা উপকার কখনো বৃথা যায় না আসুন সকলে মানুষর সহযোগিতায় অগ্রসর হই।ভাল থাকুন ঘরে থাকুন।