হ্যালো আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আশা করি সবাই খুব ভাল আছেন।
আল্লাহর রহমতে আমিও খুব ভালো আছি।
ভুত এফএম হন্টেড বাই এয়ারটেল, শুরুটা ঠিক এভাবেই হয় , জানি না আপনারা কারা এই ভূত এফএম শোনেন, কিন্তু আমি এই ভূত এফএম এর অনেক বড় একটা ভক্ত , এই পর্যন্ত কোন এপিসোট বাদ গিয়েছে বলে আমার মনে হয় না, আমি প্রত্যেকটা এপিসোট যথারীতি শুনতে না পারলেও পড়ে আমি যখনই ফ্রি থাকি তখন ই শুনি , আর প্রতিটা এপিসোট আমি খুবই এনজয় করি , কেননা ভুত এফএম এর কাহিনী আমার খুবই ভালো লাগে, আর প্রত্যেকটা কাহিনী থেকে কয়েকটা কাহিনী হয় যেগুলো খুবই অস্বাভাবিক এবং খুবই ভয়ঙ্কর। আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি ভয়ঙ্কর কাহিনী শেয়ার করব, যা আমি এখান থেকে শুনেছি, আর যে কাহিনী শুনলে আপনাদের গায়ের লোম কাটা দিয়ে উঠবে, চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
ছোট্ট একটি গ্রামের কয়েকজন ছেলে পেলে , বয়স বিশ কি একুশ , তারা একদিন বাজি ধরল যে জঙ্গলের পাখি শিকার করতে যাবে, তাও আবার রাতের বেলায় , যে দুইজন বাজি ধরল তারা রাজি হয়ে গেল , তারা বলল ঠিক আছে তার বিনিময় আমাদের কি লাভবে ? অন্যরা বলল তার বিনিময়ে আমরা সবাইকে বলব তোমাদের অনেক সাহস, আর তার বিনিময় গ্রামে তোমাদের খুব নাম হবে , সে কথা শুনে তারা আর দেরী করলো না সে কথায় রাজী হয়ে গেলো , তারপর রাত বারোটার পর তারা দুজন মিলে জঙ্গলের উদ্দেশে রওনা হল , কিছুদূর হাঁটতেই তারা জঙ্গলের কাছে চলে এল , আমি বলে রাখি, সে জঙ্গলটি ছিল খুবই গভীর যেখানে দিনের বেলা মানুষ যেতেও ভয় পেত ,গ্রামের কোন মানুষই সেই জঙ্গলের আশেপাশে দিয়ে যেতো না , কেননা গ্রামের অনেক মানুষ এই সেই জঙ্গলে অনেক বিপদে পড়েছে তাই কেউ সেই জঙ্গলের আশেপাশে দিও কখনো আসা যাওয়া করত না।
তারা জঙ্গলে যেতেই বিভিন্ন রকমের পাখির সাউন্ড শুনতে পাচ্ছে, তাদের হাতে ছিল বন্দুক পাখি শিকার করার , তারা কিছুদূর হাঁটতে হঠাৎ তাদের মনে হচ্ছে তাদের পিছন পিছন কেউ যেন হাঁটছে , দুজনে পিছন ফিরে তাকাল দেখল না কেউ নেই , আবার হাঁটতে হাঁটতেই আবার তারা অনুভব করল তাদের পিছনে কেউ হাঁটছে কারণ জঙ্গলে শুকনো পাতার ওপর পায়ের চাপ পড়লে যে ধরনের মরমর শব্দ হয় সেই শব্দ তৃতীয় সাউন্ড হচ্ছে তাই তারা চুপ করে দাড়িয়ে গেল এবং দেখল পিছন থেকে কি যেন একটা কালো লম্বা দেখতে জানোয়ারের মতো ঝোপ থেকে বেরিয়ে আসছে , তারা এই ভয়ংকর জানুয়ারটিকে দেখে জোরে চিৎকার দিলো , তাদের চিৎকার শুনে সেই বিমর্ষ চেহারার জানুয়ারটি অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়ল , সে হাসির সাথে সাথে এক এক করে ঝুপড়ির নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে আরো কিছু বীভৎস চেহারার জানোয়ার, দেখতেে কুকুরের মত কিন্তু হাত মানুষের হাতের মত।
সবগুলো বেরিয়ে এসে যেন তাদেরকে পুরো দিক থেকে ঘিরে ফেলল , তারা সজোরে চিৎকার করতে করতে সেখান থেকে ছিটকে বেরিয়ে প্রাণপণে দৌড়াতে লাগল কিছুদূর যেতেই , দেখতে পেল একটি গুহা, গোড়ার ভেতর থেকে কিছুটা আলো দেখা যাচ্ছে , তারা তাদের বন্দুক ফেলে দিয়ে তাড়াতাড়ি করে সেই গুহার ভিতরে ঢুকে পড়ল , ঢোকেই যা দেখতে পেল, একজন বৃদ্ধ হাতে তব্জি নিয়ে নির্দ্বিধায় তব্জি পড়ছে , আর তাদেরকে দেখে বলল ভয় পেয়ো না , চুপচাপ বসে দোআ পরতে থাকো, মনে হচ্ছে যেনো লোক টি সব কিছু জানে, কথাটা যেন তাদের গ্রাম্য ভাষায় বলল , তারা আর কোন চিন্তা না করে চুপচাপ সেই গুহার ভেতর বসে দোয়া পরতে থাকল, আর সেখানে বসে থেকে শোনা যাচ্ছিল সেই অবয়ব জানোয়ার গুলির অস্বাভাবিক গর্জন , তারা ভেতরে বসে দোয়া দরুদ পড়তে লাগলো পড়তে পড়তে তাদের ঘুম চলে আসছিল , সেই মুহূর্তেই বুড়ো লোকটি তাদের ধমক দিয়ে বলল দোয়া পড়, তখন তারা আবার দোয়া পড়তে শুরু করল , কিছুক্ষণ পর শোনা গেল ফজরের আযান , আযান শুনামাত্র লোকটি বলল তোরা এখন গুহা থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যা , পিছন দিকে তাকাবি না , একথা বলতেই তারা উঠে দাঁড়ালো ও বুড়ো লোকটি কে কিছু বলার আগেই , বুড়ো লোকটি তাদের ধমক দিয়ে বলল - যেভাবে বলেছি ঠিক সেভাবে এখান থেকে বেরিয়ে যা, আর এই কথা কাউকে বলবি না। তখন তারা ওঠে গুহা থেকে বেরিয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে আসলো।
পরদিন তাদের দুজনেরই খুব জ্বর , তারা তিন দিন পর সুস্থ হয়ে উঠলো এবং তাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করল , বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করল, কিরে সেদিন জঙ্গলে গিয়েছিলি কই পাখি তো স্বীকার করে আনতে পারলি না , তখন তারা এই সম্বন্ধে কিছুই বলেনি , কিন্তু কিছুদিন পর তারা আবার জঙ্গলে যায় , কয়জন কে সঙ্গে নিয়ে তাদের বন্দুক গুলি ফিরিয়ে আনতে , গিয়ে দেখে যেখানে তারা বন্দুকগুলো ফেলেছিল সেগুলো ঠিক জায়গাতেই আছে কিন্তু সেখানে কোন গুহা নেই , এটা দেখে তারা খুবই অবাক হয়ে গেল , এবং সেখান থেকে চলে আসছিল।
এই কথা সকলের কাছে গোপন রয়ে গেল , যে সেই রাতে কি ঘটেছিল তাদের সাথে , কিন্তু তারা যখন বুড়ো হয়ে গেল, মারা যাওয়ার আগে তারাই কাহিনী গ্রামের মানুষদের কাছে বলে গিয়েছে। এই ছিল আমার ভুত এফএম থেকে শোনা একটি সত্যিকারে ঘটনা যা পরে হয়তো আপনাদের কাছেও ভাল লাগবে।