ভালোবাসার গভীরতা
টানা ছয় মাস চ্যাট করে তার সাথে আমার দেখা কোনো এক পার্কের মধ্যে। মনের মধ্যে কতটা ভয় কাজ করছিলো এটা বলার মতো ভাষা নেই। যে আমি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলে অথবা ম্যাসেজ আসলে ব্লক করে দেয় , সেই আমি কিনা টানা ছয় মাস একটা অপরিচিত ছেলের সাথে চ্যাট করে তার ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে আজ দেখা করতে আসলাম। ভাবতেই কেমন জানি লাগছে।
সেদিন দেখা হওয়ার পর থেকে তার প্রতি আমার ভালোবাসা ও বিশ্বাস দ্বিগুন বেড়ে গেল। তারপর থেকে শুরু হল আমাদের অসাধারণ আরো কিছু মুহূর্ত। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই আমরা একে অপরের সাথে দেখা করি। এখানে সেখানে ঘুরতে যাই। এভাবে চলতে লাগল আমাদের প্রতিদিনের সময় , যদিও ভাবতে অবাক লাগে যে ছেলেটিকে আমি কখনো ভালবাসবো বলে চিন্তাই করে নি , সে আজকে আমার জীবনের একটি অংশ , আমার প্রত্যেকটা নিঃশ্বাসে প্রত্যেকটা সেকেন্ডে আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে স্মরণ করি। তাকে ছাড়া আমার একটা মুহূর্ত থাকা সম্ভব নয় অনেক ভালবেসে ফেলেছি তাকে।
হা ভালোবাসি , আমি আমার অজান্তে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি তাকে। তবে তার ভালোবাসা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। সে আমাকে এতটা ভালোবাসে যে দেখলে বুঝা যাবেনা কখনো। খুব শান্ত আর সাধারণ একটা মানুষ। সেদিনের পর থেকে শুরু হয় আমাদের ফোনে কথা বলা। একজন একজনকে ভালোবাসি বলা। আমাদের প্রেম যেন এখন অনেক গভীরে চলে গিয়েছে। এখন যেন একজনকে ছাড়া একজন থাকতে পারেনা। কিছুক্ষন সময় কথা না বলে পার হয়ে গেলে মনে হয় কত দিন হয়ে গেছে কথা বলি না। মনে হয় এরই নাম ভালোবাসা , এরই নাম প্রেম।
কিছুদিনের মধ্যে আবারো আমাদের দেখা। আবার সে আমার জন্য গিফট নিয়ে এসেছে। সেটা কি গিফট আর না বলি। ওর প্রতি আমার ভালোবাসা দিন দিন বাড়তে থাকে। আমি আরো বেশি ভালোবাসতে থাকি তাকে। মানুষ টা কেমন জানি অদ্ভুত রকমের। আমার কথা শুনে আমার দিকে তাকিয়ে আমার মনের কথা বলে দিতে পারে। আমার অনুভূতি গুলো সে বুঝতে পারে। ওর সাথে কাটানো প্রতিটা সময় প্রতিটা মুহুর্থ যেন আমার জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। স্মৃতির পাতায় লিখে রেখেছি আমি তোমার নাম। ভালোবাসা দিবো আমি তোমাকে অনন্ত কাল।
আমার সময়ে অসময়ের বন্ধু হয়ে গিয়েছো তুমি। আমার সমস্ত কিছু যেন ওর জন্য। সে আমাকে এতটা ভালোবাসে যে আমার সকল চাহিদা আমার অজান্তে পূরণ করে ফেলে। যদি আমার কোনো একটা সমস্যার কথা বলি তাহলে সে কি ভাবে যে সেই সমস্যা টা সমাধান করে আমি অবাক করে দেয় । যদি আমার কিছু প্রয়োজন হয় সে সেই জিনিসটা আমার জন্য নিয়ে আসবে। এদানিং তার সাথে আমার অনেক বেশি দেখা হচ্ছে। আর প্রতিবার দেখা করার সময় আমার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসবেই। আর দেখা করার কারণ টা হলো সে আমাকে এত সুন্দর করে বলে যে তার সাথে দেখা করতে , ওর বলার স্টাইল দেখে আমি আর না করে থাকতে পারিনা।
প্রতিটি সম্পর্কের মধ্যে একটি অটুট বিশ্বাস থাকার প্রয়োজন। সে বিশ্বাস আমরা একে অপরের মাঝখানে তৈরি করে নিয়েছিলাম। যার কারণে যে যাই বলুক না কেন আমরা কখনো পিছপা হব না বলে ওয়াদা করেছিলাম। আমি তার গার্লফ্রেন্ড হওয়া সত্ত্বেও আমি তার সকল কথা মেনে চলার চেষ্টা করতাম। কখনো বা এখানে এসো , কখনো বা ওখানে যাও , কখনো বা এমন কাপড় পড়ো, কখনো বা এর সাথে কথা বলো না, ওর সাথে কথা বলো না , হাজারো ধরনের নিষেধ আমি মেনে চলতাম। কেন জানি না তার প্রতি আমার অজানা একটা শ্রদ্ধা কাজ করতো।
ওর সাথে আমি অনেক রেস্টুরেন্ট অনেক পার্ক অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গাই গিয়েছি। ওর সাথে আমার হাজারো স্মৃতিময় সময় রয়ে গেছে। আমি যখন যাই হুকুম করতাম তখন সে তাই করতো। এখনো পর্যন্ত সবকিছু ভালো ভাবে চলছে। জানিনা পবর্তীতে কি অপেক্ষা করছে।
গল্পের শেষটা কি এভাবেই গভীর ভালোবাসা দিয়ে সমাপ্ত হবে। নাকি এখন একজন আরেকজনকে ছাড়া চলতে শিখে গিয়েছে সেটা জানার জন্য পরবর্তী পোস্ট পড়তে হবে।