ট্রেনেই যাচ্ছি কনফার্ম হওয়ার পর থেকেই বউ ফোন দিয়া খালি নসিওত দিয়েছে। ট্রেনে উঠার পর যদি দেখ সিট কেউ দখল করে আছে তাইলে খুব শান্ত গলায় বলবা যে এটা তোমার সীট তাইলেই সীট ছেড়ে দিবে। যদি না দেয়?? আবার ভালো করে বলবা রাগারাগি, চিল্লাচিল্লি করবা না।দরকার হইলে দাড়াইয়াই যাবা
ট্রেনে উঠেই দেখি আমার সীটে কেউ একজন বসে আছে। আপু এটা আমার সীট উঠুন। excuse me ভাইয়া আমার সীট টা তো ভাংগা তাই এখানে বসছি। আমি আবার ভালো করে বললাম কিন্তু তিনি আমার কথা রাখলেন না। ঘন্টাখানেক দাড়াইয়া যাত্রার পর বউয়ের ফোন গাড়ি ছাড়ছে? সীট পাইছো? হুম ছাড়ছে আর সীটে একটা মেয়ে বসে আছে। তারে ভালো কইরা বলছি দুইবার সীট ছাড়ে নাই। কি???? দুইডা থাপ্পর দিয়া উঠাইয়া দাও।
কোন এক গ্রামে আইসা ট্রেন থেমে আছে তো আছেই। কেন কেউ বলতে পারে না । এরই মাঝে সাদা পোষাকের সু পরা এক লোক চিপস বেচতেছে। জিগাইলাম কাকা ট্রেন থেমে আছে কেন? লোকটা বললো জানি না তো ভাই। তো আপনি কোন পোষ্টে আছেন? আমি ট্রেনের গার্ড। ট্রেন থেমে আছে এইটা জানেন না অথচ চিপস বেচতেছেন। লোকটার হাসি দেখে মনে হইলো মাত্রই ফরিদপুরের দৌলতিয়া থেকে করে বের হইছে। আহ! তার মনে কি সুখ!!
এত বড় জার্নিতে কেউ ভাড়া নিতে বা টিকেট চেক করতে আসলো না। দুইবার দুই গ্রুপ হিজলা আসলো টাকার জন্যে। সরকার ভাড়া তোলার জন্যে কি হিজলা নিয়োগ দিছে নাকি? দিলে সরকারকে সাধুবাদ জানাই। ভাড়া ১০/ ২০টাকা যাই দিই না কেন নিয়া যায়। বাসের কন্ডাকটরদের মত চিল্লায় না।
বগি পুরাটাই খালি, একটু পর পর সাদা পোষাকের লোকগুলো অজ্ঞাতনামা কিছু লোক ধরে নিয়ে এনে খালি সীটগুলোতে বসাইয়া দিচ্ছে। কত্ত ভালো এই সাদা লোকগুলো। আচ্ছা সীট যদি খালিই থাকে তাহলে কাউন্টারে গেলে টিকিট নাই বলে কেন?
এরই মাঝে খাবারের ঝুড়ি নিয়া আসছে যাচ্ছে ফেরিওয়ালারা। সিলেটি কলা সিলেটি আনারস সিলেটি কমলা সিলেটি আপেল সিলেটি নাসপাতি চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া বিক্রি করতেছে। জানালার পাশের দৃশ্যেগুলোর মত ফেরিওয়ালাদের কথা গুলোও আবাক না হয়ে পারা যায় না। আর চা ওয়ালা তো নিজের ক্ষেতের চা পাতা দিয়া বানানো চা খাওয়াচ্ছে।
বউয়ের ফোন!! কই আছো? জায়গার নাম জানি না। আরে আশেপাশে দোকানপাটে লেখা দেইখা বলো। ওহ! জামে মসজিদে আছি। আরে ধুর আর কিছু দেখো না?? দেখি তো, শুধু চা বাগান আর চা বাগান।