একটা কথা সাহস করে বলার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন মারাত্মক লেবেলের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। Political Vacuum বলা যায়।
আওয়ামী লীগ এখন নিজেও বুঝতে পেরেছে, খেলতে খেলতে বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে গেছে। পয়েন্ট অব নো রিটার্ণ। আওয়ামী লীগ এখন যা করছে, তার কোনো বিকল্প নাই। এভাবেই লাত্থি-ঘুতো মেরে যতদিন পার করা যায়।
বিএনপির একটা নিরীহ অহংবোধ আছে। 'জনপ্রিয়তা'। এই নিরামিশ জনপ্রিয়তার স্বভাব চরিত্রই হচ্ছে আগামী ঈদের পরে কিছু একটা দেখানো হবে। দলীয় প্রধানকে নগ্নভাবে অন্ধকার কারাগারে রেখেও তাদের অহংবোদের মোটেও ছন্দপতন হয় না। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে বেগম জিয়াকে জেলে রেখে সেই অহংবোধে উন্মাদ হয়ে সম্ভাব্য বিজয়ের ফানুস নিয়ে ইলেকশনে যাচ্ছে বিএনপি। আসলে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি নিয়ে আর স্বপ্ন দেখে না।
জামায়াতে ইসলামী। আমি আসলে জানি না, জামায়াত রাজনৈতিক দল নাকি দাওয়াহ অর্গানাইজেশন। আমার ভাবনায় এই দলটি দাওয়াহ আর রাজনীতির ঠিক মাঝখানে। রাজনীতি করতে গেলে দাওয়াহ চরিত্র টেনে ধরে আর দাওয়াহ করতে পারে না রাজনীতির ঠেলা খেয়ে। ৪/৫ বছর আগে জামায়াত বাংলাদেশের মানুষের সামনে বিপুল সম্ভাবনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। সত্যি এটাই, সাধারণ জনগণ জামায়াত নিয়েও হতাশ।
ঘটনা ঘটবে দুটো। তৃতীয় অপশনের চান্স নাই।
একঃ লাথি মেরে সকলকে পঙ্গু করে আওয়ামী লীগ গাদ্দাফি, সাদ্দাম হোসেনের মতো জগদ্দল পাথর হয়ে বসবে। সামনে দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না।
দুইঃ কোনো এক সাহসী নেতার আহবানে মানুষ মুক্তির নেশায় উন্মাদ হয়ে যাবে। দলমত নির্বিশেষে সকলে পরিবর্তনের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক শূন্যতা দখলের একটা বিরাট সম্ভাবনা ইসলামপন্থীদের হাতেই ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোয়ার্তুমি, প্রিজুডিশ অবস্থান আর একুশ শতকের হৃদয়ের হাহাকার বুঝতে ব্যর্থ হওয়া ইসলামপন্থীদের ঈমানের পরীক্ষা সম্ভবত চলতেই থাকবে।
উপরের কথাগুলো নিতান্তই আমার। অবশ্যই আমার মতো নস্যি নাগরিকের কথায় রাজনীতি চলে না। বুকের ভেতরে কোথায় যেন কীসের ব্যাথা লাগে। তাই মাঝেমাঝে কীপ্যাডে কী যেন এলোমেলো কথা টাইপ করে ফেলি।