সবার মাঝেই দেখা যায়, আশি বা নব্বইয়ের দশকের প্রেম, রোমান্স নিয়ে একরমক নস্টালজিয়ায় কাজ করে!
এখন আধুনিকা নারীরা দেখি শুধু চলনেই আধুনিক, বলনে না;
চিন্তায় আধুনিক, বৃত্তিতে না!
মনস্তাত্ত্বিকতার চর্চা নেই, শিল্পের সমাদর নেই, সংস্কৃতির ভব্যতা নেই।
এক অদ্ভুত মাকাল ফলে ভরে গেছে চারপাশ।
সেইসব দশকে যারা কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের মাঝে বিস্ময়কর শিল্প, রাজনীতি, সংস্কৃতির চর্চা ছিল।
একটা শান্তিপূর্ণ, অনাড়ম্বর, বিড়ম্বনাহীন, উচ্ছ্বল, পারস্পরিকতায় পুর্ণ একটা জীবন ছিলো!
সেই চিকন পেরে শাড়ি পরেই প্রেম, মিছিল, রাজনীতি সব করেছে!
নারী-স্বাধীনতা, সম-অধিকার, নারী জাগরনের নামে ফেমিনিজম না বুঝেই ফেমিনিস্ট ট্যাগ লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর এক অদ্ভুত প্রবণতায় পেয়ে বসেছে সবাইকে!
আমাদের কাছে সিগারেট খেতে পারলেই, মধ্য রাত্তিরে বাড়ি ফিরতে পারলেই, সংস্কৃতির তোয়াক্কা না করলেই আমরা জয়ী ধরে নিচ্ছি! (বলছিনা এগুলা খারাপ কিছু) কিন্তু এসব একান্তই ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া।
এগুলোকে জেনারেলাইজ করে আদর্শ বানিয়ে জাতি ধরে গুলিয়ে খাওয়ানোরতো কোনো প্রয়োজন নেই! এগুলো কোনোভাবেই নারী স্বাধীনতা, সম অধিকারের যুদ্ধের মাঝে আসে কীভাবে!
এমন না যে আমি শাড়ি-প্রেমী।
বরঞ্চ শাড়ি আমি ক'বার পরেছি কড়ে গুণে বলতে পারবো।
এর কোনোটা যদি আমার অনিচ্ছায় আমার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়, আমি কখনোই বরদাশত করতে পারবোনা।
তবে ভাবলে মাঝে মাঝে মনে হয়, শাড়িতে এক অদ্ভুত শক্তি আছে।
অনেকটা যুদ্ধের ঢালের মতন।
আঁচলের নিচের মমতা বা পাড়ে লুকায়িত ভালবাসা কিংবা জমিনে মিশে থাকা দৃঢ়তা...
সে যেটাই হোক, মনে হয় আটপৌরে, সুতির, চিকন পাড়ের শাড়ির যুগে ফিরে যেতে পারলে মন্দ হতোনা!
কল্পনা করার চেষ্টা করি... হাতে চামড়ার ঘড়ি পরে, চুলটাকে টেনে বেঁধে, একহারা শাড়ি পরে কাপড়ের ঝোলা কাঁধে ইউনিভার্সিটির মাঠে বসে ছাত্র রাজনীতির আলাপ করতে, চত্ত্বরে সমাবেশ করতে কেমন লাগতো!