দেয়ালের এপারে

Words
442
Reading
2 min
Listen
Play
3y

একবার অফিস ট্যুরে গেলাম।
নিজের গ্রুপের সাথে ব্যাপক প্ল্যান প্রোগ্রাম করে মহা আনন্দে রওনা দিলাম।
ওখানে যাবার পর আর কাউকে খুঁজে পাইনা। একেকজন একেকদিকে হাওয়া।
দোষ দেবার উপায় নেই, সবাই উপভোগ করতেই গেছে।
তাতেও আমার অসুবিধা ছিলোনা, আমিতো সবচেয়ে ভালো আরাম পাই নিজের সঙ্গতে।
অসুবিধা হলো যখন অফিসের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে সবাই সবার গ্রুপের সাথে আর আমি একা বেদিশার মত, বেখাপ্পা আর অকওয়ার্ড পাপেট হয়ে কোনো পাজলে আটকে যাবার চেষ্টা করতে হয়।

সবচেয়ে বিস্বাদ আর তিক্ত অনুভূতি হয়েছিলো ইয়াবড় ডাইনিং হলের ব্রেকফাস্ট ব্যুফে'তে কয়েকশ চেয়ার থাকার পরেও, একটা চেয়ার টেনে বসার জায়গা পাচ্ছিলাম না।
কারণ সব টেবিলেই সবাই বসে আছে সঙ্গী সাথী নিয়ে।
খাচ্ছে, গল্প করছে, হাসছে।
আশেপাশের ফাঁকা দু'একটা চেয়ারে যেয়ে বসতে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি হচ্ছিলো, কাবাবে জ্যান্ত হাড্ডির মত।
প্রায় অনেকক্ষণ প্লেট হাতে দাঁড়িয়ে, অনেক থিওরি আওড়ে ভাবলাম খাবার না খেয়েই বেরিয়ে যাই। কিন্তু অনেক ক্ষুধা লাগায় অবশেষে প্রচন্ড অস্বস্তি আর তিক্ততা গিলে প্রায় পরিচিত এক দলের সাইডে বসে পড়লাম।
ট্রিপের পুরো সময়টা এরকম ছোট ছোট হোঁচটেই কেটেছে।
আমার ধারণা ফিরে আসার পর আমার মাঝে একটা ছোট খাটো বিপ্লব হয়েছে। আমি লাইন টানতে শিখেছি। কিন্তু এখন আবার উপলব্ধি করলাম আমি আবার সব ভুলে সেই আগের জায়গায় রয়ে গেছি।

কিছু কিছু জায়গা থাকে যেখানে দল থাকাটা জরুরি, বান্ছ্বনীয়। আগেও এরকম দরকার হয়েছে কিন্তু এরকম অদ্ভুত অসহায়, আক্ষেপ, আর অন্যান্য আরো কি সব আবেগের মাখামাখি টের পাইনি কখনো কারণ একা পড়তে হয়নি।
অই স্মৃতিটা আমি আজীবন মনে রাখবো।

আমি "একলা চলো রে" তেই বিশ্বাসী ছিলাম, আছি। কিন্তু কিছু জায়গা আছে যেখানে আসলে একলা-চলো কাজে আসেনা।
সেসব জায়গায় যতই ইচ্ছে করুক যাওয়া হবেনা বা হয়না তাই।
আর আমি যেহেতু একান্ত অন্তর্মুখী মানুষ, আমার একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় গ্রুপ ফর্ম করতে পারিনা অন্তত কাজের জায়গায়তো একেবারেই না।

আমি মনে করি যাদের এই স্কিলটা আছে তারা খুবই দারুণ। এমন না যে এটা ছাড়া চলবেনা, কিন্তু কখনো কখনো কিছু ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকতে ইচ্ছে হলেও এই কারণে থাকা হবেনা ভেবে বেশ দিলে চোট লাগে।
মানুষ বহুবার বলে "অন্যের উপর নির্ভর করতে শেখো।" কিন্তু "নির্ভর করতে শেখার পর সে চলে গেলে যে ক্ষতিটা হয় সে দায়ভার কে নিবে?" প্রশ করলে এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনা।
বলে "আমাকে দেয়ালের ভেতরে আসতে দাও।"
ভেতরে আসার পরে যে ভেঙে চুরে মাড়িয়ে চলে যায়, যাবে, সে দায়ভার কে নেবে?
এসবেরও জবাব নেই।

আমার অনেক অনেক মানুষ, অনেক অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, অনেকে অনেক ভালবাসার আবেদন কিন্তু,
কোথাও একটা মানুষ নেই, যে বলবে,
মন খারাপ কেনো, এসো গান শুনি।
কষ্ট পেয়োনা, এসো ফানুস উড়াই।
আমার পাহাড় আজ অদৃশ্য থাক, তোমার টিলার গল্প শুনি।
রাগ কোরো না, এক কাপ চা খাও।

IMG_20240202_093942.jpg

পৃথিবীর সেইসব শুদ্ধ প্রাণীর দেয়া এইসব তিক্ত, বিনিদ্র রজনীর নিস্তারে আছে কেবল,
আমার তাকের বই,
চুলার চা,
জানালার ফাঁক গলে আসা রোদ,
গানের সুর,
৩/৬ ফুটের বিছানা,
দেয়ালের গায়ে ঝুলে থাকা পাতাবাহার...

কি এক অদ্ভুত বিষন্ন সুখ!

All the contents are mine untill mentioned otherwise.

দেয়ালের এপারে | Ecency