এবং এরই মাঝে শেষ হয়ে গেলো আমার বিশের শেষ দিনটি।
ভাবছিলাম, অনেক অদ্ভুত অপ্রত্যাশিত কিছু অনুভব করবো। কিন্তু বরাবরের মতোই, আড়ম্বরহীন ভাবেই কেটে গেলো।
না...আসলে যেতো।
আমার দীঘির জলের মতো শান্ত, নীরব, একলা আবহে হঠাৎ এক ঝড়ো হওয়া দমকা বাতাসে খানিকটা এলোমেলো করে না দিয়ে গেলে, আড়ম্বরহীন একটা ছুটির দিনের মতোই ২৯তম জন্মদিনটি কেটে যেত।
বাৎসল্যহীন বললে অনেকেই রাগ করতে পারে।
তাহলে কি বলা যায়... প্রাণের বন্ধুহীন?
আমার জন্মদিন আমার হয়ে কেউ পালন করবে, এতেইতো জন্মদিনের আবেদন আসলে, নইলে আর সে আনন্দ কিসে।
সেরকম বন্ধু আমি বানাতে পারিনি, ব্যর্থতা আমার বলে মহান সাজতে চাইনা আবার কাউকে দায়েও ফেলতে চাইনা।
সম্ভবত আমার পরিমিতি, পরিমার্জিত স্বরূপের ভেতরে কারো উঁকি দেবার প্রয়োজন পড়েনি, তাই আমারও গলায় গলা মিলিয়ে গেয়ে ওঠা হয়নি,
বন্ধু তোরা আছিস, থাকবি!
যখন আসলে বন্ধু বন্ধু খেলার বয়স, তখন আমি ছিলাম বান্ধবহীন।
তবে বন্ধু পেয়েছি বন্ধুত্বের আহ্লাদ ফুরিয়ে যাবার পর। ক্ষনিকের জন্য হলেও, পেয়েছি।
সে জন্য তা নিয়ে আমার আহ্লাদও যতটা হওয়া উচিৎ ততটা নয়। আজ একে, কাল ওকে, একেক বন্ধু, একেক স্তরে।
সবাইকেই তাই নিরাপদ দূরত্বে রেখেছি।
যেমন অমরচান বলে, এমনদিনে বাতিঘরে যাওয়া চাই, বিশাল বললো চলোনা ঘুরে আসি অজানাতে।
শৈলী বললো, আমি আসি বাসায়? অথবা চলো ঘুরে আসি কোথাও?
তড়িৎ জবাব দিলাম "না! আজ আমি কোথাও যাবোনা!"
কিন্তু আমি আমার সাফল্যমন্ডিত খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে সবার নিখাঁদ সুন্দর প্রচেষ্টাগুলোকে চাপা দিয়ে, ঘরের এক কোণায় সেঁদিয়ে রইলাম।
আমি কিন্তু এই সব আহ্লাদী মানুষদের প্রচেষ্টাকে বিন্দুমাত্র ছোটো করে দেখি না। আমি জানি আমার কি সৌভাগ্য এসব মানুষকে আমার এমন দিনে একটু রং ছড়াতে চাওয়াটা আমার কতবড় প্রাপ্তি।
কিন্তু মাঝে মাঝে আমি নির্দয় হই, নিজের স্বার্থে। যাতে এই মানুষগুলো যখন আস্তে আস্তে নিরাপদ দূরত্বে চলে যাবে, তখন যেন আমি হাসিমুখে মেনে নিতে পারি।
তাই অতটুকু কাছে রাখি, যতটুকুতে আমার অভ্যাস না হয়ে যায়।
আমার জন্মদিন বাৎসল্যহীন, নীরবতায় কাটানো আমার আজন্ম অভ্যাস। আমি বলবোনা আমার জন্মদিন পালন ভালোলাগেনা, কারণ যেই এটা বলুক, আসলে মিথ্যে বলে। তাই হঠাৎ হঠাৎ সেই অভ্যাসে এমন লোভনীয় কিছুর স্বাদ লেপ্টে থাক তা চাইনা।
কিন্তু, তবুও, প্রকৃতির গতি কি সবসময় আটকানো যায়?
প্রকৃতির গতি আর শৈলীর আহ্লাদ এ দুই যে অদম্য সেটা আজকে মেনে নিতে হলো।
আমি ভেবে রেখেছিলাম, দারোয়ান আমার কাছে কেউ এসেছে জানাতে ফোন করলে বলতে বলবো যে "আজ কেউ বাড়িতে নেই" বলতে।
কিন্তু বাড়ির দারোয়ানের কাছে শৈলী এখন পরিচিত মুখ। তাকে দেখলেই উনারা চিনে ফেলেন, ওদের বহুল পরিচিত "গুলশানের ম্যাডাম" (আমাকে ফোন করে তাই বলে! "ম্যাম, আপনার গুলশানের মেডাম আসছে! উপরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ")। ওর অবাধ যাতায়াতে তারা নাকি প্রথমে এইটাও ভেবেছে যে, এটা তারই বাসা!
সুতরাং প্রকৃতির গতির মতো শৈলী একেবারে সব বাঁধা ঠেলে দরজায় এসে দাঁড়ালো।
আগুনের ফুলঝুরির মোমবাতি নিভিয়ে আমার ইচ্ছেগুলিকে উড়িয়ে দিলাম স্বর্গদুয়ারে।
শৈলীর যত্ন আমি করতে পারবোনা জানি।
তবুও, আমার জীবনে শৈলীর অস্তিত্ব অম্লান থাক।
সবার জীবনে একটা করে শৈলী থাক।
All the contents are mine until mentioned otherwise.