মহাভারতের অস্তিত্ব এককালে থাকুক বা নাই থাকুক, আমার কাছে তার আকর্ষণ চিরায়ত। আপনি আমায় বোকা বলুন আর যাই বলুন, আমিও সত্যজিতের মত বলব “সব সত্যি! মহিশ্বাসুর সত্যি, হনুমান সত্যি, ক্যাপ্টেন স্পার্ক সত্যি, টারজান সত্যি!” সুতরাং আমার কাছেও কর্ণ সত্যি, যুধিষ্ঠির সত্যি, সত্যি হস্তিনাপুরের রাজসভা, সত্যি দ্রৌপদী তাণ্ডব।" হোক সে কৈশোরের ফ্যান্টাসিই কিংবা অলীক বিস্বাস, মহাভারত নিয়ে আমার ধারণা এই উপমহাদেশের সবার কৌতূহলই মাত্রাতিরিক্ত অতিরঞ্জিত।
মিশরীয় বা গ্রীক কিংবা নর্স মিথোলোজির চেয়েও মহাভারতের বর্ণাঢ্য পটভূমি, রঙচঙে বিষয়বস্তু, নানাবিধ চরিত্রের সমাহার, তাদের ব্যপ্তি, বেড়ে ও গড়া ওঠার প্রতি আমার উৎসাহ অপরিসীম। প্রাচীন বাংলার মুঘল সাম্রাজ্য আর মহাভারত; এই দুই স্বতন্ত্র সময়কালের প্রতি আমার কৌতূহল আরর আকর্ষণ একেবারে চিরায়ত।
ব্যাসদেব মহাভারতের যে পুরাণ রচনা করে গেছেন, তা যেন যথেষ্ট না। বরাবরই মনে হতো, সবগুলা চরিত্রর আর বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলার দরকার ছিল, তাদের গঠনে আরো সময় দেয়া দরকার ছিল।
পরবর্তী যুগে এসে কেবল সবাই ব্যাসদেবের সংস্কৃত ভাষায় রচিত এই গ্রন্থকে কেন্দ্র করেই তাদের অনুবাদ বা রূপান্তর করে গেছেন
তবে এখন অব্দি
মহাভারত একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ এ ব্যাপারে দ্বিমতের অবকাশ নেই। যদিও মহাভারতের প্রধান আকর্ষণ হস্তিনাপুরের দুই জ্ঞাতিগোষ্ঠী কৌরব আর পাণ্ডবদের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বলইে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে এই যুদ্ধের পরিব্যপ্তি, বিস্তার বা সময়কাল নিয়ে অনেক মতভেদ এসেছে পরে।
যাহোক, তো মহাভারতের চরিত্রগুলোকে কেউ আলাদা করে বিশ্লেষণ করেছে সেটা এ যাবতকালে দেখিনি। এই প্রথম বাংলাদেশের নবীন লেখক মাহমু্দুর রহমান এ চমৎকার কাজটা করেছেন।
মাহমুদের উঠতি সেলিব্রিটি না হলেও ওর প্রথম বই মোঘলনামার ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় পাঠক সমজে। তারপর মাহমুদ আর থেমে নেই। আর তার আরেকটি অভাবনীয় কাজ হচ্ছে মহাভারতের কর্ণ, দ্রৌপদী আর শকুনিকে নিয়ে আলাদা করে তার ভঙ্গিতে লেখা বই।
সে আলোচোনা হবে পরবর্তীতে।
মাহমুদের কথায় মনে পড়লো, আবৃত্তিও করে খুব সুন্দর। আবার শায়্যরীও। একদা ওর শায়্যরী শোনা হতো।
কিন্তু ওর সাথে কোনোভাবেই আমার সাক্ষাৎ হয়ে ওঠেনা। এমনও হয়েছে যে কতবার এক পথে দুজনেই ঘুরে এসেছি তবুও দেখা হয়না। আমাকে বলেছিলো "অষ্টাদশী, সুরাবর্দীতে আর আমি যাবোনা! তা কি হয়!" কিন্তু সেই অষ্টাদশীর প্রেমিকের দেখা আজও মিললোনা!