সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর সামান্য চেষ্ঠা। || Support Humanity ||
সময়ের পরিবর্তনে আরেকটা ঈদ আমাদের সামনে। ঈদকে ঘিরে সকলের রয়েছে হাজারো স্বপ্ন আর আশা। ভালো ভালো খাবার খাওয়া, ঘুরতে বের হওয়া, সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই সুযোগটা কি সকলের হয়? না!
ঈদের আনন্দটা সবার জন্য নয়। কেননা এদেশে হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়েছে যারা দুবেলা খাবারই ঠিকমতো খেতে পারেনা৷ হাজারো শিশু রয়েছে যাদের পরিবার বলতে কেউ নেই! আবার থাকলেও তারা সন্তানের চাওয়া গুলো পূরন করতে অক্ষম। এই মানুষগুলোর কাছে ঈদের আনন্দের চাইতে কষ্টটাই হয়তো বেশি, চারদিকের সাজসজ্জা তাদের না পাওয়ার কষ্টটাকে বাড়িয়ে দেয়।
ছোটবেলা থেকেই এইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য খুব মায়া কাজ করতো আমার। তাই স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে যদি কখনো সুযোগ হয় এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবো। মানবতার ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত ফিরোজ ভাইকে দেখে আরো বেশি অনুপ্রানিত হই আমি। তারপর গ্রামের কয়েকজন কাছের বন্ধুদেরকে নিয়ে শুরু হয়ে “ সহযোগীতার হাত " নামক ছোট্ট একটি সংস্থার পথচলা। প্রতিটি ঈদে আমরা চেষ্টা করি গ্রামের অসহায় ও অঅভাবগ্রস্থ মানুষদের পাশে ঈদ সামগ্রী নিয়ে দাড়াতে। আলহামদুলিল্লাহ অনেকদিন ধরেই আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার আমাদের পরিকল্পনা কয়েকজন এতিম শিশুকে ঈদের জামা কিনে দেওয়া। পরিক্ষা শেষ করে সবার আগে বাড়িতে চলে আসায় দায়িত্বটা পরে আমার উপর। তাই বাড়িতে আশার পর থেকেই কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশুর খুজে ছিলাম আমি।
ব্যাংকে যাচ্ছিলাম একটু কাজে, সেই সুবাধে রাস্তায় দুটো সুবিধাবঞ্চিত শিশু সাথে দেখা আমার। আমার কাছে পাচটা টাকা চাচ্ছিলো ঈদের জামা কিনবে বলে। ছেলে দুটোকে দেখে খুব মায়া লাগছিলো। তাই ওদের পরিচয় জানার চেষ্টা করি। পরে জানলাম ওদের মা নেই, বাবাও ওদের সাথে থাকে না। দাদির সাথে একটি বাসায় ভাড়া থাকে। দাদি অন্যদের বাসায় কাজ করে ওদেরকে একটি এতিমখানায় পরায়। তাই ওদেরকে নিয়ে চললাম ঈদের জামা কিনে দিবো বলে।
ওদের এই কথায় খুব মায়া লাগলো। প্রতিবার ঈদের কতো আদর যত্ন করে নতুন জামা-কাপড় কিনে দেয় আমাদের বাবা -মা। কিন্তু ওদেরকে কিনে দেওয়ার মতো তো কেউ নেই।
ব্যাংকে কাজটা সেরে ওদের নিয়ে গেলাম মার্কেটে। সেখান থেকে প্রথমে ওদের পছন্দ মতো প্যান্ট শার্ট কিনে এবার পালা ওদের আবদার জুতা কিনার। নতুন জামা কাপড় আর জুতা পেয়ে ছেলেদুটোর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। এবার ওদের প্রশ্ন, “ ভাইয়া আপনার জন্য কিনবেন না? "
শেষদিকে ওদেরকে আইসক্রিম খাইয়ে সাথে কিছু টাকা দিয়ে বাসায় চলে যেতে বলি। বহু আনন্দে ছেলেদুটো আমাকে বিদায় জানিয়ে চলতে শুরু করে বাড়ির উদ্দেশ্যে।
ওদের মুখে হাসি ফুটাতে পেরে খুব ভালো লাগছিলো আমার। ভবিষ্যতে এমন হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে চাই আমরা। আপনারাও আপনাদের আশেপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ঈদগুলোকে পূর্ণতা দিবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।