সময়ের পরিবর্তনে পরিবর্তন আসে জীবনেও। পরিবর্তনগুলোর ফলে তৈরি হয় নতুন নতুন পরিস্থিতি। সবচাইতে অলস ছেলেটাও একটা সময় হয়ে উঠে সবচাইতে দায়িত্ববান। জীবন কখন যে কাকে কোথায় পৌছে দেয় তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
আজ বহুদিন পর লিখতে বসা। কিছুদিন হলো শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিতে যোগদান করেছি। নতুন চাকরী, নতুন পরিবেশ এবং নতুন সকল মানুষ। নিজ দায়িত্ব বুঝে নেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতেই কেটে যায় এক সপ্তাহ। তার উপর প্রথম কয়েকদিন আশুলিয়া টু টঙ্গী যাতায়াত করাটা ছিলো সবচাইতে প্যারাদায়ক।
ফলে চাকরীর সুবিধার্থে ইন্ডাস্ট্রির কাছেই বাসা ভাড়া নেই কয়েকজন কলিগ মিলে। তারপর সকল ব্যাগপত্র গুছিয়ে চিরচেনা ক্যাম্পাসটাকে বিদায় জানিয়ে চলে আসি নতুন গন্তব্যে। বিদায় কঠিন হলেও মানতে তো হবেই!
চাকরীতে যোগদানের পরে জীবনে পরিবর্তন এসেছে ব্যাপক। আগের মতো প্রতিদিন রোজ সকালে দশটা/ এগারোটা পর্যন্ত ঘুমানো হয়ে উঠেনা। এই আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কখনো সকাল ৯ টার আগে ঘুম থেকেই উঠতাম না। কিন্তু এখন? প্রতিদিন সকাল সাতটায় ঘুম থেকে ওঠে চাকরীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় ব্যস্ত। প্রথম কয়েকদিন তো ভোর পাচটায় উঠেই আশুলিয়া থেকে টঙ্গির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া লাগতো।
চাকরি জীবনে এসে আমি সবচাইতে বেশি মিস করি বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়টাকে। সবাই মিলে কতো আড্ডা দিয়েছি একসাথে। দেশের একপ্রান্ত থেকে ও আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছি। ইচ্ছে হলেই সবাই মিলে একসাথে হাটতে বেড়িয়ে পরেছি। আরো কতো কি! এখন যেনো পুরো একা হয়ে গিয়েছি। সারাদিন অফিস করে এসে রোমের একটা কর্নারে বিছানাটাই আমার একমাত্র আপনজন।
জানি সময়ের সময়ের পরিবর্তনে জীবনেও আসবে আরো বহু পরিবর্তন। বন্ধুরাও সবাই ব্যস্ত হয়ে যাবে নিজের জীবন নিয়ে। তবে কি জীবনের ভালো সময়টাকে হারিয়ে ফেললাম!!!