প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমন । (DAY-1)

Words
478
Reading
3 min
Listen
Play
5y

IMG_20220308_215226.jpg

“ভ্রমন মানুষকে বিনয়ী করে তুলে,
আর এই ভ্রমনের মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে পৃথিবীর তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র! ”

জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত, আর এই সংক্ষিপ্ত জীবনটাকে উপভোগ করাই আমার লক্ষ্য। ছোটবেলা থেকেই ঘুরাঘুরি করতে আমার অনেক ভালো লাগে । কিন্তু ছোটবেলার অনেক সীমাবদ্ধতার জন্য দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়ে উঠেনি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সেই সুযোগটা বহুগুণে বেড়ে গেছে। এখন ইচ্ছে হলেই আমি বন্ধুদের নিয়ে বেড়িয়ে পরতে পারি নতুন কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আমার ইচ্ছা বাংলাদেশর সবগুলো পর্যটনকেন্দ্র আমি একে একে ঘুরে দেখবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে মোটামুটি অনেকগুলো যায়গাতেই ঘুরার সুযোগ হয়েছে আমার।

প্রতিবারের মতো এবারো পরীক্ষা শেষে নতুন কোন গন্তব্যের খোঁজে ছিলাম আমরা। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর বান্দরবান আর সেন্টমার্টিন ঘুরার প্রস্তাব আসে সবার কাছ থেকে। এবার আমাদের দুই পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে একটাকে বেছে নেওয়ার পালা। পাহাড়ের তুলনায় সমুদ্রের প্রতি আমাদের আকর্ষণ টা একটু বেশি। তাই দুইটার জায়গার মধ্য থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকেই বেছে নেই।

সেন্টমার্টিন, বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থানের তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে সেন্টমার্টিনের নাম। নারিকেল জিঞ্জিরা খ্যাত এই দ্বীপটি কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেন্টমার্টিনের অসীম নীল আকাশের সাথে সমুদ্রের নীল জলের মিতালী, সারি সারি নারিকেল গাছ আর অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য যে কারো মনকেই কেড়ে নিবে।

IMG_20220308_112526.jpg

IMG_20220308_215312.jpg

IMG_20220308_215254.jpg

এবারের ভ্রমনে আমার ভ্রমণ সঙ্গী বন্ধু সৌরভ, নোবেল, তাজিউল, ইমাম, বিকাশ ও অপূর্ব। পরিকল্পনামতো ৭ তারিখ পরীক্ষা শেষ করেই আমরা ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে পরি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে। ভ্রমনের সুবিধার্তে আগে থেকেই সেন্টমার্টিন পরিবহন নামে এসি বাসের টিকিট কেটে রাখি আমরা। ঢাকার গাবতলী থেকে আমাদের বাস ছেড়ে যাবে সন্ধ্যা ৭ টায়। তাই আমরা সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যেই বাস কাউন্টারে এসে পড়ি। যথাসময়ে আমাদের বাস ছেড়ে দেয় টেকনাফের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সকাল ৭ টার মধ্যে আমাদের টেকনাফে পৌছানোর কথা থাকলেও জ্যামের কারনে আমাদের পৌছাতে পৌছাতে সকাল নয়টা বেজে যায়। বাস থেকে নেমেই কোনরকমে নাস্তা সেরেই লঞ্চে উঠে পড়ি আমরা। নীল পানির সাগরের বুকে তিন ঘন্টার অধিক সময় ভাসতে ভাসতে দুপুর একটার দিকে আমরা পৌছে যাই সেন্টমার্টিন দ্বীপে।

IMG_20220308_092012.jpg

সেন্টমার্টিনে এসেই আমাদের প্রথম কাজ ছিলো হোটেল রুম বুকিং করা। আমাদের পরিকল্পনা, আমরা এখানে দুই রাত থাকবো। হোটেল বুকিং করে, ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া শেষ করেই আমরা বেরিয়ে পরি সমুদ্রে গোসল করার উদ্দেশ্যে। নীল স্বচ্ছ পানিতে বন্ধুরা মিলে প্রায় ২ ঘন্টা গোসল করার পর হোটেলে ফিরে আসি সবাই।

IMG_20220308_174703.jpg

আমাদের বিকেলের প্লান ছিলো সূর্যাস্ত দেখা। তাই সবাই একটি করে সাইকেল ভাড়া নিয়ে আবারো বেড়িয়ে পড়ি সূর্যাস্ত দেখার উদ্দেশ্যে। বিকেলে সময়টা উপভোগ করার পাশাপাশি সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সন্ধ্যায় সমুদ্রের তীরে বন্ধুরা মিলে কিছুক্ষন আড্ডা দেওয়ার পর আমরা ব্যাস্ত হয়ে পরি সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার উদ্দেশ্যে। সমুদ্রের তীরে এসেছি আর সামুদ্রিক মাছ খাবো না! এটা কিভাবে হয়।

IMG_20220308_220953.jpg

IMG_20220308_215359.jpg

IMG_20220308_215342.jpg

IMG_20220308_184044.jpg

প্রথম দিনের সকল পরিকল্পনা শেষে এখন আমরা সবাই হোটেল রোমে বিশ্রাম নেওয়ায় ব্যস্ত। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে নিজেকে পূনরায় রিচার্জ করতে এখন আমাদের সবচাইতে বেশি প্রয়োজন একটা ভালো ঘুমের। কালকের দিনের পরিকল্পনাগুলোকে পূর্ণতা দিতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজেকে সতেজ রাখা।

ইনশাল্লাহ কাল আবারো হাজির হবো সেন্টমার্টিন দ্বীপে আমাদের দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতাগুলোকে নিয়ে।সেপর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ 😊

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমন । (DAY-1) | Ecency