পবিত্র মাহে-রমজানের দিনগুলো আজ শেষের পথে। কিছুদিন পরই সকলের মাঝে খুশি নিয়ে হাজির হবে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর।
ফিতর শব্দের অর্থ ‘ভাঙ্গা' আর ঈদ শব্দের অর্থ ‘আনন্দ'। দীর্ঘ একমার পর রোজা ভেজ্ঞে সবাই মিলে উদযাপন করার নামই ঈদ৷ মুসলিম ধর্মালম্বীদের সবচাইতে বড়ো দুটি উদযাপনের মধ্যে এটি একটি। আর এই দিনে পরিবারের থেকে দূরে থাকা কি শোভা পায় ? কোনভাবেই না!
তাইতো ঈদ উপলক্ষে সকল ব্যস্ততাকে ফেলে মানুষ ফিরে আসে পরিবারের টানে, আপন মানুষগুলোর কাছে। প্রতি বছরই দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ শত শত ভোগান্তি পেরিয়ে শহর ছাড়ে পরিবারের সাথে ঈদ করবে বলে। কোন কষ্ট আর ভোগান্তিই এই আনন্দের ঊর্ধ্বে নয়।
আমিও এই মানুষগুলো থেকে ব্যতিক্রম নই। দীর্ঘদিন পর ঈদকে ঘিরে বাড়ি ফিরার পরিকল্পনা। পায় চারমাস বাড়িতে যাওয়া হয়ে উঠেনি। এর আগে কখনও এতোটা সময় বাড়ির বাইরে থাকা হয়নি। তাই নিজের মধ্যে অনেক উৎসাহ কাজ করছিলো।
কোনরকমে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় । আধাঘন্টার মধ্যেই সবকিছু গুছিয়ে জন্মস্থান কুমিল্লার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরি। কোনরকমে দৌড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে রওনা হই ঢাকা শহরের উদ্দেশ্য। কিন্তু ঢাকা শহরের তীব্র যানজট যেন চাইছিলো না আমি বাড়ি যাই। একঘন্টার রাস্তা চার ঘন্টাও শেষ হচ্ছিলো না। এ যেনো ‘শেষ হয়েও হইলো না শেষ'। কি আর করার, তীব্র গরমে বাস থেকে নেমে হেটেই রওনা হই।
প্রায় একঘন্টা হেটে বর্তমানে বহুল আলোচিত নিউ মার্কেটে পৌছে নিজের জন্য এবং পাশাপাশি পরিবারের সকলের জন্য কিছু কেনাকাটা সেরে ফেলি। নিজের সামান্য উপার্জন দিয়ে পরিবারের জন্য কিছু কেনার অনুভূতি সত্যিই ভাষার প্রকাশ করার মতো নয়। নিজের মধ্যে অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করছিলো।
কেনাকাটা সেরে গুলিস্তান পৌছাতে পৌছাতে ইফতারের সময় হয়ে যায়। কোনরকমে ইফতার শেষে আবারো বাড়ির পথে রওনা হই। সবশেষে দীর্ঘ আট ঘন্টা জার্নির পর আমি পৌছে যাই গন্তব্যে।
পরিবারের সবাই আমার অপেক্ষায় ছিলো৷ নতুন জামাকাপড় পেয়ে ছোট ভাই-বোনদের খুশির তো কোন কমতিই ছিলোনা। সামান্য এই উপহারে তারা আজ মহাখুশি। আমিও খুশি পরিবারের মাঝে ফিরতে পেরে। পরিবারের সাথে ঈদ করার থেকে ভালো কিছু আর হতে পারেনা!